‘যেখানেই চাঁদাবাজি, সেখানেই বাঁশের লাঠি দিয়ে লড়াই হবে’

ঢাকা-১২ আসনে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধের দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ; দেশজুড়ে কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা রেজাউল করিমের

রাজধানীর ঢাকা-১২ আসনের যেখানেই চাঁদাবাজি হবে, সেখানেই বাঁশের লাঠি দিয়ে লড়াই করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকালে রাজধানীর বাংলামোটরে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বন্ধ এবং মাদকমুক্ত নিরাপদ ঢাকা-১২ আসন গড়ার দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

রেজাউল করিম বলেন, ‘ঢাকা-১২ আসনের যেখানেই চাঁদাবাজি চলবে, সেখানেই বাঁশের লাঠি দিয়ে লড়াই হবে।’ এ কর্মসূচি সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

সরকারের সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, সার, বিদ্যুৎসহ জনগণের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

রাড্ডা স্বাস্থ্য ক্লিনিক ভাঙচুরের বিচার দাবি

মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুরের প্রসঙ্গও উঠে আসে রেজাউল করিমের বক্তব্যে। তিনি বলেন, ওই ঘটনায় জড়িতদের শুধু পদত্যাগ করালেই হবে না, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।

একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, রাড্ডার ঘটনা আড়াল করতে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে।

‘কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেব না’

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এই বিক্ষোভ সমাবেশ চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে। আমরা আর কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেব না।’

চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা গ্রেপ্তার হচ্ছে না, অথচ মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের মতো নিরপরাধ ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

বাংলামোটরে কয়েকজনকে মারধরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। তাহলে তাদের কেন মারধর করা হয়েছে, তার জবাব চান তিনি।

বাংলাদেশকে চাঁদাবাজমুক্ত না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন জামায়াতের এই সংসদ সদস্য।

বাংলামোটর থেকে মগবাজার পর্যন্ত মিছিল

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের হাতিরঝিল অঞ্চলের উদ্যোগে সোমবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে বাংলামোটর মোড়ে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বিক্ষোভ মিছিলটি মগবাজার চৌরাস্তায় গিয়ে শেষ হয়।

ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার ও গণমাধ্যম সম্পাদক আতাউর রহমান সরকারের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের বিভিন্ন নেতা-কর্মী অংশ নেন।

spot_img
spot_img

অধিক পঠিত

Related Articles