Skip to content

Buddhism and Dalai Lama: চীনে বৌদ্ধ ধর্ম নিষিদ্ধ হয়েও বিস্তৃত হল কীভাবে, কতটা অবদান দলাই লামার

Buddhism and Dalai Lama: চীনে বৌদ্ধ ধর্ম নিষিদ্ধ হয়েও বিস্তৃত হল কীভাবে, কতটা অবদান দলাই লামার

– Advertisement –

– Advertisement –

ওয়েব ডেস্ক: সময়টা ছিল অস্থির। আদ্যোপ্রান্ত একটা কমিউনিস্ট শাসনের দেশে কোনঠাসা হচ্ছিল ঐতিহ্য, সংস্কৃতি। সময়ের ঘোড়া ছোটে হয় এভাবেই।মাও জে দং (Mao Zedong) চীনে (China) তৈরি করেছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির (Communist Party) কড়া শাসন।যেখানে প্রথমেই তিনি নিষিদ্ধ করেছিলেন বৌদ্ধ ধর্মকে (Buddhism)। সেই বৌদ্ধ ধর্মের মাহাত্ম তাহলে কি চীনে আর নেই?

১৯৫৮ থেকে ২০২২, এই হল সময়ের ব্যবধান।তিব্বতে লাল ফৌজের (Tibet Lal Fauj)আগ্রাসন, দেশছাড়া দলাই লামা (14th Dalai Lama), ভারতের দলাই লামাকে আশ্রয় দেওয়া, সব মিলিয়ে চীনে পরোক্ষ ভাবে বৌদ্ধ ধর্মের অস্তিত্বের লড়াই। বাইরে থেকে সেই লড়াই একার কাঁধে যিনি নিয়েছিলেন তিনি দলাই লামা। চাকা ঘুরে সেই চীনেই বৌদ্ধধর্ম শুধু প্রতিষ্ঠিত নয় বরং বৌদ্ধ ধর্মকে টেক সেভিও করছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দালাই লামার ভক্তের সংখ্যাও চীনে নেহাত কম নয়।

বৌদ্ধ ধর্মকে নিষিদ্ধ মাওয়ের-
• ১৯৫৮ সালে চীনে কমিউনিস্ট শাসন, কোনঠাসা বৌদ্ধ ধর্ম
• ১৯৫৯ সাল থেকে মাও জে দং এর নির্দেশে চীনে গুড়িয়ে দেওয়া হয় বৌদ্ধ মন্দির
• বরাবর বৌদ্ধ ধর্ম পুজো করা চীনে ধর্মের কোনও চিহ্ন রাখতে চাননি মাও
• সম্পত্তি জাতীয়করণ থেকে শ্রেণীগত ভেদ ঘুচিয়ে মাওয়ের লক্ষ্য ধর্মহীন দেশ গঠন
• সেই সময়ই তিব্বত ছেড়়ে ভারতে আশ্রয় দলাই লামার
• তিব্বতে ঢুকে লাল ফৌজ তখন হত্যা করছে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের
• বৌদ্ধ মঠ পরিণত হয়েছে কারখানায়

বৌদ্ধ ধর্মের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটা দেশকে মাও চেয়েছিলেন বদলে দিতে। বিশেষজ্ঞদের মত, মাও কোনওদিন চাননি কমিউনিস্টের পাশাপাশি অন্য কোনও মতাদর্শ প্রধান হয়ে উঠুক বা গুরুত্ব পাক।সেই ধারণার বদল ঘটল ক্রমশ
• ১৯৬৬-৭৬ সালে চীনে সাংস্কৃতিক বিপ্লব
• ১৯৭৮ সালে পুনরায় বৌদ্ধ ধর্মকে ফিরিয়ে আনার কর্মসূচি
• ডেং জিয়াওপিংয়ের (Deng Xiaoping)শাসনে চীনে বৌদ্ধ ধর্মের পুনরায় প্রতিষ্ঠা
• সংস্কার থেকে নতুন করে তৈরি বৌদ্ধ মঠ ও মন্দির

সেই পথ ধরেই শি জিনপিংয়ের চীনে বৌদ্ধ ধর্ম একেবারে অন্যরকম মান্যতা পেল। কারণ, জিনপিং নিজে কমিউস্ট পার্টির নেতা হয়েও বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষক।

শি জিনপিংয়ের (Xi Jinping) চীনে-
• ২০১২ সালে জিনপিং চীনের শাসন হাতে নিয়েই বৌদ্ধ ধর্মকে আরও জোরদার করেন
• চীনের অধিকাংশ মানুষ হান বংশের এবং বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষক
• অনুধাবন করেই তিব্বতের বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসপ্রাপ্ত বৌদ্ধ মঠ-মন্দির সংস্কার করান জিনপিং
• তিব্বতের মোট ২০০ একর জমির সংস্কার হয় ৫৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে
• ২০১২-২০২২ সালের মধ্যে বৌদ্ধ ধর্মের বিস্তার হয়ে ওঠে প্রযুক্তিগত
• চীন ব্যবহার করা উই চ্যাট সহ বিভিন্ন অ্যাপে বৌদ্ধ ধর্মের প্রচার চলে

ধর্মগুরু দলাই লামার উপর চীনের নজর বরাবর।কারণ দলাই লামা নিজের শক্তি বুঝিয়েছেন। দলাই লামা আসলে সেই একক সেনা যিনি বৌদ্ধ ধর্মের শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করতে সফল হয়েছেন চীনের বাইরে থেকেই।
• চীনের অন্তত ১৮৫ মিলিয়ন মানুষ দলাই লামার ভক্ত
• তাঁরা চান চীনে ফেরত আসুক দলাই লামা

কী চান জিনপিং? চীনে কি ফিরতে চান খোদ দলাই লামা? চীনের কমিউনিস্ট পার্টি দলাই লামাকে নিয়ে সবসময় ভীত বলেই মনে করা হচ্ছে। দলাই লামা চীনে ফিরলে জিনপিং সহ কমিউনিস্ট পার্টির ভীত নরবরে হওয়ার আশঙ্কা।যে আশঙ্কা থেকেই হয়ত জিনপিং দলাই লামার থেকে সাবধান থাকেন, তাঁকে নজরে রাখেন। কারণ, বৌদ্ধধর্মকে চীন থেকে মুছে দেওয়ার বিরুদ্ধে যেমন চীনের অন্দরে বিপ্লব হয়েছে, সেই বিপ্লবই বাইরে চালিয়ে গেছেন দলাই লামা। তাই এক কথায় দলাই লামাকে বুঝে চলেন জিনপিং।কারণটা সেই বৌদ্ধ ধর্ম।আর দলাই লামার কথায়- তাঁর জীবন এই ভারতেই।

বার্তা সূত্র

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ সংবাদ