জয়ের খুব কাছে গিয়েও শেষ মুহূর্তের ভুলে আইওয়া হকআইসের কাছে ২০-১৯ ব্যবধানে হেরেছে মিশিগান উলভারিনস। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে জিক বেরির অপ্রয়োজনীয় ফাউল আইওয়াকে নতুন জীবন দেয়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শেষ খেলায় টাচডাউন করে নাটকীয় জয় তুলে নেয় আইওয়া।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মিশিগান স্টেডিয়ামে এই হারের পর চলতি মৌসুমে মিশিগানের জয়-হারের রেকর্ড দাঁড়িয়েছে ৩-১। ম্যাচজুড়ে বেশ কিছু ভালো মুহূর্ত তৈরি করলেও বারবার পেনাল্টি ও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ভুলের খেসারত দিতে হয়েছে দলটিকে।
শেষ ১৯ সেকেন্ডে সর্বনাশ
মিশিগান তখন ১৯-১৪ ব্যবধানে এগিয়ে। নিজেদের ৪০ গজ থেকে তৃতীয় ডাউনে ১২ গজ প্রয়োজন ছিল আইওয়ার। কোয়ার্টারব্যাক হ্যাঙ্ক ব্রাউনের পাস অসম্পূর্ণ হওয়ায় চতুর্থ ডাউনের মুখে পড়ার কথা ছিল দলটির।
কিন্তু বল খেলার বাইরে চলে যাওয়ার পর আইওয়ার রিসিভার টনি দিয়াজকে ধাক্কা দেন মিশিগানের অভিজ্ঞ ডিফেন্সিভ ব্যাক জিক বেরি। অপ্রয়োজনীয় রাফনেসের জন্য পেনাল্টি পায় মিশিগান।
ফলে চতুর্থ ডাউনের পরিবর্তে নতুন করে প্রথম ডাউন পেয়ে যায় আইওয়া এবং বল চলে আসে মিশিগানের ৪৫ গজে। তখন ঘড়িতে বাকি মাত্র ১৯ সেকেন্ড।
এর চারটি খেলা পর হ্যাঙ্ক ব্রাউন ১৬ গজের টাচডাউন পাস দেন রিস ভ্যান্ডার জিকে। সময় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই টাচডাউনেই ২০-১৯ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে আইওয়া।
চার ম্যাচে ৩২ পেনাল্টি
পেনাল্টি চলতি মৌসুমে মিশিগানের বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। প্রথম চার ম্যাচে দলটি ৩২টি পেনাল্টি করেছে। এতে তাদের হারাতে হয়েছে মোট ২৮৯ গজ।
প্রতি ম্যাচে গড়ে ৭২ দশমিক ৩ গজ পেনাল্টির কারণে হারাচ্ছে মিশিগান।
আইওয়ার বিপক্ষেই আটটি পেনাল্টিতে ৭৫ গজ হারিয়েছে তারা। শেষ মুহূর্তে বেরির পেনাল্টিই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।
ম্যাচের পর মিশিগান সমর্থকদের প্রতিক্রিয়ায়ও বারবার উঠে এসেছে এসব ভুলের কথা। কেউ দলের ভুলকেই হারের জন্য দায়ী করেছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন কোচিং নিয়েও।
ভালো খেলেও আক্ষেপ আন্ডারউডের
কোয়ার্টারব্যাক ব্রাইস আন্ডারউডের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ছিল উজ্জ্বল। ২৮টি পাসের প্রচেষ্টার মধ্যে ১৭টি সফল করে তিনি ২৭৬ গজ অর্জন করেন এবং দুটি টাচডাউন পাস দেন।
তবে তৃতীয় কোয়ার্টারে আইওয়ার দুই গজের লাইনের কাছে তাঁর ছোড়া একটি পাস প্রতিপক্ষ ধরে ফেলে। নিশ্চিত পয়েন্ট পাওয়ার সম্ভাবনা নষ্ট হয় মিশিগানের।
আরেকবার আইওয়ার ১৮ গজে চতুর্থ ডাউনে এক গজ প্রয়োজন থাকা অবস্থায় ফিল্ড গোল না নিয়ে আক্রমণ চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় মিশিগান। সেই প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়। তিন পয়েন্ট নেওয়া হলে শেষ মুহূর্তে ম্যাচের সমীকরণ ভিন্ন হতে পারত।
বুকানানের ১৩০ গজ, দুটি টাচডাউন
পরাজয়ের মধ্যেও মিশিগানের আক্রমণভাগে নজর কেড়েছেন জেজে বুকানান। পাঁচটি পাস ধরে তিনি ১৩০ গজ অর্জন করেন এবং দুটি টাচডাউন করেন।
অ্যান্ড্রু মার্শ সাতটি পাস ধরে যোগ করেন ১০৬ গজ।
মিশিগান আকাশপথে ২৭৬ এবং দৌড়ে ১৫৩ গজ এগিয়েছে। প্রতিপক্ষের রেড জোনেও চারবার প্রবেশ করেছে তারা। কিন্তু সুযোগগুলোকে পর্যাপ্ত পয়েন্টে রূপ দিতে না পারাই শেষ পর্যন্ত বড় হয়ে ওঠে।
বিশেষ দলেও ভুল
শুধু আক্রমণ ও রক্ষণ নয়, বিশেষ দলের ভুলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিশিগান। প্রথমার্ধে আইওয়ার ব্রেডেন জ্যাকসনকে ৯৯ গজের কিকঅফ রিটার্ন করতে দেয় তারা।
প্রথমার্ধ শেষে মিশিগান ১০-৭ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার সুযোগ ছিল তাদের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৯১ গজের ম্যাচজয়ী আক্রমণ সাজায় আইওয়া।
এই জয়ে এক দশক পর মিশিগানকে হারাল আইওয়া। অন্যদিকে নতুন প্রধান কোচ কাইল হুইটিংহামের অধীনে এটি মিশিগানের প্রথম পরাজয়।



