Skip to content

সেদিন হলি আর্টিজানে গেলে কি বেঁচে থাকতাম : মিতু

সেদিন হলি আর্টিজানে গেলে কি বেঁচে থাকতাম : মিতু

প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে সেন্সর বোর্ডে আটকে আছে তারকা নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘শনিবার বিকেল’ সিনেমাটি। নির্মাতার দাবি, ‘ফারাজ’ মুক্তির আগেই ‘শনিবার বিকেল’ মুক্তি দিতে হবে। ফারুকীর পাশাপাশি অন্যান্য নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা সিনেমাটি মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। ঢাকাই সিনেমার নতুন প্রজন্মের নায়িকা জাহারা মিতুও তাদেরই একজন।

এদিকে ‘শনিবার বিকেল’ মুক্তির দাবি জানাতে গিয়ে একটি বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৭’ প্রতিযোগিতার প্রথম রানার আপ মিতু। তার ভাষ্যমতে, রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজানে যেদিন জঙ্গি হামলা হয়, সেদিন সেখানে তার জন্য একটি টেবিল বুকিং দেওয়া ছিল!

চিত্রনায়িকা জাহারা মিতুর স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হল-

হলি আর্টিজানের একটি টেবিল সেদিন আমাদের নামে বুকিং ছিলো। হলি আর্টিজানের ঘটনার দিন আমি ইসলাম গ্রুপে কর্মরত ছিলাম। ডেনমার্ক থেকে সেদিন বেস্টসেলারের জেডিওয়াই ব্র্যান্ড ম্যানেজার পারনিল এবং ক্রিসটিন এসেছিলো ফ্যাক্টরি ভিজিট করতে। একে তো রোজার মাস, তার উপর এতোগুলো ফ্লোরে ভিজিট এবং সারাদিন মিটিং করার পর শরীর আর চলছিলো না। রোজায় ধরা যাকে বলে, আমার অবস্থা ঠিক যেনো তাই। আমি, মার্চেন্ডাইজিং ম্যানেজার আমিনুর ভাই এবং বায়ার দুজন মিটিং শেষ করে আশুলিয়ার জামগড়া থেকে একটি প্রাইভেটকারে রওনা দিলাম গুলশানের উদ্দেশ্যে। গন্তব্য হলি আর্টিজান। আগে থেকেই আমাদের নামে টেবিল বুকিং দেওয়া ছিলো। ওখানকার ফ্রেন্চ ব্রেড আমাদের ইউরোপীয়ান বায়ারদের খুব পছন্দের ছিলো।

কিছুদূর যাওয়ার পর আমার পেটে ব্যাথা শুরু হলো। আমিনুর ভাইয়ের কানে কানে বললাম, ‘আজ আমার না গেলে হয় না?’ তিনি বললেন, ‘স্যার তো রাগ করতে পারে। দায়িত্ব তো আপনার।’

জানিনা আমার সেই গলার স্বর পার্নিল বুঝতে পেরেছিলো কিনা। সে বলল, আজ আর আমরা বাহিরে না বসি। হোটেল থেকেই কিছু একটা অর্ডার করে খেয়ে নিব। সে যাত্রায় এভাবেই আমাদের রক্ষা। আমি নেমে গেলাম উত্তরা আমার বাসার সামনে।

ইফতার করে, মোবাইল চার্জে দিয়ে নামাজ না পড়েই ঘুমিয়ে গেলাম। যখন ঘুম ভাঙলো তখন দেখি আমার ছোটবোন আমাকে জড়িয়ে ধরে চিল্লাপাল্লা শুরু করেছে। এতোগুলো ফোন দেওয়ার পরও ফোন ধরিনি কেনো। ও ফিরছিলো নিউমার্কেট থেকে। বনানীতে সব গাড়ি আটকে দেওয়ায় ও বনানী থেকে উত্তরা এসেছিলো প্রচুর কষ্টে। আমি বাসায় নাকি গুলশান খোঁজ নেওয়ার জন্য।
আব্বু-আম্মু তখন চট্টগ্রাম থাকতো। আমি আর সেতু ঢাকায়। এখনও ভাবি, যদি সত্যিই ওখানে সেদিন যাওয়া হতো! আমি কি বেঁচে থাকতাম? আমি আর আমিনুর ভাই দোয়া পারি, হয়তো দয়া করে ছেড়ে দিলেও দিতো, বায়ার দুজন কি বাঁচতো?

এই ঘটনার পর থেকে কোনো রেস্টুরেন্টে বসে থাকা আমার কাছে সেইফ মনে হয় না। আমি খুব আতঙ্কে থাকি রেস্টুরেন্টে গেলে। একটা মানুষিক ট্রমা বলা যেতে পারে। এখন লিখতে অনেক সহজ লাগে, তখন কিভাবে দিনকাল কাটিয়েছি আমি জানি।

যেই ঘটনার প্রত্যক্ষ ছাপ আমার জীবনে রয়েছে, সেই ঘটনা নিয়ে আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে ছবি অবশ্যই আমরা দেখতে চাই। ভালো লেগেছে ফারাজ-এর মত ন্যাশনাল হিরোকে নিয়ে যখন অন্য ইন্ডাস্ট্রি ছবি বানায়। তবে এটাও ভালো লাগবে, যদি সেই সাথে ‘শনিবার বিকেল’ সিনেমাটি আমরা দেখতে পারি। ‘শনিবার বিকেল’ মুক্তি পাক। যদি কোনো সংশোধনের জায়গা থাকে, তবে সেটাও করা হোক।



বার্তা সূত্র