বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে ইরানের দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এ কথা জানান। তাঁর দাবি, তেহরান দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি করতে চাইছে।
“আমি তাদের চুক্তি প্রত্যাখ্যান করছি,” বলেন ট্রাম্প।
তিনি দাবি করেন, ইরান চুক্তিতে আগ্রহী হওয়ার কারণ তারা চলমান সংঘাতে “খুব বাজেভাবে হারছে”।
‘চুক্তি করতে চাই, কিন্তু এই চুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়’
ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালির ওপর “সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ” প্রতিষ্ঠা করেছে এবং ওই জলপথ দিয়ে “বিপুল পরিমাণ তেল” পরিবহন করা হচ্ছে।
ইরানের প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তারা একটি চুক্তি করতে চায় এবং আমি মনে করি সেটা ভালো। আমিও চুক্তি করতে পছন্দ করি। কিন্তু সেই চুক্তি গ্রহণযোগ্য হবে না।”
ট্রাম্পের এসব বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও দাবি। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং বর্তমানে এর মধ্য দিয়ে কী পরিমাণ তেল পরিবহন হচ্ছে—এ বিষয়ে তাঁর দাবির বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় তেহরান
ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জানান, তেহরান মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক জবাবের জন্য অপেক্ষা করবে।
এর আগে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘে সাংবাদিকদের আরাঘচি বলেন, “প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে” একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব।
তিনি জানান, এসব শর্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত জুনে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের বক্তব্য সম্পর্কে আরাঘচি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট “অনেক ভালো বক্তব্য দিয়েছেন, আবার অনেক পরস্পরবিরোধী বক্তব্যও দিয়েছেন, যা দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা প্রায়ই শুনি।”
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ
পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এটি।
সাধারণ সময়ে বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।
ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।



