Skip to content

বাংলাদেশের মানুষ র‍্যাবকে খুব পছন্দ করেঃ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন

বাংলাদেশের মানুষ র‍্যাবকে খুব পছন্দ করেঃ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন

তবে অতি সম্প্রতি (গত ২৯ সেপ্টেম্বর ) বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, জবাবদিহিতার আওতায় না আসা পর্যন্ত ৱ্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এতে বোঝা যাচ্ছে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বদলায় নি। তাহলে কি আমরা ধরে নেব বিএনপি’র লবিয়িস্টরা বেশি কার্যকরী ভূমিকা রাখছে অথবা তাদের যোগ্যতা আপনারা বা বাংলাদেশ সরকার যে লবিয়িস্ট নিয়োগ করেছেন তাদের চাইতে বেশি?

এ. কে. আব্দুল মোমেন: আসলে দেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের বহুমাত্রিক সম্পর্ক। আর সম্পর্ক একদিনের না, আজকে ৫০ বছরের সম্পর্ক। এবং যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী দেশ। সিঙ্গেল কান্ট্রি (একক দেশ) হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সবচেয়ে বড় ট্রেডিং পার্টনার (বাণিজ্য অংশীদার)। আর বিভিন্নভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের গভীর সম্পর্ক। তাহলে একটি দুর্ঘটনা – সেটা নিয়ে আমাদের সম্পর্ক বিচার বিশ্লেষণ করা ঠিক হবে না। আর বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র বিলিভ ইন সেইম ভ্যালুস অ্যান্ড প্রিন্সিপ্যালস। বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে যখন গণতন্ত্র ধুলিসাৎ হয়ে যাচ্ছিল। টু আপহোল্ড ডেমোক্রেসি, জাস্টিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস – আমরা কিন্তু যুদ্ধ করেছি। আমাদের ৩০ লক্ষ লোক প্রাণ দিয়েছে। সো বাংলাদেশ ইজ আ হোম অফ ডেমোক্রেসি। বাংলাদেশ ইজ আ হোম অফ হিউম্যান রাইটস। বাংলাদেশ ইজ আ ল্যান্ড অফ জাস্টিস। আর আমেরিকাও এই ভ্যালুজ অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস, ডেমোক্রেসি বিশ্বাস করে। তো আমাদের একটা আত্মিক সম্পর্ক আছে। আর পৃথিবীর নির্যাতিত মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাকায় একটা আশ্বাস পাওয়ার জন্য।

শুধু একটি দুর্ঘটনা – এই যে র‌্যাবের ঘটনা – আমরা মনে করি এইটা ইজ নট এনাফ। এটা দিয়ে আমাদের সম্পর্ক বিচার করার কোন কারন নেই।

তবে এক্ষেত্রে যেটা হয়েছে, আমাদের দেশ একসময়ে সন্ত্রাসীর দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। একইদিনে দেশের ৬৪ জেলার [মধ্যে] ৬৩টি জেলায় ৪৯৫টি বোমাবাজি হয়। একেবারে সাইমুলটেনিয়াস, সিঙ্ক্রোনাইজড ওয়ে-তে। এমনকি জাজ-রা এজলাসে থাকা অবস্থায় সেখানে বোমাবাজি হয়ে মারা যান। এক বিদেশী কূটনীতিক, ব্রিটিশ হাই কমিশনার, উনি একটি এলাকায় গিয়েছেন – সেখানেও বোমাবাজি হয়। লোক মারাও যায়। উনি বেঁচে যান, কিন্তু লোক মারা যায়। তাছাড়া [দেশের] বিভিন্ন নামকরা লোকজন যখন-তখন বোমাবাজিতে কিংবা গ্রেনেড হামলায় মারা গেছেন। এবং মাইনরিটি গ্রুপ যারা ছিল, তাদের উপর তো অত্যাচার চরমে পৌঁছেছিল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই সময়ে একটি র‌্যালি করেন এই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, করাপশনের (দূর্নীতি) বিরুদ্ধে। তখন সেই র‌্যালিতে বোমাবাজি, গ্রেনেড হামলা হয়। তাতে ২৪ জন মারা যান, ৩৭০ জন পঙ্গুত্ব বরণ করেন, আহত হন। সেই অবস্থার সময়, এই যে র‌্যাবের কথা বললেন, সেই প্রতিষ্ঠানটা গড়ে ওঠে। [ভোয়া ফ্যাক্ট চেকঃ র‍্যাব প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৪ সালের এপ্রিলে, বিএনপি সরকারের শাসনামলে। শেখ হাসিনার র‍্যালিতে গ্রেনেড হামলার ঘটনাটি ঘটে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট।] আমেরিকা এবং ব্রিটিশ – তারাই কিন্তু বুদ্ধি-টুদ্ধি দেয় কিভাবে তৈরি করবে। এবং ইট বিকেম অ্যান ইফেকটিভ অর্গানাইজেশন। তখন হয়ত কিছুটা এক্সেস (বাড়াবাড়ি) হয়েছে – প্রথম যখন তৈরি হয়। কারন তখন অবস্থা খুব খারাপ ছিল।

কিন্তু গত অনেক বছরে আমেরিকানরা এটাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্যে র‌্যাবের লোকজনকে ট্রেনিং দেয়। অনেক বছর ট্রেনিং দিয়েছে। এবং র‌্যাবের অপারেশনাল প্রসিডিউরস অনেকটাই এদেশের (আমেরিকার) আদলে তৈরি করা হয়েছে। কিছু এক্সেস হয়েছে হয়ত। যেখানে এক্সেস হয়, সেখানে জবাবদিহিতা আছে। আপনি জানেন যে, র‌্যাবের অনেক লোক চাকরিচ্যুত হয়েছে, কিংবা ডিমোশন হয়েছে। এমনকি কয়েকজনের ফাঁসিরও আদেশ হয়েছে, কারন তারা হাইলি ইররেগুলার কাজ করেছে। সো জবাবদিহিতার একটা নিয়ম আছে।

