শনিবার যে জিম্মিরা মুক্তি পাবেন তাদের নাম প্রকাশ করলো হামাস

জঙ্গি গোষ্ঠী হামাস পরবর্তী তিন জিম্মির পরিচয় শনিবার প্রকাশ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে । ইসরায়েল এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ১৫ মাস ধরে চলতে থাকা লড়াইয়ের অস্ত্রবিরতির অধীনে এটি হবে উভয় পক্ষের মধ্যে চতুর্থ দফার বন্দি বিনিময়।

জিম্মিদের মধ্যে রয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী ইয়ার্ডেন বিবাস। তাকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের সন্ত্রাসী হামলার সময় তার স্ত্রী শিরি এবং ছোট দুই ছেলে এরিয়েল ও কাফিরের সাথে বন্দি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তার পরিবারের ভাগ্য অনিশ্চিত।

এছাড়াও মুক্তি পাবেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলর দ্বৈত নাগরিক কিথ সিগেল (৬৫)। তিনি নর্থ ক্যারোলাইনার চ্যাপেল হিলের বাসিন্দা। তাকে তার স্ত্রী আভিভা সিগেলসহ কিব্বুটজ কাফার আজা থেকে জিম্মি করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের নভেম্বরে সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতির সময় আভিভা সিগেলকে মুক্তি দেয়া হয়।

তৃতীয় জিম্মি হলেন ওফার কালদেরন (৫৪)। তিনি একজন ফরাসি-ইসরায়েলি জিম্মি। তাকে কিব্বুটজ নীর ওজ থেকে জঙ্গিরা তার দুই সন্তানসহ আটক করেছিল। তার সাবেক স্ত্রী হাদাসকেও বন্দী করা হয়। ২০২৩ সালে জিম্মি বিনিময়ের সময় দুই শিশু ও হাদাস কালদেরনকে মুক্তি দেয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলো হামাসকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

বৃহস্পতিবার তিনজন ইসরায়েলি ও পাঁচজন থাই নাগরিকসহ আটজন জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। পরে ইসরায়েল ১১০ জন ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দেয়। তাদের মধ্যে ৩২ জন ইসরায়েলিদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছিল।

শুক্রবার জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) গাজায় মানবিক ত্রাণ সরবরাহের প্রচেষ্টার হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরে। গাজার কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যান্টোইন রেনার্ড সাংবাদিকদের বলেন, ১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতি চুক্তি শুরু হওয়ার পর থেকে সংস্থাটি গাজায় ৩২ হাজার মেট্রিক টনের বেশি খাবার সরবরাহ করেছে।

এ দিকে শুক্রবার লেবানন সফরের সময়ে, মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাদর আব্দেলাতি লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইসরায়েলি সৈন্যদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আওনের সঙ্গে আলোচনার পর, আব্দেলাতি সংবাদদাতাদের বলেন, “লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভূমির এক ইঞ্চিও দখল না নিয়ে দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইসরায়েলিদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে মিশর খুবই আগ্রহ”।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২৭ নভেম্বর ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবানন থেকে সরে যাবে এবং ২৬ জানুয়ারির মধ্যে লিটানি নদীর উত্তরে সরে যাবে জঙ্গি গোষ্ঠী হেজবুল্লাহ।

নির্ধারিত সময়ের পরও ১২টির বেশি গ্রামে থেকে গেছে ইসরায়েলি বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্র ও লেবানন রবিবার যুদ্ধবিরতির শর্ত পূরণের সময়সীমা ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে।

এই প্রতিবেদনের কিছু তথ্য এপি, এএফপি এবং রয়টার্স থেকে নেয়া হয়েছে।

–ভয়েজ অব আমেরিকা

spot_img
spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles