Skip to content

হাইকোর্টের ধমকের পরেও শোধরাল না পুলিস! সন্দেশখালি নিয়ে নয়া চাল, ঘুর পথে জারি ১৪৪ ধারা

moumi 20240214 124309 0000

বাংলা হান্ট ডেস্ক : গতকালই সন্দেশখালিতে (Sandeshkhali) ১৪৪ ধারা বাতিল করেছে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। কেন গোটা সন্দেশখালি জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করেছে তার জবাব চাইলে যথার্থ তথ্য দিতে পারেনি রাজ্য। এরপরই বাতিল করা হয় ১৪৪ ধারা। আর এবার আদালতের গুঁতো খেয়ে নয়া চাল চালল রাজ্য। আদালতের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মোট ১৯টি জায়গায় জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা।

এখানে বলে রাখা ভালো, যে ১৯টি জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে এই ১৯টি জায়গা মূলত সন্দেশখালির প্রবেশপথ। বিরোধীদের মতে, আন্দোলন থামাতেই এই পন্থা নিয়েছে রাজ্য‌। সূত্রের খবর, সন্দেশখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের সন্দেশখালি ঘাট, খুলনা ঘাট, বোলাখালি ঘাট, ত্রিমণি বাজার, পাত্র পাড়া রয়েছে। এই পাত্র পাড়া থেকেই মূলত আন্দোলন শুরু হয়েছিল। এছাড়াও দুর্গামণ্ডপ জিপির গাববেড়িয়া মার্কেট, দুগুড়ি পাড়ায় জারি রয়েছে ১৪৪ ধারা।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই দাউদপুর নিয়ে বেশ চিন্তায় রয়েছে শাসকদল। কারণ, দাউদপুরে বিজেপির দখল রয়েছে। এখানেই বিক্ষোভের হাওয়া বেশি শক্ত। সেই কারণে এই এলাকাতেও ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। এদিকে নতুন করে ১৪৪ ধারা জারি করা হল ধামাখালি ঘাট, হালদার পাড়া, পিঁপড়ে খালি ঘাট সহ আরও একাধিক জায়গায়।

এই প্রসঙ্গে এইদিন বাম সমর্থক তথা প্রখ্যাত আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ‘এটা প্রমাণ করে প্রশাসন চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ। গতকাল আদালত ওদের ১৪৪ ধারা বাতিল করেছে। প্রয়োজন পড়লে ১৪৪ ধারা কার্যকর করতে বলেছে। কিন্তু এখন ওখানে কীসের প্রয়োজন ১৪৪ ধারার? আসলে মানুষের আন্দোলন আটকে রাখাই মুল উদ্দেশ্য।’

কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও। তিনি বলেন, “ওরা ভয় পাচ্ছে। ওরা বুঝে গেছে এই তত্ত্ব বাইরে গেলে মুখ পুড়বে। ভারতে এমনই ছি ছি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ভাবেও যদি বিষয়টি বাইরে যায় তাহলে নিন্দা হবে।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সন্দেশখালিতে প্রবেশ করার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিজেপি দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। একইরকমভাবে ১৪৪ ধারা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল বাম কর্মী সমর্থকরাও।

তখনই কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত জানান, গোটা এলাকাজুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করার তো কোনও প্রয়োজন নেই। তিনি আরও বলেন, কতটা অঞ্চল জুড়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, সেটা উল্লেখ করা হয়নি ১৪৪ ধারা জারির বিজ্ঞপ্তিতে। এই বিষয়ে প্রশাসনকে ভর্ৎসনাও করেন তিনি। সেই ঘটনার পরেই আজ সন্দেশখালির ১৯টি জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করল রাজ্য।

বার্তা সূত্র