আর র‌্যাবের কারনে আমাদের দেশে সন্ত্রাসী তৎপরতাটা মোটামুটি বন্ধ। লাস্ট সন্ত্রাসী তৎপরতা ২০১৭ [ভোয়া ফ্যাক্ট চেকঃ হলি আর্টিজানে হামলাটি হয় ২০১৬ সালে] সালে, হলি আর্টিজানে। এরপরে আর হয়নি। সুতরাং যারা এই সন্ত্রাসীকে পছন্দ করে, তারা খুব হতাহত, তারা খুব দুঃখিত। তাই তারা র‌্যাবের বিরুদ্ধে বিভিন্নরকম ইস্যু তৈরি করে, বানোয়াট জিনিস তৈরি করে। যদি কোথাও র‌্যাবের অপরাধ হয়ে থাকে, অবশ্যই তার বিচার হবে। ট্রান্সপারেন্সি আমরা চাই, অ্যাকাউন্টেবিলিটি চাই। এতে কোন ব্যত্যয় নাই। দেয়ার ইজ সিভিলিয়ান প্রসিডিউর। এভরি কিলিং এর অ্যাগেইনস্ট-এ দেয়ার ইজ আ প্রসিডিউর।

আমার মনে হয় যে আমরা এই ইস্যুগুলো আমেরিকাকে ঠিকমত বুঝাতে পারিনি। এবং না বোঝানোর ফলে একটা গ্যাপ হয়েছে। এই গ্যাপের কারনেই হয়ত আমেরিকা ওদের স্যাঙ্কশন (নিষেধাজ্ঞা) দিয়েছে। সুতরাং আমরা আমেরিকাকে রিকোয়েস্ট করেছি, যে আপনারা কি কি কারনে ওদের এই স্যাঙ্কশন দিলেন, সেই তথ্যটা আমাদের বলেন, তাহলে উই উড বি এবল টু প্রোভাইড দি কারেক্ট ইনফরমেশন।

আর আপনি যেটা বলেছেন যে, বিএনপি’র প্ররোচনার জন্যে। হ্যাঁ, অনেক গোষ্ঠীই আছে, সব দেশেই থাকে। তারা বিভিন্নরকম বানোয়াট তথ্য [দেয়] এবং বানোয়াট তথ্যগুলো যদি গ্রহণ করে সরকার, যাচাই-বাছাই না করে, সেটা তো দুঃখজনক হবে। আর আমরা বিশ্বাস করি, আমেরিকার মত একটা বড় দেশ, যারা ম্যাচিউরিটি অর্জন করেছে ওভার [দ্যা] লাস্ট টু হান্ড্রেড ইয়ারস, তারা কিন্তু বানোয়াটের উপর ভিত্তি করে এমন কাজ করবে না যেটা কোয়েশ্চেনেবল (প্রশ্নবিদ্ধ) হবে, তাদের জন্য লজ্জার হবে। তো আমরা এইজন্য বলেছি যে, [নিষেধাজ্ঞাটা] ওদের কি ইস্যুর জন্য এটা জানান – উনারা এখনও জানান নাই। আর আমরা এদের যে একটা প্রসিডিউর, যে সিস্টেম আছে, উই আর ট্রাইং টু ফলো থ্রু দিস প্রসিডিউর।

তো আপনি জেনে খুশি হবেন যে, আমাদের দেশের জনগণ, ওয়ান টু অল, র‌্যাঙ্ক অ্যান্ড ফাইল, র‌্যাবকে খুব পছন্দ করে। তারা বিশ্বাস করে র‌্যাব মানুষের সিকিউরিটি দেয়। তারা বিশ্বাস করে র‌্যাব করাপশন করে না। তারা বিশ্বাস করে র‌্যাবের কাছে গেলে তারা বিচার পাবে।

আমি একটা ঘটনা বলি। আমার এলাকায় একটি লোক মারা যায় পুলিশ কাস্টডিতে। তখন সেখানে লোকে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করে। তখন আমরা এই কেইসটা পুলিশের বিশেষ একটা [শাখা] – পিবিআই আছে, এদের অনুসন্ধান করতে দেই। তখন যেই ছেলেটা মারা যায়, তার মা এবং পরিবার আমাকে বললেন যে, মাননীয় মন্ত্রী, এইটা বেস্ট হবে আপনি র‌্যাবকে দায়িত্বটা দেন, কারন র‌্যাবের প্রতি এত বিশ্বাস। তো এইজন্য আমাদের খুব আশ্চর্য লেগেছে [যে], এরকম একটা ভাল প্রতিষ্ঠান, তার বিরুদ্ধে আমেরিকার মত সরকার কি করেছে। এবং কয়েকজন লোকের বিরুদ্ধে করেছে। শুনেছি যে এদের কেউ কেউ, এই লোকগুলো, অনেকেই চাকরিতে জয়েন করেছে কয়েকদিনের জন্যে। তারপরে সে পড়ে গেছে এই ঝামেলায়।

ভয়েস অফ আমেরিকা: কিন্তু আমরা বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের কথা থেকে বুঝতে পারছি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পাল্টায় নি। এদিকে বেনজির আহমেদ, যিনি বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি ছিলেন, তিনি অবসর নিয়েছেন। নতুন আইজিপি হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে, তার উপরও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে। তো এখন আমার প্রশ্ন হলো আপনারা কি মনে করছেন না, এর ফলে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে?

