সুনামগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে শ্বশুরকে হত্যার অভিযোগ, পুত্রবধূসহ গ্রেপ্তার ৩

দোয়ারাবাজারে দাফনের প্রস্তুতিকালে মরদেহে আঘাতের চিহ্ন দেখে সন্দেহ; ৫০ হাজার টাকায় দুজনকে ভাড়া করে হত্যার পরিকল্পনার দাবি পুলিশের

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে বসতভিটার জমি লিখে না দেওয়ায় মোহাম্মদ আলী (৭৫) নামে এক বৃদ্ধকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। পুলিশের দাবি, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে দুজনকে দিয়ে শ্বশুরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন পুত্রবধূ। ঘটনার পর স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে দেখিয়ে তড়িঘড়ি দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও মরদেহের গলায় কালো দাগ ও মুখে রক্ত দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করে।

এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় নিহতের পুত্রবধূসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে দোয়ারাবাজার থানা-পুলিশ।

রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দাফনের প্রস্তুতিকালে সন্দেহ স্থানীয়দের

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে মোহাম্মদ আলীকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এরপর স্বজনেরা তাঁর দাফনের প্রস্তুতি শুরু করেন।

তবে মরদেহের মুখে রক্ত এবং গলায় কালো দাগ দেখতে পান স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। এতে বৃদ্ধের মৃত্যু স্বাভাবিক কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।

পরে বিষয়টি দোয়ারাবাজার থানা-পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে সন্দেহ করা হয়। পরে নিহতের নাতনি আছমা বেগম বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন।

৫০ হাজার টাকায় হত্যার চুক্তির অভিযোগ

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নিহতের পুত্রবধূ হোসনা বেগম (৩৮), রুহুল আমিন (২২) ও নজরুল ইসলাম (২০)।

তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশের দাবি, হোসনা বেগম হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী। তিনি ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে রুহুল আমিন ও নজরুল ইসলামকে হত্যার জন্য ভাড়া করেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দুজন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বসতভিটার জমি লিখে দেওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই মোহাম্মদ আলীকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ।

তবে জমিটির পরিমাণ কত ছিল এবং কার নামে জমি লিখে দেওয়ার দাবি করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

পেছনের দরজা খুলে রাখার অভিযোগ

মামলার এজাহার ও পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে হোসনা বেগম বাড়ির পেছনের দরজা খুলে রাখেন।

অভিযোগ রয়েছে, ওই দরজা দিয়ে রুহুল আমিন ও নজরুল ইসলাম ঘরে প্রবেশ করেন। এরপর ঘুমন্ত মোহাম্মদ আলীর গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের সময় হেফাজতে থাকা অবস্থায় হোসনা বেগম হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছেন।

তবে এটি পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্য; আদালতে বিচারিক স্বীকারোক্তি দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়নি।

ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দায় নির্ধারিত হবে।

তিনজন আদালতে, অন্যদের ধরতে অভিযান

দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হোসনা বেগমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ওসি বলেন, মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তবে মামলায় মোট কতজনকে আসামি করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালত থেকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে বৃদ্ধকে হত্যার এই অভিযোগের তদন্তে পুলিশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা ও ঘটনার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে।

spot_img
spot_img

অধিক পঠিত

Related Articles