Skip to content

“হিন্দুরা ধর্ম বদলালে সংরক্ষণের সুবিধা মিলবে না,” নয়া দাবি নিয়ে আন্দোলনে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ





আমাদের ভারত, ১৮ অক্টোবর: জন্ম নিয়ন্ত্রণ আইন চালুর পক্ষে বেশ কিছু দিন ধরেই সাওয়াল করেছে আরএসএস। শীঘ্রই এই সংক্রান্ত বিল আনার দাবিতে আন্দোলনে নামতে চলেছে তারা বলেও খবর। তাদের দাবি, দেশে ক্রমাগত হিন্দুদের জন্মের হার কমছে। একইসঙ্গে জাতীয় বর্ণের ধারণাও সম্পূর্ণভাবে অবলুপ্ত করতে তৎপর তারা। এরমধ্যে আর একটি নতুন আন্দোলনে নামতে চলেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। পরিষদের দাবি, ধর্মান্তকরণের মাধ্যমে হিন্দু থেকে মুসলমান খ্রিস্টান হচ্ছেন যারা তাদের সমস্ত সংরক্ষণের সরকারি সুবিধা যেন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ধর্ম বদল করলে তাদের লেখাপড়া, চাকরি সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সংরক্ষণের যে সমস্ত সুবিধা রয়েছে সেগুলো তাদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া উচিত। এই দাবি নিয়ে একটি বড়সড় আন্দোলনে নামতে চলেছে বিশ্বহিন্দু পরিষদ।

নয়া আন্দোলনে নামার তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। পরিষদ চায় ধর্মান্তকরণের মাধ্যমে যারা হিন্দু থেকে মুসলমান বা খ্রিস্টান হচ্ছেন তাদের সংরক্ষণের সরকারি সুবিধা দেওয়া বন্ধ হোক। অর্থাৎ জাতি উপজাতি অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির হিন্দুরা যদি ধর্ম বদল করেন তবে তাদের লেখাপড়া চাকরি সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সংরক্ষণের সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিষদ মনে করছে এই নীতি চালু হলে দেশে ধর্মান্তকরণ কমবে। পরিষদ ইতিমধ্যেই এই নিয়ে বড় মাপের আন্দোলনে নামতে “সামাজিক সমরসতা অভিযান” নামে কর্মসূচি নিয়েছে।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা দেওজিভাই রাওয়াত সোমবার দু’দিনের সফরে কলকাতায় এসেছেন। রাজ্যে ধর্মান্তকরণ কোন পথে আটকাবে এই নিয়ে রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক হয় তার। একটি আলোচনাতেও যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে পরিষদের পক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা ছিলেন। এই নয়া আন্দোলন নিয়ে রাওয়াত বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়ার কথা শুধুমাত্র হিন্দুদেরই। কারণ জাতপাতের কারণে হিন্দুসমাজের বঞ্চিত অংশকে তাদের আর্থিক সামাজিক প্রতিষ্ঠার জন্যই সংরক্ষণ। মুসলমান বা খ্রিস্টান ধর্মে এমন কোনো জাতিভেদ নেই বলেই দাবি করা হয়। তাই হিন্দু থেকে যারা মুসলমান খ্রিস্টান হচ্ছে তারা সংরক্ষণ পাওয়ার যোগ্য নন। পরিষদের তরফেও দাবি করা হয়েছে যে, কেন্দ্রকে আগে এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পরিষদের এই প্রস্তাব কতটা যুক্তিযুক্ত তা খতিয়ে দেখতে সরকার ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি কেজি বালকৃষ্ণণের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করেছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ওই কমিশনের কাছেও নিজেদের এই দাবি জানাবে। পশ্চিমবঙ্গে সেই মতো কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে বলে পরিষদ সূত্রে খবর। পরিষদের তরফ দাবি করা হয়েছে, দক্ষিণবঙ্গে বেশ কিছু সংখ্যক হিন্দুদের ধর্মান্তরিত করে খ্রিস্টান করা হচ্ছে। দুই মেদিনীপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রত্যন্ত এলাকায় এই ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে তাদের অভিযোগ।

আন্দোলনে নেমে পরিষদের তরফে প্রচারে বলা হচ্ছে, ১৯৫০ সালের সংবিধান শুধুই হিন্দুদের সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। পরে ১৯৮৫ সালে সংরক্ষণের আওতায় শিখ ও বৌদ্ধ ধর্মের কিছু অংশকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও খ্রীষ্টান ও মুসলমানদের সংরক্ষণের অধিকার সংবিধান স্বীকৃত নয়।



বার্তা সূত্র

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ সংবাদ