এ. কে. আব্দুল মোমেন: না, আমরা মনে করি না। যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীতে আপনার কতজন লোককে স্যাঙ্কশন দিয়েছে, আর কতগুলো উইথড্র করেছে আপনি হিসাব করেন। আই ডোন্ট নো। টাইম [টু] টাইম যুক্তরাষ্ট্র অনেকের উপরই এইসব দেয়। আবার ওদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে।

মোদী সাহেবকে একবার স্যাঙ্কশন দিল – প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপরে। তারপর উনি বেস্ট ফ্রেন্ড অফ ইউএসএ হলেন।

সুতরাং আমরা মনে করি, এগুলো অন্যকোন কারনে হয়েছে। হ্যাঁ, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ঢাকায় বলেছেন, এইটা। আমরা বাকিটুকু জানিনা। আমার সাথে যখন সেক্রেটারি অফ স্টেটের (যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন) আলোচনা হয়েছিল, তখন উনি বলেছেন যে, তারা ম্যানডেটেড টু ডু ইট। এবং এইটার একটা প্রসেস আছে উইথড্রয়াল-এর। এবং সেই প্রসেসটা উনারা বলেছিলেন – আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করছি। উই আর ওয়ার্কিং উইথ দেম। আমাদের বিভিন্ন রকম আপনার এক্সচেঞ্জ [হয়]। ইউএস এবং বাংলাদেশের মধ্যে, বহুরকম আলোচনা, বহুরকম ফোরাম ফর ডায়ালগ অ্যান্ড ডিসকাশন আছে। সুতরাং আমাদের একটা নিয়ে বসে থাকার কোন কারন নাই।

ভয়েস অফ আমেরিকা: আমার পরের প্রশ্ন রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে। আপনি সম্প্রতি একাধিকবার বলেছেন যে বাংলাদেশ আর কোন রোহিঙ্গাকে প্রবেশ করতে দেবে না। কিন্তু আমরা সাম্প্রতিক সময় লক্ষ্য করেছি যে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে রাখাইন রাজ্যে, আরাকান আর্মি এবং মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ বেড়েই চলছে। তো এমন একটা পরিস্থিতি হয়তো তৈরি হতে পারে যেখানে আবারও বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে চেষ্টা করতে পারে। বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রবেশ ঠেকাতে আপনারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন?

এ. কে. আব্দুল মোমেন: আমরা দেখলাম যখন রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচার হচ্ছিল, পারসিকিউটেড হচ্ছিল, তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে ফেলে, তাদের রেপ করে, শত শত… প্রায় ২৫ হাজারের মতো হত্যা করে। এরকম কঠিন সময়ে পৃথিবীর অন্যান্য দেশ; যারা আপনার মানবতার কথা বলে, হিউম্যান রাইটসের কথা বলে তারা কিন্তু ওদের আশ্রয় দেয়ার জন্য, সাহায্য করার জন্য কেউ অগ্রসর হয়ে আসেননি। কোন দেশ আসেননি। তখন সেই সময়ে যখন দে আর বিন পারসিকিউটেড তখন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আউট অফ হিউম্যান কনসিডারেশন, তাদের তিনি আশ্রয় দেন। আমাদের বর্ডারটা খুলে দেন। তার ফলে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট সে সময় প্রায় ৮ লক্ষ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা আমাদের দেশে প্রবেশ করে। আর তারপর আরো কিছু। প্রায় এখন ১২ লক্ষের মত রোহিঙ্গা আমাদের দেশে আছে। আমরা তাদের টেম্পোরারি শেলটার দিয়েছি । উই কল দেম ‘ফর্সিবলি ডিসপ্লেসড রেসিডেন্স অফ মায়ানমার।’ তবে মায়ানমারের একটি ইতিহাস আছে। আপনি জানেন মায়ানমারে প্রায় ১২৫ ধরনের এথনিক কমিউনিটি আছে । কিন্তু রোহিঙ্গারা একসময় বড় ছিল, তারা পাওয়ারফুল ছিল। তারা মন্ত্রী ছিল, তারা মেম্বার্স অফ পার্লামেন্ট ছিল। কিন্তু ’৬২-র পরে যখন মিলিটারি গভর্নমেন্ট আসলো তখন তাদের এই দুরাবস্থার শুরু হয়। সত্তর দশকে অনেক রোহিঙ্গাকে মায়ানমার সরকার বিতাড়িত করে। আশির দশকে, নব্বই দশকে অনেক রোহিঙ্গাকে বিতাড়িত করে। কিন্তু তখন মায়ানমার সরকার ওদেরকে আবার নিয়েও যায়। সসম্মানে নিয়ে যায়। তখন মায়ানমার সরকারের উপর একটা স্যাঙ্কশন ছিল, ইকোনোমিক স্যাঙ্কশন। ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট ওবামা সেই স্যাঙ্কশনটা উইথড্র করেন। এখন মায়ানমারের সাথে মোটামুটি সবগুলো দেশের বিজনেস অ্যাজ ইজু্য়াল কোন ঘাটতি হয়নি। এই এ্যাথনিক ক্লিনজিন হল, জেনোসাইড হল, এইসবের পরেও আমার খুব তাজ্জব লাগে বিশ্বের দেশগুলো মায়ানমারের সাথে মোটামুটি ব্যবসা করে যাচ্ছে। যাই হোক, এগুলো তাদের দেশের বিষয়। কিন্তু আমি আশা করব যে, মায়ানমারের এই ইস্যুটা শুধু বাংলাদেশের ইস্যু না। এই সমস্যা মায়ানমার তৈরি করেছে, এর সলিউশন মায়ানমারকে করতে হবে। তবে মায়ানমারের উপর চাপ দিতে হবে, জাতিসংঘ সহ অন্যান্য দেশ, যারা হিউম্যান রাইটসের বিশ্বাস করে। সম্প্রতি মায়ানমারে আবার একটি সংঘাত চলছে, তাদের অভ্যন্তরীন সংঘাত চলছে। এবং সে সংঘাতের ফলে যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে যে আরো অনেক লোক বিতাড়িত হবে। আমি শুনেছি যে ওখানে মায়ানমার আর্মি অ্যানাউন্সমেন্ট করছে, “তোমরা এখান থেকে সরে যাও।” না হলে তারা অপারেশন করবে। তার ফলে কিছু লোকও এখান থেকে সরে গেছে। তবে এখন আমাদের দিকে না এসে ওরা অন্যদিকে যাচ্ছে বলে শুনেছি। তো আমাদের আর সক্ষমতা নাই আর একটি লোককেও নেয়ার মতো। সেই কারণে আমরা বলেছি যে আমরা আমাদের বর্ডার সিল করে দিয়েছি। আমরা কাউকে এখন নেয়ার জন্য প্রস্তুত না। কারণ যারা আছে এদেরকে নিয়েই আমরা হিমশিম খাচ্ছি। আমি প্রস্তাব করেছি আমেরিকাকে, যুক্তরাজ্যকে, অন্যান্য দেশকে, যে এই লোকগুলোর এক নম্বর সলিউশন, তারা ফেরত যাক তাদের দেশে। আর তাছাড়া অন্যান্য দেশ, আমি এখানে একটা কথা বলেছি যে, বাংলাদেশে প্রতি বর্গমাইলে প্রায় ২৯০০ লোক থাকে। আর আমেরিকার প্রায় ৪০ জন লোক থাকে। অনেক বড় দেশ, অন্যান্য Scandinavian countries -এ এভারেজ ১৫ জন লোক থাকে প্রতি বর্গমাইলে। They have more resources. তো মানুষগুলো আফটার অল হিউম্যান বিং, এদের এই রিঅ্যালোকেট, রিসেটেলমেন্ট করার ব্যবস্থা করতে। আই এম ভেরি হ্যাপি, যে ইউএস সেক্রেটারি অফ স্টেট বলেছেন, দে উইল ওয়ার্ক অন রিসেটেলমেন্ট। তারা তো বিভিন্ন দেশকে এখানে নিয়ে আসেন। দেশটাতো এ ল্যান্ড অফ ইমিগ্রান্ট। আমরা আশাবাদী যে, এই মায়ানমারের সমস্যা মানে রোহিঙ্গাদের সমস্যা দূর হবে এবং অনেক দেশ out of humanitarian consideration বাংলাদেশ যেভাবে অগ্রসর হয়ে এসেছে তারাও সামনে আসবেন।

