হুমায়ূন-শাওন: একটি আনসলভড ট্রাজেডি

শেখ তসলিমা মূন: মানুষ নিভৃতে তার একটি ‘আপন’ জীবন যাপন করে। কিংবা প্রকাশ্যে। এমন কি প্রকাশ্য বা ফেমাস মানুষও তার নিজের জীবনটি যাপন করেন তার ব্যক্তিজীবনের পারিপার্শ্বিকতা ও পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে। তার একান্ত জীবনটির জন্য জবাদিহিতা নেই, থাকা উচিত নয় কারও কাছে, যে পর্যন্ত সে অন্যের ক্ষতি না করছে।
কিন্তু ভালবাসা একটি জীবনের কমপ্লেক্স এরিয়া। এটা এমন যে ইচ্ছের বিরুদ্ধেই ভালবাসার পাত্রপাত্রীরা নিজেদের আঘাত করে যায়। এ এক অমোঘ নিয়তি।
এজন্য ভালবাসা মনে হয় এমন, যার সাথে জড়িয়ে থাকে দহন, মিলন এবং বিচ্ছেদে। না মেনে কোন উপায় নেই।
ভালবাসার ক্ষেত্রে দন্ড থাকা উচিত নয়। কিন্তু আমরা দন্ডিত করি।
এমন কি অনেক হাজার বিষয়ের কোন উত্তর নাই কিন্তু তবুও কাউকে বিচার করার নেই।
যে মুহূর্তে দুজন মানুষ একটি সম্পর্কে প্রবেশ করে তাদের মানতে হয়, এ সম্পর্কে কিছু জিনিস ঢুকে গেল। মিলন এবং বিচ্ছেদ, মানুষের পরিস্থিতি। কিন্তু মানতে যে আমরা পারিনা সেখানেই সকল কষ্টের উৎস।
আর এই মানতে না পারার কারন আমাদের ভালবাসাকে ‘চিরন্তন’ ‘শাশ্বত’ ‘অপরিবর্তনীয়’ হিসেবে দ্যাখা। ভালবাসাকে একটি ‘নিরাপত্তা’ ‘আশ্রয়’ হিসেবে গণনা করা। যেন একটি শেকড়। মানুষ শেকড়চ্যুত হতে চায়না। মানুষ আশ্রয়চ্যুত হতে চায়না। মানুষ স্নেহচ্যুত হতে চায়না।
বিচ্ছেদ ভয়াবহ। বিচ্ছেদে কষ্ট না থাকা প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে মুক্তি আনন্দ।
বলছিলাম হুমায়ূন আহমেদ বিষয়ে।
বিয়ে, বিচ্ছেদ, অসম প্রেম, নতুন সংসার, নতুন বাচ্চা – অপেক্ষাকৃত নতুন ফেনোমেনা আমাদের দেশে। তবু মানুষ অভ্যস্ত হচ্ছে। আরও হবে। জীবনের প্রয়োজনে।
এখনও জবাদিহিতার কাঠগড়ায় এ পরিবারটি। এক আনসলভড ট্রাজেডি। সীমাহীন কমপ্লেক্স। তবু একটি বিষয় সুস্পষ্ট, যা এড়ানোর উপায় নেই, তা নিয়েও মাথা উঁচু করে বাঁচা যায়। সময় মানুষকে একটি অবস্থান এনে দেয়। একজন তরুণী ভার্যা ও ইয়াং চিল্ড্রেন যেমন বাবার জন্য কস্ট পায়, কষ্ট পায় জীবনের অনেক বছর একসাথে যাবার স্মৃতিপূর্ণ সম্পর্ক, অবহেলা এবং অবহেলিত সন্তানেরা। অভিমান কঠিন। তাকে প্রশ্ন করা যায়না।
সম্পর্ক সহজ নয়। একেবারে নয়।
সব ছাপিয়ে হওয়া দরকার মানবিক। ভাবতে চেষ্টা করি, কেন মানুষকে অনেক পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যেতে হয়? সে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার দায়িত্ব তার, যার জীবন ঘটনা কবলিত।
জীবনের কোন নির্দিষ্ট ডায়াস নেই। সবার জীবন ইউনিক! প্রতিটি মানুষের জীবনের ভেতর আমরা আমাদের নিজেদের জীবনের কিছুটা অংশ দেখি।
এমন কি নিজেদের জীবনের অপছন্দের, অক্ষমতা আমাদের উদ্বেলিত করে!
হুমায়ূন আহমেদ লেখক হিসেবে যতটা আলোচিত আমার মনে হয় তার ব্যক্তিজীবন তার থেকে হাজার গুন আলোচিত।
মরণেও নেই তার সমাপ্তি! শান্তি হোক মানুষের!
Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email