এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে ভারতের পাঞ্জাবের লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটিতে (এলপিইউ) শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভের সময় ক্যাম্পাসে প্রদর্শনের জন্য রাখা অবসরপ্রাপ্ত মিগ-২৩ যুদ্ধবিমান ও একটি সামরিক ট্যাংকের ওপর উঠে পড়েন শিক্ষার্থীরা। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পাঞ্জাবের ফাগওয়ারায় বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এ বিক্ষোভ শুরু হয়। এক ছাত্রীকে ক্যাম্পাসে বহিরাগত এক ব্যক্তি ধর্ষণ করেছেন—এমন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর শত শত শিক্ষার্থী বিক্ষোভে যোগ দেন।
মিগ-২৩ ও ট্যাংকে উঠে বিক্ষোভ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ক্যাম্পাসে থাকা ভারতীয় বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মিগ-২৩ইউএম যুদ্ধবিমানের ওপর একজন শিক্ষার্থীকে উঠে দাঁড়াতে দেখা যায়। অন্য একটি ভিডিওতে প্রায় ১০ জনকে প্রদর্শনের জন্য রাখা সামরিক ট্যাংকের ওপর দেখা যায়।
বিক্ষোভের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনের জানালার কাচ ও ফুলের টব ভাঙচুর করা হয়। ক্যাম্পাসের কয়েকটি দোকানেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বলতেও দেখা যায়।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে দুটি পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং আরও কয়েকটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হন।
রাত ১টার দিকে শুরু বিক্ষোভ
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রোববার রাত প্রায় ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্রীনিবাসের কাছে বিক্ষোভ শুরু হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তিন দিন আগে ছাত্রীনিবাসে এক বহিরাগত ব্যক্তি এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি একজন মিস্ত্রি ছিলেন বলেও কয়েকটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, বিষয়টি ছাত্রীনিবাসের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জানানো হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগের ভিত্তিতে অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। ঘটনা তদন্তে একটি বিশেষ তদন্ত দলও গঠন করা হয়েছে। তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেনসিক নমুনা ও ফোনকলের তথ্য পরীক্ষা করবেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য ক্যাম্পাসে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলোকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট গুজব’ বলে দাবি করেছে এবং তদন্তে সহযোগিতার কথা জানিয়েছে।
১৫ ঘণ্টার বেশি মহাসড়ক অবরোধ
বিক্ষোভ একপর্যায়ে ক্যাম্পাসের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা জলন্ধর-ফাগওয়ারা সংযোগকারী ৪৪ নম্বর জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ করেন। ১৫ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবরোধ চলায় দীর্ঘ যানজট তৈরি হয় এবং বহু যাত্রী আটকা পড়েন।
রোববার সন্ধ্যায় পুলিশ অবরোধ সরাতে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও পাথর ছোড়ে। পরে পুলিশ লাঠিপেটা করে তাঁদের সরিয়ে দেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশে দুই হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।
১০ দিনের জন্য নিয়মিত ক্লাস বন্ধ
সহিংসতার পর সোমবার থেকে ১০ দিনের জন্য নিয়মিত ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করেছে লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি। মধ্যবর্তী পরীক্ষাও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সোমবার পুলিশ জানায়, ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে এবং নতুন করে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেনি।