তবে এই মুহূর্তে আমাদের আর একটিও মায়ানমারের লোককে নেয়ার মতো সক্ষমতা নেই।

মনে করেন, আমাদের ক্যাম্পে যেখানে রেখেছি, সেখানে প্রতি বর্গমাইলে প্রায় আশি হাজার লোক থাকে। It is not a living, খুব দুঃখজনক! তো এই অবস্থায় আমাদের সক্ষমতার অভাব এবং আমরা সেই জন্য চাই যে অন্যান্য দেশ অগ্রসর হয়ে আসুক। এদের যদি পারসিকিউশন হয় তাহলে Others should come forward and try to help them out.

ভয়েস অফ আমেরিকা: চীন বা ভারতের সাথে এরকম কোন সংলাপ কি আপনাদের হয়েছে?

এ. কে. আব্দুল মোমেন : আমাদের সাথে ভারত এবং চীনের গভীর সম্পর্ক। আপনি জানেন, ভারতের সাথে আমাদের একটা rock solid সম্পর্ক। আমরা বিভিন্ন রকম সমস্যা আলোচনা করে সমাধান করি। এই রোহিঙ্গা ক্ষেত্রে… আপনার ভারত সিকিউরিটি কাউন্সিলের সদস্য ছিল। আমরা তাদের বলেছি। তাদের সাথে মায়ানমারের সম্পর্ক ভালো এবং তারা অঙ্গীকারবদ্ধ। আমাদের তারা বলেছেন যে, এবারে তারা বিশেষ উদ্যোগ নেবেন যাতে এই রোহিঙ্গাগুলো তাদের স্বদেশে সম্মানের সাথে ফিরে যেতে পারে। চীনের সাথে আমাদের… চীনের একটি যথেষ্ট প্রভাব আছে মায়ানমারে। সেজন্য আমরা চীনের কাছে এপ্রোচ করেছি। চীনও এক বাক্যে বলেছে, in fact they have organized, they coordinated. আমাদের বাংলাদেশ এবং মায়ানমারের মধ্যে দুই তিনটি মিটিং হয়েছে, যেগুলোতে চীন মিডলম্যান ছিল, কোঅর্ডিনেট করেছিল। তিন দেশ মিলে আমরা আলাপ করেছি এবং সেখানেও মায়ানমার বলেছে, সুখের বিষয় এটা আমাদের; গুড নিউজ ইজ মায়ানমারের বর্তমান সরকারও বলেছে যে… আমরা মায়ানমারের সাথে একটা এগ্রিমেন্ট, তিন তিনটে এগ্রিমেন্ট যে তাদের লোকগুলো তারা নিয়ে যাবে। মায়ানমার সরকার বলেছে যে আমরা আমাদের লোকগুলো নিয়ে আসবো। তারা বলেছে will provide safety and security. এটা অং সান সু চিও বলেছিল। আর এখন জান্তা সরকারও বলছে। So this is a good news.এরপর তারা আলোচনায় বসেছে। মডালিটি, লজিস্টিক… ওদের ফেরত নেয়ার প্রসেসটা কী সেই নিয়ে। কিন্তু এতসব বসে-টসে একটা লোকও এখনো ফেরত যায়নি। এইটা বড় দুঃখজনক। ইচ্ছা থাকলে উপায় হয় আমি এটাতে বিশ্বাস করি । তারা আমাদের বলেছে যে তাদের ইচ্ছা আছে, নিবে। কিন্তু এখনো নেয় নাই। এবং তাদের প্রসেস অফ আইডেন্টিফিকেশন, ভেরিফিকেশন অলসো ভেরি পুয়র। আমরা প্রায় ৮ লক্ষ ৩৮ হাজার বায়োমেট্রিক ডাটা দিয়েছি তাদের নাগরিকদের, যারা আমাদের দেশে আছে। এর মধ্যে মাত্র তারা ৪২ হাজার… এখন বোধহয় আরেকটু বেড়েছে; আইডেন্টিফাই করতে, ভেরিফাই করতে পেরেছে। সো প্রসেস ইজ ভেরি স্লো। তবে আমরা আশাবাদী যদি ইন্টারন্যাশনাল লিডারশিপ তাদের উপরে চাপ প্রয়োগ করে তাহলে কিন্তু তারা তাদের লোক নিয়ে যাবে, আগে যেভাবে নিয়েছে। আমরা আসিয়ানকেও বলেছি।

তো আমরা আশা করি ভারত, চায়না এবং অন্যান্যরা … আমেরিকা, এরা মায়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টি করবে যাতে তারা তাদের লোকগুলোকে নিয়ে যায়।

ভয়েস অফ আমেরিকা: এবারে অন্য প্রসঙ্গ। জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে ২০২৩-২৫ মেয়াদের জন্য এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের যে চারটি শূন্য আসন রয়েছে তার একটিতে নির্বাচিত হওয়ার জন্য বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা করছে এবং ১১ই অক্টোবর সম্ভবত এই নির্বাচন হবে। তো এখানে বাংলাদেশের জয়ের ব্যাপারে আপনি কতখানি আশাবাদী?

