সাধারণ শয্যা খালি, আইসিইউ সংকট

দুটি সিটি করপোরেশনসহ চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলার মধ্যে বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত বন্দরনগরে করোনা শনাক্ত ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। অন্য জেলা শহরগুলো থেকেও বিভাগীয় এই শহরের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে করোনা রোগী ভর্তি হচ্ছে। রোগীর বেশির ভাগই বাসাবাড়িতে চিকিৎসা নেওয়ায় নগরের হাসপাতালগুলোতে অর্ধেকের বেশি সাধারণ শয্যা এখনো খালি। তবে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) শয্যাসংকট রয়েছে।

করোনা চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক এবং চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য পর্যালোচনা করে জানা যায়, সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টার হিসাবসহ চট্টগ্রাম বিভাগে এ পর্যন্ত মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে এক লাখ পাঁচ হাজার ৪২৭ জন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ চট্টগ্রামে ৫৩ হাজার ৯৬০ জন, যা বিভাগের মোট শনাক্তের ৫১.১৮ শতাংশ। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরে ৪২ হাজার ৮৭৫ জন, যা বিভাগে মোট শনাক্তের ৪০.৬৭ শতাংশ।

বিভাগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টার হিসাবসহ মোট এক হাজার ৬৩২ জন মারা গেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ৬২৬ জন। এটি বিভাগে মোট মৃত্যুর ৩৮.৩৬ শতাংশ। আর চট্টগ্রামে মোট মৃত্যুবরণকারীর মধ্যে নগরে রয়েছে ৪৪৮ জন, যা বিভাগে মোট মৃত্যুর ২৭.৪৫ শতাংশ। সর্বশেষ এসব পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে এখনো ১১ জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত ও মৃত্যু চট্টগ্রামে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি গতকাল শনিবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, আজ (গতকাল) নগরের করোনা চিকিৎসার হাসপাতালগুলোতে ৭০ শতাংশ সাধারণ শয্যা খালি আছে। আর আইসিইউয়ের সংখ্যা আগের চেয়ে বাড়লেও সংকট আছে। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে ৮০ শতাংশের অবস্থাই জটিল।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের আইসিইউ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হারুন উর রশিদ বলেন, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য আইসিইউতে ১০টি শয্যা আছে। এখানে শয্যা খালি থাকে না। অনেক সময় শয্যা খালি না থাকায় রোগী ভর্তি নেওয়া যায় না।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও করোনা চিকিৎসাসেবার প্রধান সমন্বয়কারী ডা. আবদুর রউফ গতকাল বলেন, হাসপাতালের আইসিইউতে ১৮টি শয্যার মধ্যে ১৫টিতে রোগী ভর্তি আছে। তবে করোনার সাধারণ শয্যায় ১৪০টির মধ্যে এখন গড়ে দৈনিক রোগী থাকে ৪৫ থেকে ৫০ জন।

এদিকে চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা আছে ২৬টিতে। হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা আছে ১৭১টি। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে আছে ৪৭টি। ৮০টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটরের মধ্যে সরকারিতে রয়েছে ৫৬টি। নগরে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ৮৮টি আইসিইউ আছে। এর মধ্যে সরকারিতে আছে ৩৮টি। তবে এসব আইসিইউ প্রয়োজনের তুলনায় অতি কম বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান।

এদিকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর সপ্তাহখানেক দেশে করোনায় দৈনিক মৃত্যুর হার চট্টগ্রাম বিভাগে বেশি ছিল। অনেকে বলছে, সংকটাপন্ন করোনা রোগীরা যথাসময়ে হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ শয্যা পাচ্ছে না। আবার কিছু রোগী হাসপাতালে যখন চিকিৎসা নিতে আসছে, তখন তাদের শারীরিক অবস্থা অনেক খারাপ থাকে। আবার কোনো রোগী করোনা-পরবর্তী নানা জটিলতায় মারা যাচ্ছে বলে চিকিৎসকরা জানান।

বার্তা সূত্র

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email