Skip to content

হালুয়াঘাটে দুই গারো স্কুলছাত্রী ধর্ষণ, সপ্তাহ পেরোলেও নেই গ্রেফতার

হালুয়াঘাটে দুই গারো স্কুলছাত্রী ধর্ষণ, সপ্তাহ পেরোলেও নেই গ্রেফতার
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে আদিবাসী দুই গারো স্কুল শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় সপ্তাহ পার হলেও এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে পুলিশ বলছে অভিযুক্তদের গ্রেফতারে সর্ব্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় এখনো অভিযুক্ত কেউ গ্রেফতার না হওয়া ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় আদিবাসীরা।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর রাতে হালুয়াঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী ৫ নং গাজিরভিটা ইউনিয়নের ডুমনিকুড়া গ্রামের ১৬ বছর বয়সী স্থানীয় একটি স্কুলের দশম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী পাশের গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান গিয়েছিল। বাড়ি ফেরার পথে হত্যার ভয় দেখিয়ে তাদের গণধর্ষণ করে স্থানীয় একদল বখাটে। মেয়েদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে পরিবারের সদস্যরা তাদেরকে খুঁজতে বের হয়। পরে তাদের দুজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

প্রথমে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা কাউকে জানালে নির্যাতিতদের হত্যার হুমকি দেওয়ায় আদিবাসী পরিবারের লোকজন ভয়ে মুখ খুলতে পারছিল না। পরে ঘটনাটির জানাজানি হলে ২৯ ডিসেম্বর হালুয়াঘাট থানার ওসির নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে ৩০ ডিসেম্বর ১০ জনকে আসামি করে হালুয়াঘাট থানায় একটি মামলা করেন নির্যাতিতা এক কিশোরীর বাবা।

মামলায় অভিযুক্তরা হলো, কচুয়াকুড়া গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে সোলায়মান হোসেন রিয়াদ (২২), শহীদ মিয়ার ছেলে শরিফ (২০), আবদুল হামিদের ছেলে এজাহার হোসেন (২০), কাটাবাড়ি গ্রামের জামাল উদ্দিনের ছেলে রমজান আলী (২১), তালেব হোসেনের ছেলে কাউছার (২১) দুলাল মিয়ার ছেলে আছাদুল (১৯) মাহতাব উদ্দিনের ছেলে শরিফুল ইসলাম (২১), আবদুল মতিনের ছেলে মিজান (২২), মফিজুল ইসলামের ছেলে রুকন (২১) ও বকুল মিয়ার ছেলে মামুন (২০)।

এদিকে, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে সোমবার বিকেলে গারো আদিবাসী লীগ, মধ্য ও দক্ষিণ বাংলাদেশ শিশু উন্নয়ন প্রকল্প, সাধু পিতরের নিন্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যানারে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে বিক্ষুব্ধ মানুষ। এসময় আদিবাসীদের সঙ্গে অংশ নেন বাঙালিরাও। গারো আদিবাসী ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় সপ্তাহ পার হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার না করতে পারায় হতাশা ব্যক্ত করেন বক্তারা।

গারো আদিবাসী লীগের সভাপতি তুরষ দাংগ বলেন, ধর্ষক কারো ভাই বা বন্ধু হতে পারে না। আমরা এ দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা সে জন্যই গত কয়েকদি কোন আন্দোলন করেনি। কিন্তু আমরা এখন দেখছি আমাদের পুলিশ প্রশাসন এখনো আসামীদের ধরতে পারেনি। আমরা আদিবাসীরা হতাশ হয়েছি। আমরা কি বিচার পাবো না? যদি আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা না হয়, তাহলে আমরা সারাদেশে গারো সম্প্রদায় অচিরেই মাঠে নামবো।
বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংসদের (বাগাছাস) হালুয়াঘাটের প্রাক্তন সভাপতি জেমস জিদিল রেমা বলেন, এ ধরনের ঘটনা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী গ্রামে এর আগে ঘটেনি। নির্যাতনের পর হত্যার হুমকি দেওয়ায় বিষয়টি জানাজানি হয়নি। তারা ধর্ষকদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন। অতি দ্রুত আসামি গ্রেফতার না হলে তারা কঠোর কর্মসূচি দেবেন।

হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীনুজ্জামান খান বলেন, খবর পেয়ে নির্যাতিতা পরিবারকে থানায় নিয়ে এসে মামলা নেওয়া হয়েছে। মামলার পরই আসামীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে সর্ব্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে আমাদের কোন গাফিলতি নেই।

এবিএন/মঈন উদ্দিন রায়হান/জসিম/তোহা



বার্তা সূত্র