এ. কে. আব্দুল মোমেন: আমি খুব আশাবাদী। দেখেন, আমরা এই হিউম্যান রাইটস কমিশনের সদস্য বহু বছর ধরে আছি এবং আমি আশা করি এবারও আমরা জিতব। কারন আমরা পৃথিবীর মধ্যে মানবতার একটা আদর্শ দেশ। আপনার রোহিঙ্গার কথাই বলি না কেন, অন্য কোন দেশ যখন ধারে কাছে আসেননি আমরা মানবতার জন্য তাদের আশ্রয় দিয়েছি এবং তাদের রেখেছি আমাদের এখানে। আর বাংলাদেশে হিউম্যান রাইটসটা অত্যন্ত সমুন্নত। আমি শুরুতেই বলেছি আমাদের দেশের সৃষ্টিই হয়েছিল ডেমোক্রেসি, হিউম্যান রাইটস এন্ড জাস্টিস যাতে আমরা অর্জন করতে পারি তার জন্য এবং আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের দেশ ছোট দেশ। কিন্তু আমাদের জনসংখ্যা বিরাট। ১৬৫ মিলিয়ন পিপল এবং ধনী দেশ না। তো আমাদের বিভিন্ন অক্ষমতা আছে। কিন্তু আই মাস্ট সে; এইসব ব্যাপারে, হিউম্যান রাইটসে আমরা খুব সোচ্চার এবং সব দেশে আমরা এটা নিয়ে সোচ্চার। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রে অনেকে অসন্তুষ্ট হন। ইন দি ইস্যু অফ হিউম্যান রাইটস জাস্টিস, ফেয়ারনেস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি। আমরা কোথাও পিছপা না।

সুতরাং আমি বিশ্বাস করি যে, পৃথিবীর লিডারশিপ আমাদেরকে ভোট দেবে এবং এবার আমরা জয়যুক্ত হব।

ভয়েস অফ আমেরিকা: মানবাধিকারের যে নয়টি প্রধান সনদ আছে তার মধ্যে আটটিতে বাংলাদেশ অনুমোদন দিলেও গুম থেকে সব নাগরিকের সুরক্ষা পাবার অধিকারের যে সনদটি, সেটি বাংলাদেশ এখনো গ্রহণ করেনি। তো আপনার সরকার বরাবরই গুম বিষয়ে বাংলাদেশের ভেতরে এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলের দাবি অস্বীকার করে আসছে। তো সেটাই যদি আপনাদের অবস্থান হয় তাহলে সব নাগরিকের গুম থেকে সুরক্ষা পাবার যে মানবাধিকার সনদ, সেখানে আপনারা অনুমোদন কেন দিচ্ছেন না?

এ. কে. আব্দুল মোমেন:

শুনেন, আমেরিকা কয়টি আপনার আর্টিকেল গ্রহণ করেছে, বলেন। আপনার সব আর্টিকেল গ্রহণ করতে হবে না।

It is a mindset. আমাদের দেশের মাইন্ড সেট হচ্ছে হিউম্যান রাইটস-এর মাইন্ড সেট। আমাদের দেশের সামান্য কিছু হলে পরে আমরা এটা নিয়ে সোচ্চার হই, যেটা অনেক দেশেই অসম্ভব। অন্যান্য দেশের তুলনায় তুলনামূলকভাবে আমরা এসব ব্যাপারে অত্যন্ত সোচ্চার। এ দেশের স্ট্রেন্থ আমি প্রায়ই বলে থাকি আমেরিকার strength is their justice system within the country. আউটসাইডে তারা কি করে, দ্যাটস এ ডিফারেন্ট ইস্যু। বাট ডোমেস্টিকালি এভরিওয়ান হ্যাজ এ রাইট টু হ্যাভ জাস্টিস। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যত্যয় হয়। এদেশেও অনেক লোক বিনা বিচারে মারা যায়। আপনার মল এ গিয়ে, স্কুলে গিয়ে, বাচ্চাগুলোকে মেরে ফেলে। কোন কোন উগ্র লোক এসে বাচ্চাগুলোকে স্কুলে মেরে ফেলে। But these are not sanctioned by government…these are certain incidents. আমাদের দেশেও দুই-একটা ইন্সিডেন্ট হয়। These are not same. যেখানেই সরকার দেখে যে বিনা বিচারে কোন একজনের… হয়েছে তখনই সরকার কিন্তু সেখানে খুব সোচ্চার এবং সরকার tries… the best to uphold justice. সুতরাং আমি মনে করি এ ব্যাপারে, আমাদের… উই আর লিডার ইন দা ওয়ার্ল্ড, ইন টার্মস অফ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি। আর বিশেষ করে এই আওয়ামী লীগ সরকার.। বাংলাদেশের যতগুলো ইলেকশন আওয়ামী লীগ সরকার করেছে by and large they are fair and transparent.

আমার ইলেকশন যেমন ২০১৮ ইলেকশন নিয়ে যদি কথা বলি সেখানে ইউএস এর অ্যাম্বাসেডররা আমার শহরে ছিলেন। ব্রিটিশ হাইকমিশনার আমার শহরে ছিলেন ইলেকশনের দিনে। They have seen that it was a very fair election. যদিও কোন কোন জায়গায় অন্যরকম হতে পারে there is a possibility but by and large government is committed for a free, fair and transparent election process.

