২৩ বছর পূর্ণ হলো রমন লাম্বার মৃত্যুর

ফিল্ডিংয়ের সময় মাথায় বল লেগে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, অতঃপর অকাল মৃত্যু। ভারতের জাতীয় দলের নিয়মিত মুখ রমন লাম্বার কথা মনে আছে তো? আবাহনীর হয়ে ১৯৯৮ সালে ঢাকার লিগ খেলতে এসে সেই সময়ে যার মৃত্যু, নাড়িয়ে দিয়েছিলো গোটা ক্রিকেট বিশ্বকে। আজ ২৩ ফেব্রুয়ারি। ক্যালেন্ডারের পাতায় ২৩ বছর পূর্ণ হলো রমন লাম্বার মৃত্যুর। অথচ এত বছরেও দেশের ক্রিকেটের কোথাও, ধরে রাখা হয়নি রমন লাম্বার স্মৃতি। যা নিয়ে আক্ষেপ ঝড়লো তার সতীর্থদের।

তার গায়ে সবসময়ই থাকতো তারুণ্যের গন্ধ। ৩৮শে এসেও খেলতেন তরুণদের মতোন, মৃত্যুও হলো সেই তারুণ্যেই। তিনি আমাদের ক্রিকেটের প্রথম ভিনদেশি তারা। তিনি আমাদেরই একজন, অতি আপনজন রমন লাম্বা। খ্যতিমান হয়েও এদেশের উদীয়মানদের যিনি ক্রিকেট শিখিয়েছেন পরম যত্নে।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় জাবেদ ওমর বেলিম বলেন, ও যেমন ৭০-৮০ বলে পঞ্চাশ করতো, তেমনি পরবর্তী ২৫ বলেও পঞ্চাশ করতো।

খালেদ মাসুদ পাইলট বলেন, অ্যাটাকিং খেলোয়াড় ছিলো সে। তার কাছে শেখার অনেক কিছুই ছিলো।

ঢাকা লিগে রমন খেলছেন ৯২ থেকে। দলকে জিতিয়েছিলেন একাধিক শিরোপা। ব্যাটে বইয়েছেন রানের ফোয়ারা, বোলিংয়েও ছিলেন অদম্য।

সিনিয়র সাংবাদিক শামসুল টিংকু বলেন, যেদিন ঘটনাটি সেদিনটি ছিলো শুক্রবার। আমি নামাজ পড়ে এসে দেখি সে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। পবিত্র কুণ্ডু

১৯৯৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি। লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মোহামেডানের মুখোমুখি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী। ১৫৮ রানে পুঁজি নিয়ে জিততে হলে করতে হতো ব্যাতিক্রম কিছু। তাই করেছিলেন আকাশী নীলদের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট। তবে তার মূল্য এভাবে দিতে হবে কে জানতো!

কালক্ষেপণ হয়েছে আঘাত পাওয়ার পরেও। দ্রুত হাসপাতালে নিতে হয়েছে গড়িমসি। ফলাফল রমনের অকালে ঝড়ে যাওয়া।

স্বামীর আঘাতের খবরে বাংলাদেশে ছুটে এসেছিলেন রমনের স্ত্রী কিম লাম্বা। উদাসী চাহুনী আর ভেজা চোখে দায় চাঁপিয়েছিলেন আবাহনী কর্তাদের। আর লম্বার এমন চলে যাওয়ার স্মৃতিটা এখনও তাড়িয়ে বেড়ায় মেহরাব হোসেন অপিকে। ফেব্রুয়ারির এই নির্দিষ্ট তারিখের প্রতিটা রাত নির্ঘুম কাটে তার।

রমন লম্বার মৃত্যুর পর বিসিবি কথা দিয়েছিলো ধরে রাখতে উদ্যোগ নেয়া হবে তার স্মৃতি। কিন্তুর রাজনীতির ম্যারপাচে কথা না রাখার দায়ভার কারো ওপরই চাঁপেনি।

সূত্র: সময় টিভি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।