Feb 132020
 
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares

 

প্রলোভনে পড়ে উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়া পাচারের সময় ট্রলারডুবির ঘটনায় ১৯ দালালকে আসামি করে টেকনাফ মডেল থানায় মামলা করেছে কোস্টগার্ড। গত মঙ্গলবার রাতে সেন্টমার্টিন কোস্টগার্ডের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার এমএস ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন। দুর্ঘটনার পরই ৪ দালালকে আটক করা হয়। পরে আরও ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এরা সবাই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

এদিকে ১৩৮ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ নিয়ে ডুবে যাওয়া ট্রলারের নিখোঁজ আরও ৪৬ জনকে উদ্ধারে বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো জোর চেষ্টা চালিয়েছেন কোস্টগার্ড সদস্যরা। তবে বুধবার একজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও নতুন করে আর কোনো লাশ উদ্ধার করা হয়নি। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, অনেকেই হয়তো স্রোতের টানে ভেসে গেছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- টেকনাফের নোয়াখালীপাড়ার হাসান আলীর ছেলে সৈয়দ আলম (২৮), আবদুন ছালামের ছেলে আবদুল আজিজ (৩০), রশিদ আহম্মদের ছেলে করিম (৪৯), উলা মিয়ার ছেলে ফয়েজ আহম্মদ (৫০), জুম্মাপাড়ার আজমের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২০), মমতাজ মিয়ার ছেলে রফিক (২৬), রাজার পাড়ার মোস্তাক আহম্মদের ছেলে হুমায়ুন কবির (২০) ও উখিয়ার বালুখালী ১০ নম্বর ক্যাম্পের কবির হোসেনের ছেলে ওসমান।

পুলিশ জানায়, মালয়েশিয়াগামী ট্রলার পরিচালনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে আটক এই ৮ জনের মধ্যে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয় নাগরিক রয়েছে।

পুলিশ জানায়, সেন্টমার্টিনের অদূরে বঙ্গোপসাগরে রোহিঙ্গাবোঝাই ট্রলারডুবির ঘটনার কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর উদ্ধার অভিযানে এ পর্যন্ত ৭৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে টেকনাফ থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে ৭৩ জনকে।

বাকিদের সেন্টমার্টিনেই রাখা হয়েছে। তাদের পরবর্তী সময়ে কোথায় রাখা হবে, সে নির্দেশনা দেবেন আদালত। পুলিশ আদালতের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছে। পাশাপাশি যে ১৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে  তাদের দাফন করার হয়েছে।

টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস জানান, উদ্ধার ব্যক্তিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ১৯ দালালের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাতে টেকনাফ থানায় মামলা করা হয়েছে। এদের ৪ জনকে আগেই আটক করা হয়। মঙ্গলবার রাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আরও ৪ দালালকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত বাকিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়া একাধিক সূত্র বলছে, মঙ্গলবার সকালে সেন্টমার্টিনের অদূরে বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় ১৩৮ জনের মতো রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু ছিল। এর মধ্যে এ পর্যন্ত ৭৬ জনকে জীবিত এবং ১১ নারী ও ৪ শিশুসহ ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিখোঁজ আরও প্রায় ৪৬ জন। তাদের খোঁজে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী। কথা হয় টেকনাফ কোস্টগার্ডের স্টেশন কমান্ডার লে. সোহেল রানার সঙ্গে।

তিনি বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো তল্লাশি চালানো হয়েছে। নিখোঁজ রোহিঙ্গাদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্টমার্টিন এলাকায় মঙ্গলবার ভোরে পাথরের সঙ্গে ধাক্কা লেগে একটি ট্রলার ডুবে যায়।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ মরদেহ এবং ৭৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার গভীর রাতে দুটি নৌকায় করে সেন্টমার্টিনের কাছে মালয়েশিয়াগামী ট্রলারে ওঠার পর এক পর্যায়ে সেটি ডুবে গেলে এই মর্মান্তিক ঘটনার অবতারণা হয়।


  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
    3
    Shares

 Leave a Reply

(required)

(required)