ভয়েস অফ আমেরিকা: এবারে আরেকটি বিষয়। সেটি হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচার। আমরা প্রায়ই শুনি কানাডাতে ‘বেগম পাড়া’, মালয়েশিয়াতে ‘সেকেন্ড হোম’, সিঙ্গাপুর, ক্যারিবিয়ান আইল্যান্ডে ব্যবসা খুলে বসা, সুইস ব্যাংকে টাকা জমা রাখা। তো এই পাচারকৃত টাকা উদ্ধারের জন্য আপনারা কী কী উদ্যোগ নিয়েছেন এবং কতটুকু সাফল্য পাচ্ছেন?

এ. কে. আব্দুল মোমেন: দেখেন আমরা তথ্য ঠিকমতো পেলে তখন টাকা স্বদেশে ফিরিয়ে আনার হোল প্রসেস নেই এবং আমরা স্বদেশে এনেছিও।

আপনি জানেন যে খালেদা জিয়ার ছেলে কোকো, ছোট ছেলে। সে যখন বিদেশে টাকা পাচার করেছিল, এই ইউএস গভমেন্টের এফবিআই আমাদের সাহায্য করেছিল এবং তারা সাহায্য করার ফলে আমরা ওই টাকাগুলো ফেরত নিয়ে এসেছি।

অনলি আওয়ামী লীগ গভমেন্ট ইন বাংলাদেশ, যারা বিদেশ থেকে পাচার করা টাকা ফেরত নিয়ে এসেছে। আর কোন সরকার আনেনি। প্রায়ই বলা হয় যে, বাংলাদেশ থেকে অনেক টাকা বিদেশে পাচার হয়। দেয়ার ইজ এ পসিবিলিটি এবং পাচার হওয়ার বিভিন্ন ফন্দি ফিকির হয়। তবে এটাও ঠিক, বিদেশের সরকারের কাছে আমরা যখন তথ্য চাই যে, আমাদের দেশের লোক আপনার দেশে গিয়ে টাকা পাচার করেছে কিনা বিদেশি একাউন্টে। উনারা এসব তথ্য দেন না। উনারা তখন বলেন যে, প্রাইভেসি এ্যাক্টে আমরা কোন তথ্য দিতে পারব না। So this is a dilemma. বিদেশ সরকারও ‘এনকারেজ’ করে টাকা পাচারে। যেমন কোন কোন সরকার বলে, আমার দেশে যদি আপনি ওয়ান মিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট করেন কিংবা এখানে তিন বছর একটি লোককে ওয়ান মিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট করে চাকরি দেন তাহলে আপনাকে আমরা ওয়ার্ক পারমিট দেবো, সিটিজেনশিপ দেব। এর ফলে they are enticing people to bring out money এবং এসে এখানে ইনভেস্ট করার জন্য। আমি চাইবো এই দেশগুলোর সরকারসমূহ আমাদের সাথে যৌথভাবে যদি কাজ করে then there will be a possibility, আমরা যে টাকাগুলো পাচার হয়েছে সেগুলো ফেরত পাব। It is not a one way trade… এটা হচ্ছে টু ওয়ে। একা টাকাগুলো সব ফেরত আনতে পারবেন না। সেজন্য বিদেশি সরকার যে সমস্ত দেশে বেশি টাকা পাচার হয় সেই সমস্ত সরকার যদি ইনিশিয়েটিভ নেয়, let’s say USA, let’s say Canada, let’s say UK. এ সমস্ত সরকার যদি বলে হ্যাঁ, আমার দেশে যারা বিদেশিরা টাকা এনেছেন আমরা তাদের ইনভেস্টিগেট করব। তখন there could be some way to find out টাকাগুলো ফেরত পাওয়া যায় কিনা। এটা তো একা সম্ভব না। Because it is a very difficult task. I am very happy যে, US government is taking some initiative এই মানি লন্ডারিং বন্ধ করার জন্য। I hope they will take some corrective actions, তার ফলে আমাদের উপকার হবে। আমরাও চাই যে, যারা টাকা বিদেশে পাচার করেছে ইল্লিগ্যালি, সেটা ফেরত আনার। We have given some option also, বিদেশে কেউ পাচার করলে যদি আপনি স্বদেশে নিয়ে আসেন, আপনাকে কম ট্যাক্স চার্জ করা হবে। কিন্তু তাতেও খুব সুবিধা হচ্ছে না।

So we have been trying a variety of ways. তবে বিদেশি সরকারের সাহায্য ছাড়া সম্ভব না।

ভয়েস অফ আমেরিকা: এই যে বিদেশি সরকারের কথা আপনি বলছেন, তো আপনার কাউন্টার পার্টের সাথে যখন আপনার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয় তখন কি আপনি এ বিষয়গুলো আলোচনা করেন?

এ. কে. আব্দুল মোমেন: সবসময়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা এটা ডিল করেন, তারা এটা সবসময় বলে থাকেন যে আপনাদের সাহায্য চাই।

ভয়েস অফ আমেরিকা: আমার পরের প্রশ্ন। কিছুদিন আগে ভারত সফর থেকে ফিরে আপনি চট্টগ্রামের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং সেই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে অনেক সমালোচনা, আলোচনা হয়েছে। এবং একটা পর্যায়ে গিয়ে দেখা গেছে যে আওয়ামী লীগের অনেক নেতারা আপনার সাথে একটা দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করেছেন। তারা এমন বক্তব্য দিয়েছেন যে, “আপনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কেউ নন,” তারা এও বলেছেন, এটি আপনার ব্যক্তিগত মন্তব্য, এটি আওয়ামী লীগের কোন কথা নয়। আওয়ামী লীগের একজন নির্বাচিত এমপি হয়ে এবং আওয়ামী লীগ সরকারের এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার পর আপনি যখন আওয়ামী লীগের নেতাদের এরকম মন্তব্য শুনেছেন, তখন আপনি কতটা কষ্ট পেয়েছেন?

