Skip to content

ষুই জাতি

ষুই জাতি


তোমরা জানবে ষুই সম্পর্কে। ষুইরা একতলা বাড়ি কিংবা দোতলা দালানে বাস করে। লিখেছেন লোপাশ্রী আকন্দ

ষুই জাতির কথা বলছি। এরা প্রধানত বাস করে চীনের গুইঝৌ প্রদেশের সান্দু ষুই স্বশাসিত জেলায়। লিবো, দুশান এবং অন্যান্য জেলায়ও এদের বসবাস রয়েছে। কিছু ষুইয়ের দেখা মেলে গুয়াংজি ঝুয়াং স্বশাসিত অঞ্চলে।
ষুইদের ভাষার নামও ষুই। এটি চীনা-তিব্বতি ভাষা পরিবারের ঝুয়াং-দং শাখার অন্তর্ভুক্ত। ষুই মূলত মৌখিক ভাষা। তবে ঐতিহাসিকভাবে এ ভাষার হরফ ও লিখিত রূপ আছে, যা ব্যবহৃত হয় ধর্মীয় ক্ষেত্রে। দৈনন্দিন কাজে ষুইরা ব্যবহার করে চীনা ভাষা ও হরফ।
ষুইদের রয়েছে মৌখিক বর্ণাঢ্য শিল্প-সাহিত্য সম্ভার। কবিতা, লোককাহিনী, রূপকথা ও প্রবাদ-প্রবচনে এরা অগ্রসর। বিভিন্ন ঢংয়ের পদ্যের মধ্যে দীর্ঘ বর্ণনামূলক কবিতা এবং তাৎক্ষণিকভাবে রচিত কাহিনীসংবলিত গান বা কবিতা সবচেয়ে বেশি প্রসিদ্ধ হিসেবে বিবেচিত।
গদ্য ঢংয়ে বলা গল্প ও কাহিনীগুলোয় ষুই নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর পরিশ্রম, সাহসিকতা, জ্ঞান ও ভালোবাসা প্রতিফলিত হয়েছে এবং সামন্ত শাসকদের বোকামিকে বিদ্রƒপ করা হয়েছে।
ষুইদের গানে সাধারণত বাদ্য বাজানো হয় না। এদের গানগুলো দু’ধরনেরÑ আত্মম্ভরী সঙ্গীত ও মদ্য সঙ্গীত। এরা আত্মম্ভরী সঙ্গীত গায় কাজ করার সময় এবং বিয়ে-ভোজ ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় গায় মদ্য সঙ্গীত।
ষুইরা নাচে পারদর্শী। বিভিন্ন পালা-পার্বণে এরা নাচে। লুশেং নাচ এবং তামা ঢোলক নাচ প্রায় সব উৎসবেই জনপ্রিয়। নাচে ব্যবহৃত হয় গং, ঢোল, লুশেংসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র।
ষুইরা সাধারণত কালো ও নীল পোশাক পরে। পুরুষরা পরে লম্বা গাউন ও কালো পাগড়ি এবং মেয়েরা পরে কলার ছাড়া নীল ব্লাউজ, কালো পাজামা ও সজ্জাবরণী। উৎসব উপলক্ষে মেয়েরা স্কার্ট পরে এবং রুপার তৈরি বিভিন্ন ধরনের গয়না পরে। এদের গয়নাগুলোর মধ্যে রয়েছে কানের দুল, হার, বালা ইত্যাদি। এরা সাধারণত চুলে খোঁপা বাঁধে।
ষুইরা সর্বপ্রাণবাদ, তাওবাদ ও বৌদ্ধ ধর্মে বিশ্বাসী।
ষুইদের আবাসভূমিতে প্রচুর পরিমাণে ধান, গম, সরিষা ইত্যাদি চাষ করা হয়। বিভিন্ন ফলমূল পাওয়া যায় এখানে। এখানকার বনভূমি কাঠ এবং ভেষজ উদ্ভিদে সমৃদ্ধ। নদী-নালা ও জলাভূমিতে রয়েছে প্রচুর মাছ।
ভাত-মাছ ষুইদের প্রধান খাদ্য। এরা বার্লি, গম ও মিষ্টি আলু থেকে তৈরি করা খাবারও খায়।
ষুইরা একতলা বাড়ি কিংবা দোতলা দালানে বাস করে। দোতলার মালিকরা সাধারণত উপরতলায় বাস করে এবং নিচতলায় রাখে গরু-মহিষ, কুকুর ও মুরগি।
১৯৪৯ সালের চীনা বিপ্লবের পর গত ৬৯ বছরে আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে ষুই জনজীবনে বিপ্লবাত্মক পরিবর্তন এসেছে।
চীনে ষুইদের মোট সংখ্যা ৪ লাখ ৩০ হাজার । ভিয়েতনামেও ষুইদের বসবাস রয়েছে। এখানে এদের সংখ্যা আনুমানিক ২৫ হাজার।



বার্তা সূত্র