Skip to content

সংখ্যালঘুদের ক্ষোভ, হতাশা আগামী নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে: রাণা দাশগুপ্ত

সংখ্যালঘুদের ক্ষোভ, হতাশা আগামী নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে: রাণা দাশগুপ্ত

ধর্মনিরপেক্ষতাসহ রাষ্ট্রীয় মূলনীতিগুলোকে ফিরিয়ে আনা সত্বেও এসবের বাস্তব প্রয়োগের সুযোগ ক্রমাগত কমে যাচ্ছে। পূর্বের মতোই ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর অব্যাহত সাম্প্রদায়িক সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমান সরকার ২০১৮ সালে ধর্মীয় সংখ্যালঘু স্বার্থবান্ধব বেশকিছু দাবিসহ তাদের ইশতেহার ঘোষণা করলেও এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না হওয়ায় ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই ক্ষোভ আগামী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাণা দাশগুপ্ত।

আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন এর সেমিনার কক্ষে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ আয়োজিত ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৪: ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগণের অধিকার’-শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেছেন বক্তারা।

সেমিনারের শুরুতে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন রাণা দাশগুপ্ত। তিনি জানান, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইতোমধ্যে নানান মহল থেকে সংঘাত ও সহিংসতার আশঙ্কা ব্যক্ত করা হচ্ছে।

রাণা দাশগুপ্ত বলেন, ‘বাংলাদেশের স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সর্বস্তরের নির্বাচনে ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে নির্যাতন ও সহিংসতা চালায়। কিন্তু এ ব্যাপারটিকে আমলে নিয়ে কেউ কোনো সময় যথাযথ ভূমিকা পালন করেনি। একদিকে শঙ্কা, অন্যদিকে অদ্যাবধি দাবি পূরণ না হওয়ায় সংখ্যালঘু জনমনে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা বিরাজ করছে যা সামনের নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব দেখা দিতে পারে।’ 

বিশিষ্ট সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘নির্বাচন এলেই ধর্মীয় সম্প্রদায়কে উদ্বেগের মধ্যে কাটাতে হয়। এই নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্ব সরকার, নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু এই নিরাপত্তা দিতে তারা ব্যর্থ হয়েছে।’ 

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘দেড় দশক মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে ক্ষমতায় রাখার পরেও দেশে সাম্প্রদায়িকতা বেড়েছে। এটাই বাস্তবতা। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের স্বাভাবিক মিত্র হিসেবে প্রগতিশীল, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের শক্তিকে বিবেচিনা করা হয়। তাদেরই তো ক্ষমতায় রাখলাম। তাহলে কেন সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি?’ 

নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘পাকিস্তানের চেয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা দশগুন বেড়েছে। বর্তমানে যে অবস্থা, তাতে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম সংবিধান থেকে তুলে দেওয়া মনে হয় না সম্ভব হবে। আমাদের হয়তো এটা নিয়েই চলতে হবে।’ 

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্ট্রি মফিদুল হক বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে আমাদের অতীত যে অভিজ্ঞতা সেসব আমলে নিয়ে কিভাবে সম্প্রীতি বজায় রাখবো তা ভাবতে হবে। স্মার্ট বাংলাদেশ যদি একটা পশ্চাত চিন্তাকে ধারণ করে এগোতে চেষ্টা করে তবে সেটা আর স্মার্ট থাকবে না।’

সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকলে সংখ্যালঘুদের পাশে থাকে, তারা নির্যাতিত হলে তাদের পাশে দাঁড়ায়। কিন্তু তারা ক্ষমতায় থাকলে সংখ্যালঘুদের ভুলে যায়। নির্বাচন নিয়ে যে সংকট, তাতে প্রধানত দায়ী ক্ষমতাসীন দল।’

সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের প্রধান উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেন, ‘আগে জানতাম মিথ্যা বলা পাপ এখন জানছি সত্য বলা বিপদ। ৭৫ থেকে পরবর্তী ২০ বছরে সাম্প্রদায়িকীকরণ হয়েছে কিন্তু আওয়ামীলীগ সেই চারাগাছে আরও পানি ঢেলেছে ৷ তারা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও পশ্চাতপদ করেছে, সংস্কৃতি ধ্বংস করেছে। জামাতকে নিষিদ্ধ করার প্রয়োজন কি? আওয়ামী লীগই তো জামাতের সব এজেন্ডা পূরণ করে দিচ্ছে।’



বার্তা সূত্র