এ. কে. আব্দুল মোমেন: আওয়ামী লীগে আমার সহকর্মী যারা কিংবা নেতা, তারা কেন এ ধরনের বক্তব্য দিল, উনাদেরকে জিজ্ঞেস করেন।

তবে আমি যে বক্তব্য দিয়েছি সেটা সঠিক বক্তব্য দিয়েছি।

I took some initiatives in the Foreign Ministry. মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি রোড ম্যাপ আমাদের নির্ধারণ করে দিয়েছেন। ২০২১-এ উন্নয়নশীল দেশ, ২০৪১-এ আমরা একটা ডেভলপড কান্ট্রি হতে চাই। সোনার বাংলা হতে চাই। এই সোনার বাংলা অর্জনের জন্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রোডগুলো অর্জনের জন্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আমার মন্ত্রণালয় কিভাবে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে সে সম্পর্কে আমি কয়েকটা ফিলোসফি দিয়েছি। আমার প্রথম প্যাকেজটার নাম দিয়েছি ‘ইকোনোমিক ডিপ্লোমেসি’। তা হচ্ছে যে, আমি যদি আমার এই দেশের সম্পদ এবং এই রোডম্যাপ অর্জন করতে চাই তাহলে আমার জনগণকে কাজে লাগাতে হবে। সেই জন্য ইকোনমিক ডিপ্লোমেসিতে পাঁচটা কম্পনেন্ট আমার। আমার এই পাঁচটা কম্পনেন্টের একটি হচ্ছে আমার বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। আমার ট্রেড বাড়াতে হবে, আমার গেইনফুল এমপ্লয়মেন্ট দেশে-বিদেশে করতে হবে। এর জন্য যা যা করার, স্কিল ট্রেনিং এসব করতে হবে। আমার টেকনোলজি ট্রান্সফার দরকার, আর আমার কোয়ালিটি সার্ভিস to all my diaspora as well as those will come to my mission. এটা আমার ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি। তো এটাকে strengthen করার জন্য একটি সম্পূরক কম্প্লিমেন্টারি প্যাকেজ দিয়েছি। তার নাম হচ্ছে গিয়ে পাবলিক ডিপ্লোমেসি প্যাকেজ। এর উত্তর হচ্ছে, আমি সরকারের লোক হয়ে যদি বলি, আমার দেশের গত ১৪ বছরে অভাবনীয় সাফল্য। পৃথিবীর মধ্যে ওয়ান অব দা টপ মোস্ট ইকোনোমিক পারফরম্যান্স আমাদের। হ্যাঁ, আমাদের দারিদ্রসীমা কমেছে। একসময় it was known as a bottomless basket. Now it is a vibrant economy. It is a land of opportunity. যারা এখানে ইনভেস্ট করবে দে আর উইনার্স। কারন all sources of necessary ingredients are there. আমার জনবল আছে। যথেষ্ট ইয়াং ইউথ এবং কোয়ালিফাইড স্কিলড লেবার ফোর্স আছে। এবং আমি প্রায়ই আমেরিকান কোম্পানিকে বলি, বিদেশি কোম্পানিকে বলি, if you like to be competetive in the global market come to Bangladesh. because এখানে আপনি can produce your product in a relatively affordable price. যার ফলে you can be competetive in the international market. তো আমি তাদের বলি। সেই সাথে আমি চাই যারা থিংকার আছেন, যারা পন্ডিত লোক আছেন, ইউনিভার্সিটির প্রফেসর, তারাও বলবেন দ্যাটস মাই পাবলিক ডিমান্ড।

সেই সাথে আমি চাই যারা থিংকার আছেন, যারা পন্ডিত লোক আছেন, ইউনিভার্সিটির প্রফেসর, তারাও বলবেন দ্যাটস মাই পাবলিক ডিমান্ড। তারা যদি বলেন তাহলে গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি হবে। দিস ইজ মাই সেকেন্ড প্যাকেজ। থার্ড প্যাকেজ হচ্ছে, গত কয়েক বছরে যে অভাবনীয় সাফল্য হয়েছে আমার সোশ্যাল সেক্টরে we have done better than many our neighbours. এবং অতি অল্প সময়ের মধ্যে poverty বলেন, infant death rate, maternal death rate বলেন, all the social indicators বাংলাদেশের জন্য… এটাকে ধরে রাখতে গেলে peace and stability, regional peace and stability (দরকার)। এবং এটা না হলে আমার এই অর্জনগুলো আমি ধরে রাখতে পারব না। They cannot sustain। সেকেন্ডলি শুধু আমার দেশের উন্নয়ন হলে it may not be suatainable in the long run. আমি এন্টার রিজিয়নের উন্নয়ন চাই।

তো সেই কারণে যে জিনিসটা আমি বলেছি, শেখ হাসিনা ইজ এ সিম্বল অফ স্টেবিলিটি । শেখ হাসিনা এমন এক মহিলা যিনি একটা অসাম্প্রদায়িক মন-মানসিকতার লোক।

আমাদের সমাজে সাম্প্রদায়িক কারণে ঝামেলা হয় অনেক সময়। আমরা যদি অসম্প্রদায়িক হই… বঙ্গবন্ধু একটা ফিলোসফি দিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বলতেন যে, ধর্মনিরপেক্ষ দেশ গড়বেন। অসাম্প্রদায়িক সমাজ ব্যবস্থা গড়বেন। এই এটা হলে আমরা অনেক দূর অগ্রসর হতাম। আমাদের ভারতবর্ষে সেটার কিছুটা অভাব অন্যান্য দেশে আমেরিকার মতো দেশে (ইস্যু হলো) এথনিসিটি, কালার। বাংলাদেশে আমরা একটা ফিলোসফি দিয়েছি। আমরা এটাকে বলি ‘কালচার অফ পিস’। ফিলোসফি হচ্ছে, দেশে দেশের সংঘাত, যুদ্ধবিগ্রহ এর মূল কারণ হচ্ছে একে অপরের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ । আমরা এজন্য we want to inculcate a mindset of tolerance. a mindset of respect towards each other irrespective of religion, color, race or ethnicity. আমি যে ফিলোসফিটা দিচ্ছি বা ভারতবর্ষে আমি বলেছি যে, আমাদের এই এলাকায় regional stability and peace খুব দরকার। সেই জন্য আমাদের দায় দায়িত্ব আছে এবং ভারত সরকারেরও দায় দায়িত্ব আছে। ভারত সরকার ও বাংলাদেশ সরকার উভয়ে মিলে আমাদের অঞ্চলে উই নিড টু হ্যাভ রিজোনাল প্লিস অ্যান্ড স্টেবিলিটি। তাহলে আমাদের সবারই মঙ্গল হবে। This is the issue I raised. কিন্তু অনেকেই এর ধারে কাছে কিছু বুঝতেই পারেন না।

