Skip to content

, –

,   -

বেনার নিউজ

সরকারের পতনসহ ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকাসহ সব বিভাগীয় শহরে ১১ জানুয়ারি গণ-অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।

বিএনপি ও তাদের সমমনা ৩২ দলের যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে শুক্রবার রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম গণমিছিল থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

একই দিন বিএনপির মিত্র জোটের এই গণমিছিল চলাকালে রাস্তায় ছিল আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলো। কেন্দ্রের নির্দেশে তারা কোথাও অবস্থান, কোথাও সমাবেশ করেছে।

বিএনপির মিত্র বলে পরিচিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে বায়তুল মুকাররম মসজিদের উত্তর ফটক থেকে মিছিল বের করতে দেয়নি পুলিশ। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত কর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ শুক্রবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ১০ সদস্য আহত হয়েছেন।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, পুলিশের ওপর আক্রমণসহ বিভিন্ন অভিযোগে জামায়াতের ১১ নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে।

জামায়াতকে বাধা দিলেও বিএনপিসহ অন্যান্য দল বা জোটের মিছিলে বাধা দেয়নি পুলিশ। সরকারপক্ষ ও বিরোধীদের এই কর্মসূচির কারণে ছুটির দিনেও ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়।

শুক্রবার নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

১০ ডিসেম্বর বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ নয়াপল্টনে অনুষ্ঠিত করার অনুমতি না দিলেও শুক্রবার নয়াপল্টনে গণমিছিল করতে পুলিশের পক্ষ থেকে আপত্তি করা হয়নি।

যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী ১১ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বিভাগীয় শহরে সকাল ১০টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে দলটির নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে।

বিএনপি বলছে, তারা কোনো সহিংসতায় জড়াবে না। ক্রমান্বয়ে আন্দোলনকে বেগবান করে সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে।

রাজধানী ঢাকার চিত্র

শুক্রবার দুপুর দুইটা থেকে গণমিছিল শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল ১১টা থেকেই বিএনপি হাজার হাজার নেতা-কর্মী ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয় ও এর আশেপাশের এলাকায় হাজার হাজার কর্মী সমবেত হতে থাকেন।

দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনেকে জুমার নামাজ আদায় করেন। দুপুর ১২টার পরে কাকরাইল মোড় থেকে নয়াপল্টন, পুরানা পল্টনের দিকে রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুরো এলাকায় দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হলেও পুলিশ ছিল সহনশীল এবং অনেকটা নীরব দর্শকের ভূমিকায়।

তবে ভিন্ন চিত্র ছিল বায়তুল মুকাররম মসজিদ এলাকায়। পল্টন মোড় থেকে শুরু করে মসজিদের উত্তর ফটক, দৈনিক বাংলা মোড় এলাকায় পুলিশের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। উত্তর ফটক থেকে জামায়াতে ইসলামীর মিছিল করার কথা ছিল।

জুমার নামাজ শেষে কিছু সংখ্যক জামায়াত নেতা-কর্মী মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়।

জামায়াত কর্মীরা একজন, দু’জন করে বের হয়ে দৈনিক বাংলা মোড়ের কাছে সুরমা টাওয়ারের কাছে গিয়ে জড়ো হন। দুপুর সোয়া দুইটার দিকে সেখান থেকে শ্লোগান দিয়ে মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দেওয়ার পাশাপাশি কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ। এতে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় মিছিল।

কিছুক্ষণ পরে সুরমা টাওয়ারের ভেতর থেকে দুই জামায়াত কর্মীকে আটক করে পুলিশ। এরপর থেকে জামায়াত-শিবির কর্মীদের আর দেখা যায়নি। মালিবাগ এলাকা থেকে জামায়াত আরেকটি মিছিল বের করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয় এবং ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মো. শহীদুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, জামায়াত-শিবিরের মিছিল থেকে পুলিশের ওপর আক্রমণ করা হয়। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছে।

জামায়াতের দাবি, গণমিছিল করার অনুমতি চেয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাছে চিঠি পাঠিয়েছিল তারা। তবে পুলিশ বলেছে, এমন কোনো চিঠি তারা পায়নি। জোর করেই গণমিছিল করতে মাঠে নেমেছে জামায়াত। আর নেমেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে তারা।

বিএনপি, জামায়াত ছাড়াও এফডিসির কাছে এলডিপি, নয়াপল্টন পানির ট্যাংকের কাছে ১২ দলীয় জোট, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণতান্ত্রিক মঞ্চ পৃথক মিছিল বের করে সরকারের পদত্যাগসহ পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠান সম্পর্কিত বিএনপির ১০ দফার সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে।

আওয়ামী লীগের অবস্থান

বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত জোটের গণমিছিলকে টেক্কা দিতে গুলিস্তান, এফডিসি মোড়ের লেভেল ক্রসিং, ফার্মগেট, শ্যামলী, মিরপুর-১০ নম্বর সেক্টরসহ রাজধানীর অন্তত নয়টি পয়েন্টে মিছিল সমাবেশ করে আওয়ামী লীগ ও তাদের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন।

বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন মিছিল, সমাবেশ ও শোডাউন করলেও সহিংসতা হয়নি।

শ্যামলীর জনসভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপির রাজনীতিকে ‘নষ্ট’ আখ্যায়িত করে বিরোধী দলকে প্রতিহত করার আহ্বান জানান। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সমগ্র ঢাকায় আওয়ামী লীগ প্রস্তুত আছে; প্রস্তুত আছে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে, ভোট চোরদের বিরুদ্ধে।

তিনি বলেন, “বিএনপির বিরুদ্ধে আমরা প্রস্তুত। ওদের রুখতে হবে, জঙ্গিবাদ রুখতে হবে। স্বাধীনতাবিরোধীদের রুখতে হবে।”

সহিংসতা করবে না বিএনপি

বিএনপির মিডিয়া সেলের প্রধান জহির উদ্দিন স্বপন শুক্রবার বেনারকে বলেন, “আজকে আবারও প্রমাণিত হলো দেশের মানুষ বিএনপি এবং মিত্রদের অহিংস নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে আছে। লাখ লাখ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আজকের মিছিলে অংশগ্রহণ করেছে।”

তিনি বলেন, “পুলিশ আমাদের কোনো বাধা দেয়নি। কারণ আমার মনে হয়, তারাও বোঝে যে বাধা দিয়ে কোনো লাভে নেই।”

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “আওয়ামী লীগ চেষ্টা করছে, জনগণের কাছে আমাদের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনকে একটি সহিংস আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করতে। এটা করতে পারলে জনগণের দাবিকে পাশ কাটিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। তবে, আমরা কোনোভাবেই কোনো সহিংসতার আশ্রয় নেব না।”

বিএনপির অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খান বেনারকে বলেন, “বিএনপি সহিংসতা করবে না-এটি তাদের রাজনৈতিক কথা। তারা সুযোগ পেলেই সহিংসতা করবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিএনপি মানুষের কথা বলে না। তারা তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে আছে। মানুষ তাদের ডাকে সাড়া দেবে না।”

শাজাহান খান বলেন, “বিএনপি-জামায়াত সহিংসতা করলে সরকারের বসে থাকবে না। সরকারের দায়িত্ব জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া।”