দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ১ হাজার ৫৭১

চলতি বছরে মৃতের সংখ্যা ১৩০; হাসপাতালে ভর্তি ৪৫ হাজার ৪৭৫, সেপ্টেম্বরে আট দিনেই ভর্তি ৯ হাজার ৬২৯

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৭১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩০ জনে। একই সময়ে মোট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৫ হাজার ৪৭৫ জন।

সেপ্টেম্বরে আট দিনেই ৯ হাজারের বেশি ভর্তি

সেপ্টেম্বরের প্রথম আট দিনেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯ হাজার ৬২৯ জন। এ সময় মারা গেছেন ৩৩ জন।

চলতি বছরের শুরুতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকলেও জুন থেকে তা দ্রুত বাড়তে শুরু করে। জানুয়ারিতে ১ হাজার ৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯ জন, মার্চে ৩৫৩ জন, এপ্রিলে ৬৪০ জন এবং মে মাসে ৭১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হন।

জুনে ভর্তি হন ২ হাজার ৯০৭ জন। জুলাইয়ে তা বেড়ে ৯ হাজার ২০৬ জনে এবং আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জনে পৌঁছায়। আগস্টেই চলতি বছরের সর্বোচ্চ মাসিক রোগী শনাক্ত হয়।

খুলনায় সর্বোচ্চ ভর্তি

চলতি বছরে বিভাগ ও সিটি করপোরেশনভিত্তিক হিসাবে খুলনা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সেখানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৭ হাজার ২৯৮।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে ঢাকা বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ৬ হাজার ৯৬৬ জন। বরিশালে ৬ হাজার ৮১১, চট্টগ্রামে ৬ হাজার ৭২২, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৫ হাজার ৮২৫ এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৫ হাজার ৪২৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এ ছাড়া রাজশাহীতে ২ হাজার ৫৫৭, ময়মনসিংহে ২ হাজার ৪৯৯, রংপুরে ১ হাজার ১৬৮ এবং সিলেটে ২০৬ জন ভর্তি হয়েছেন।

ঢাকা দক্ষিণে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু

চলতি বছরে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায়। সেখানে মারা গেছেন ৪৬ জন।

খুলনায় ২৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৬ জন, ময়মনসিংহে ১৩ জন, বরিশালে ১১ জন, চট্টগ্রামে ৮ জন এবং ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় ৭ জন মারা গেছেন।

রাজশাহীতে মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। রংপুর ও সিলেটে একজন করে মারা গেছেন।

সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নিয়ে সতর্কতা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেছেন, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর ঐতিহাসিকভাবেই ডেঙ্গুর উচ্চঝুঁকির সময়। তাঁর মতে, শুধু পূর্ণবয়স্ক মশা মারলে হবে না; এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত কার্যক্রম চালাতে হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরীও দেশব্যাপী একযোগে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চালানোর কথা বলেছেন। তিনি এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংস, লার্ভা ও পূর্ণবয়স্ক মশা নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।

হাসপাতালে বাড়ছে চাপ

ঢাকার বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে জ্বর ও ডেঙ্গুসদৃশ উপসর্গ নিয়ে বহির্বিভাগে আসা রোগীর সংখ্যা প্রায় এক মাসে দ্বিগুণ হয়েছে।

আগে প্রতিদিন প্রায় ২৫০ রোগী চিকিৎসা নিতে এলেও এখন প্রায় ৫০০ জন আসছেন। তাঁদের অনেকের জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ রয়েছে। বহির্বিভাগে আসা রোগীদের অন্তত ৫ শতাংশকে প্রতিদিন ভর্তি করতে হচ্ছে।

তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচি

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকার তিন মাসের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ কর্মসূচি উদ্বোধনের কথা রয়েছে।

মহানগর এলাকায় সিটি করপোরেশন, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবক, স্কাউট, বিএনসিসি, গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও এতে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

spot_img
spot_img

অধিক পঠিত

Related Articles