তাদের হৃদয়ে, তাদের মন মগজে শুধু নির্বাচন। নির্বাচন নিয়েই ব্যস্ত। এজন্যই আমি বলেছি যে উনারা বুঝতে পারেননি। আমি হয়তো বোঝাতে পারিনি। কারণ তারা বাকিটুকু শুনেন নাই । বাইট শুনেছেন দুটো অক্ষরের যে, “যা যা করার তাদের আমি তা করতে বলেছি।” আর যায় কোথায়!

যা যা করার মানে কি? এই সাম্প্রদায়িক অসুবিধা যাতে না হয়। উগ্র সন্ত্রাসবাদ যদি না হয়, সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করার জন্য, সাম্প্রদায়িক উগ্রতা বন্ধ করার জন্য ভারত সরকার এবং আমাদের… আমি বলেছি Bangladesh is not isolated island in the world. অন্য জায়গায় যদি অন্যায় হয় there will be an impact. সুতরাং we have to work together. যা যা করার… যাতে শান্তি বিঘ্নিত না হয়। স্টাবিলিটি বিঘ্নিত না হয়। আমাদের পিস বিঘ্নিত না হয়। So this is a concept… we need regional peace and stability for sustainable development in the long run. এবং সেটাই আমার বক্তব্য। I don’t think I have done anything wrong. এবং আমি এটাও বিশ্বাস করি যে, আমাদের দেশে যে শেখ হাসিনার সরকার is a very progressive সরকার। অত্যন্ত প্রগ্রেসিভ সরকার এবং এই সরকার দেশে থাকলে আমাদের মঙ্গল হবে। I should as an individual, as a teacher আমি আমার ছেলেমেয়েদেরকে অবশ্যই বলব, দে শুড সাপোর্ট শেখ হাসিনা এবং তাকে টিকিয়ে রাখতে হবে। অন্যান্য দেশে… মিডল ইস্ট দেখেন আফগানিস্তানে দেখেন অশান্তি থেকে দেশটা ধ্বংস হয়ে গেল, কত রিসোর্স ছিলো। সিরিয়া মোটামুটি ভাল দেশ ছিল, ওখানে অশান্তি হয়। তারা ধ্বংস হয়ে গেছে। যে সমস্ত দেশে স্থিতিশীলতা আছে আমি স্থিতিশীলতার উপর খুব জোর দিয়েছি। সেই সমস্ত দেশ has done well for the people. মালয়েশিয়াতে মাহাথির মোহাম্মদ স্থিতিশীল ছিল। সেজন্য তার সময়ে মালয়েশিয়ার কত উন্নতি হয়েছে! আপনি দেখেন ছোট দেশ, একটা শহরকেন্দ্রিক দেশ সিঙ্গাপুর। বাপ আর ছেলে । স্থিতিশীল ছিল, সেই জন্য সে এশিয়ার একটা মিরাকল। Same if you look at in Cambodia. একই সরকার কত বছর ধরে আছে দেশে । যে সমস্ত দেশে স্থিতিশীল সরকার আছে সেখানে মঙ্গল হয়। তবে এখানে আপনি একটু বলতে পারেন । বলতে পারেন যে এমার্জিং কান্ট্রির স্থিতিশীলতা দরকার। যারা একবার ডেভেলপ্ড হয়ে গেছে, তারপরে there could not be changes. তাদের খুব বেশি অসুবিধা হয় না। কিন্তু যেগুলো ডেভলপিং এমার্জিং কান্ট্রি, ইস্যু অফ স্টেবিলিটি ইজ ভেরি ইম্পর্টেন্ট।

ভয়েস অফ আমেরিকা: যদিও কম্বোডিয়ার হুনসেনের ক্ষেত্রে কিন্তু তাদের মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন আছে।

এ. কে. আব্দুল মোমেন : কোশ্চেন আছে কিন্তু তাদের মানুষের আগের অবস্থান থেকে অনেক উন্নতি হয়েছে।

ভয়েস অফ আমেরিকা: আমি শেষ প্রশ্ন চলে যাই। বাংলাদেশে সাজাপ্রাপ্ত আসামী, যারা বিদেশে আছেন, যাদের মধ্যে তারেক জিয়াও আছেন, তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা ভোগ করানোর ব্যাপারে আপনারা কোন উদ্যোগ নিয়েছেন কি?

এ. কে. আব্দুল মোমেন: আমরা সবসময়ই চাই যে পিপল শুড ফেস জাস্টিস। যারা বাংলাদেশের লিগাল প্রসেসে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং বিদেশে আছেন দে শুড কাম ব্যাক।

আমরা সেই জন্য, সে সমস্ত সরকারকে সব সময় অনুরোধ করি যে, আপনার দেশে এরকম একটা fugitive আছে তাকে পাঠান।

আমরা রিকোয়েস্ট করেই যাচ্ছি এবং আমাদের perception is তাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। এবং তারা এই সাজা প্রাপ্ত লোকগুলোকে পাঠাবে। Same case applies to USA. একটা সাজাপ্রাপ্ত লোক আমাদের দেশে বিচার হয়েছে, বিভিন্ন প্রসেসে তার বিচার হয়েছে। সে একটা খুনি, সে এখানে আছে। এখনো আছে। আমরা আশা করি আমেরিকা তাকে আমাদের দেশে পাঠাবে। তারা আগেও পাঠিয়েছে আরেকজনকে, এবারও hopefully they will meet it.

ভয়েস অফ আমেরিকা: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদেরকে সময় দেওয়ার জন্য।

সূত্র: ভয়েজ অব আমেরিকা