চাঁদাবাজি-হুমকির অভিযোগে সোনারগাঁয়ে বিএনপি নেতা বহিষ্কার

সরকারি সম্পত্তির অবৈধ ব্যবহারের অভিযোগও স্থানীয় বিএনপির; পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে ‘ভুল বোঝাবুঝি’র কথা বলছেন শুক্কুর আলী

চাঁদাবাজি, সরকারি সম্পত্তির অবৈধ ব্যবহার এবং এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে উগ্র আচরণ ও হুমকির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃত নেতার নাম মো. শুক্কুর আলী। তিনি সোনারগাঁও উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জামপুর ইউনিয়ন বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মো. আল আমিন মোল্লার স্বাক্ষর করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের তথ্য জানানো হয়।

তিন ধরনের অভিযোগ

দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে শুক্কুর আলীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সরকারি সম্পত্তির অবৈধ ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর পাশাপাশি তালতলা বাজার তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক মো. জসীমউদ্দিনের সঙ্গে উগ্র আচরণ এবং তাঁকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে এসব অভিযোগকে ‘সুস্পষ্ট অভিযোগ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, এর পরিপ্রেক্ষিতেই শুক্কুর আলীকে দলের সব পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে কোনো মামলা হয়েছে কি না, চাঁদাবাজির অভিযোগটি কার কাছ থেকে বা কোন ঘটনাকে কেন্দ্র করে উঠেছে, কিংবা সরকারি সম্পত্তি কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে—এসব বিস্তারিত তথ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।

‘অপকর্মের দায় দল নেবে না’

স্থানীয় বিএনপির পক্ষ থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদেরও শুক্কুর আলীর সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বহিষ্কৃত কোনো নেতার ‘অপকর্মের’ দায় বিএনপি নেবে না।

জামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আল মুজাহিদ মল্লিক এবং সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম সানোয়ার ইতোমধ্যে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

স্থানীয় পর্যায়ে কোনো নেতার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠলে তা দলীয় ভাবমূর্তির ওপর প্রভাব ফেলে—এমন প্রেক্ষাপটেই কঠোর সাংগঠনিক অবস্থানের বার্তা দিয়েছে জামপুর ইউনিয়ন বিএনপি।

কী বলছেন শুক্কুর আলী

দলীয় সিদ্ধান্তের পর শুক্কুর আলী অবশ্য নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।

তিনি বলেছেন, কিছু ভুল বোঝাবুঝির কারণে পুলিশ পরিদর্শকের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়েছিল।

দল তাঁকে বহিষ্কার করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আর কিছু বলতে চান না।

চাঁদাবাজি বা সরকারি সম্পত্তির অবৈধ ব্যবহারের অভিযোগ সম্পর্কে তাঁর কোনো নির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

জামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আল মুজাহিদ মল্লিক বলেছেন, চাঁদাবাজি, পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার এবং দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগেই শুক্কুর আলীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

spot_img
spot_img

অধিক পঠিত

Related Articles