ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মামলার রায় আগামী সপ্তাহে

জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ; পলাতক সাত আসামির মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ২৯ জন

জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির সাত নেতা ও সাবেক ছাত্র-যুব সংগঠনের নেতার বিরুদ্ধে করা মামলার রায় আগামী সপ্তাহে ঘোষণা হতে পারে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

আগামী সপ্তাহের যেকোনো দিন রায়

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলাটিতে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

তিনি বলেন, “আগামী সপ্তাহে রায়ের জন্য যেকোনো দিন থাকতে পারে। প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। আগামী সপ্তাহের যেকোনো দিন এটি রায়ের জন্য থাকবে বলে আমরা আশা করছি।”

তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রায় ঘোষণার নির্দিষ্ট দিন জানানো হয়নি।

ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজন আসামি

মামলার প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

অন্য ছয় আসামি হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক। তাদের অনুপস্থিতিতেই মামলার বিচার কার্যক্রম এগিয়েছে।

১৭ আগস্ট রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ

গত ১৭ আগস্ট মামলাটিতে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়।

এরপর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।

এর ফলে আদালত সুবিধাজনক সময়ে রায়ের তারিখ নির্ধারণ করতে পারেন। চিফ প্রসিকিউটরের সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, সেই রায় আগামী সপ্তাহেই আসতে পারে।

রাষ্ট্রপক্ষে ২৯ জনের সাক্ষ্য

মামলাটিতে গত ২ আগস্ট সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রসিকিউশন এবং পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা নিজ নিজ যুক্তি উপস্থাপন করেন।

এরপর ১৭ আগস্ট উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হলে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।

জানুয়ারিতে অভিযোগ গঠন

এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনায় আসামিরা মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন।

spot_img
spot_img

অধিক পঠিত

Related Articles