Skip to content

PFI: নিষিদ্ধ পিএফআই-এর সদস্যরা যোগ দিতে পারেন এসডিপিআই-তে, আশঙ্কা গোয়েন্দাদের

আজকাল

আজকাল ওয়েবডেস্ক: বুধবার পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া (পিএফআই)-র উপর পাঁচ বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

আর তারপরই কেন্দ্র ও রাজ্যের একাধিক তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের আশঙ্কা এবার পিএফআই-এর সদস্যরা এসডিপিআই নামে একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে পারেন। 

সম্প্রতি দেশজুড়ে পিএফআই-এর বিভিন্ন আস্তানায় অভিযান চালান এনআইএ এবং ইডি-র আধিকারিকরা। দেশ বিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগে প্রায় আড়াইশোর বেশি পিএফআই নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হন। 

সংখ্যালঘু প্রধান মুর্শিদাবাদ জেলাতে পিএফআই-এর যথেষ্টই সক্রিয়তা রয়েছে বলে একাধিক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য। তবে পিএফআই নিষিদ্ধ ঘোষণা হওয়ার পর এর সদস্যরা কোথায় কী ভূমিকায় থাকবেন এখন সেটাই তাঁদের বড় চিন্তার কারণ। 

২০১০ সালে কেরালার একটি কলেজের প্রফেসর টি জে জোসেফের কব্জি থেকে হাত কেটে নেওয়ার মাধ্যমে খবরের শিরোনামে এসেছিল পিএফআই। তারপর সংখ্যালঘু প্রধান মুর্শিদাবাদ জেলাতে তাদের সংগঠন বিস্তার করতে সময় লাগেনি। মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলা, বহরমপুর, বেলডাঙা, ডোমকল, সুতি, সামশেরগঞ্জ প্রভৃতি এলাকায় এই সংগঠনের প্রচুর সমর্থক রয়েছেন। এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘ইউনিটি মার্চ’ করে পিএফআই তাদের ক্ষমতার প্রদর্শন করেছিল সামশেরগঞ্জ এলাকাতে। 

পিএফআই-এর সামসেরগঞ্জ ব্লক সভাপতি ওমর খাইয়ুম বলেন, ‘কেন্দ্রের সরকার সাধারণ মানুষের বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে তার প্রমাণ আমাদের সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা। তবে সরকার যেহেতু আমাদেরকে নিষিদ্ধ করেছে তাই আইন মেনেই আমরা চলব। এই মুহূর্তে আমরা আর কোনও সামাজিক আন্দোলন করব না। আমাদের দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আইনজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করছেন। তাঁরা যেরকম বলবেন আমরা ভবিষ্যতে সেভাবেই এগিয়ে চলব।’ 

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এক আধিকারিক নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, সিএএ এবং নুপুর শর্মা ইস্যুতে মুর্শিদাবাদ জেলা যখন উত্তাল হয়ে উঠেছিল সেই সময়ে পিএফআই এবং এসডিপিআই দলের একাধিক নেতা সামনে দাঁড়িয়ে থেকে বিভিন্ন সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। একাধিক পিএফআই এবং এসডিপিআই নেতার বিরুদ্ধে বর্তমানে জঙ্গিপুর আদালতে মামলাও চলছে। তিনি জানান এই সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে মদতকারী বিভিন্ন সংস্থার সাথে যোগাযোগ রাখা এবং শিশুদেরকে ‘মৌলবাদে’ উদ্বুদ্ধ করার মত গুরুতর অভিযোগ উঠছিল সাম্প্রতিক সময়ে। 

যদিও পিএফআই নিষিদ্ধ ঘোষণা হওয়ার পর তাদের সদস্যদেরকে দলে নেওয়া হবে কি না সেই বিষয়টি শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন এসডিপিআই দলের সামসেরগঞ্জ ব্লক সভাপতি নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন,’আমাদের কাছে এখনও কোনও পিএফআই সদস্য যোগদান করার ইচ্ছা প্রকাশ করে যোগাযোগ করেননি। ভবিষ্যতে কেউ যদি এরকম ইচ্ছা প্রকাশ করেন তাহলে শীর্ষ নেতৃত্ব সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’ 



বার্তা সূত্র