Skip to content

সংঘর্ষে রণক্ষেত্র চট্টগ্রাম, গুলিবিদ্ধ ১ | কালবেলা

চট্টগ্রামে পুলিশের সঙ্গে হকারদের সংঘর্ষে চসিকের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর। ছবি : কালবেলা

ফুটপাতে অবৈধ স্থাপনারোধে মনিটরিং কার্যক্রম চলাকালে চট্টগ্রামে পুলিশের সঙ্গে হকারদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশসহ বেশ কয়েকজনের আহতের খবর পাওয়া গেছে। সংঘর্ষে বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টার সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় নগরের নিউমার্কেট, জহুর হকার্স এবং আমতলাসহ এর আশপাশের এলাকা। পুলিশের শর্টগানের গুলিতে নাজিম উদ্দিন নামের এক হকার গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে দাবি করেছেন হকার নেতারা।

সোমাবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের নিউমার্কেট ও এর আশপাশের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

হকার ফেডারেশনের সভাপতি মিলন হোসেন মিলন কালবেলাকে বলেন, ‘আজকে ম্যাজিস্ট্রেট এসে আমাদের কয়েকজন হকারকে জরিমানা করেছেন। একজন হকার নেতাকে কারাদণ্ড দিয়েছেন। প্রতিবাদ জানাতে গেলে পুলিশ আমাদের ওপর গুলি চালায়। নাজিম উদ্দিন নামের এক হকারের গুলি লেগেছে। তাকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (চমেক) নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার চোখের এক পাশে গুলি লেগেছে।’

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) অভিযান চলাকালে হঠাৎ চড়াও হয় হকাররা। এ সময় তারা চসিকের টিমের ওপর হামলা চালায়। ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফাঁকা গুলি করা হয়েছে। তবে এতে কেউ গুলিবিদ্ধ হয়নি।

ওসি ওবায়দুল হক বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শটগান থেকে গুলি ছুড়লেও কেউ গুলিবিদ্ধ হননি।

এদিকে কালবেলার হাতে আসা কয়েকটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, হকারদের হামলার হাত থেকে বাঁচতে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন সংলগ্ন পাবলিক টয়লেটে অবস্থান নেয় চসিক মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেমসহ আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। এ সময় রিয়াউদ্দিন বাজারের পাশ থেকে তাদের দিকে পাথর ছোড়া হচ্ছিল। পাথরের আঘাত থেকে বাঁচতে একপর্যায়ে পাবলিক টয়লেটের গ্রিল টেনে দেওয়া হয়। পরে পুলিশের দুজন সদস্যকে গুলি ছুড়তে দেখা গেছে।

এর আগে দুপুরে চট্টগ্রামের ফলমুণ্ডি থেকে আমতলা পর্যন্ত অবৈধ স্থাপনা রোধে মনিটরিংয়ে যায় চসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় হকারদের সঙ্গে চসিকের কর্মকর্তাদের বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে নিউমার্কেট মোড়ে জড়ো হয়ে চসিকের কর্মকর্তাদের ওপর চড়াও হয় হকাররা। সেখানে চসিকের চারটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পুলিশও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে। প্রায় এক ঘণ্টা চলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া।
চসিক মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম কালবেলাকে জানান, ফুটপাত ও সড়কে পুনঃদখল ঠেকাতে অভিযানে গিয়েছিল চসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় হকারা আকস্মিক হামলা চালায়। এতে চসিকের ২টি ডাম্প ট্রাক, একটি পিকআপ এবং একটি এরিয়াল লিফট ভাঙচুর করা হয়। পুলিশের তিনজন সদস্য এবং চসিকের ৪ জন স্টাফ আহত হয়। ঘটনার ফুটেজ আমাদের কাছে আছে। ভিডিও ফুটে দেখে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার নগরের ফলমুণ্ডি লেইন, পুরাতন রেলস্টেশন, রিয়াজউদ্দিন বাজার, নতুন রেলস্টেশন, নিউমার্কেট, তামাকুণ্ড লেইন, আমতলাসহ আশপাশের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রায় এক হাজার ভ্রাম্যমাণ দোকান উচ্ছেদ করে চসিক। সাম্প্রতিক সময়ের বড় এ অভিযানে অংশ নেয় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক), চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংস্থার সাতজন ম্যাজিস্ট্রেট।



বার্তা সূত্র