Skip to content

শ্রমিক নেতা শহিদুল হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল—জানালেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক

শ্রমিক নেতা শহিদুল হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল—জানালেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক

বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, গাজীপুরের শ্রমিক নেতা শহিদুল ইসলাম হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়েছে বাংলাদেশ সফররত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়ার নেতৃত্বে সফররত প্রতিনিধিদল আনিসুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে আনিসুল হক সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

আনিসুল হক বলেন, “তারা শহিদুল ইসলামের (গাজীপুরের শ্রমিক নেতা) মৃত্যু নিয়ে কথা বলেছেন। ‌এই পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণত যেটি আলাপ করার সেই আলাপই আমি করেছি”।

উল্লেখ্য, ঈদুল আজহার আগে ২৫ জুন শ্রমিকদের বেতন–ভাতা আদায়ে আরও ২ জন শ্রমিক নেতাকে নিয়ে গাজীপুরের টঙ্গীর প্রিন্স জ্যাকার্ড সোয়েটার লিমিটেডে গিয়েছিলেন শহিদুল ইসলাম। কারখানা থেকে বেরিয়ে কিছু দূর যাওয়ার পরেই তাদের ওপর হামলা করা হয়। এ হামলায় প্রাণ হারান শহিদুল।

আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, “তারা আরও কিছু বিষয়ে কথা বলেছেন, সেগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। সেসব বিষয়ে তারা শুধু এটুকু বলেছেন, সুষ্ঠু তদন্ত হলে সেটা ভালো। আমি তাদের অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বলেছি, বাংলাদেশে আগের সংস্কৃতি নেই যে, বিচার হবে না। বাংলাদেশে এখন যেকোনো অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সুষ্ঠু বিচার হয় এবং তাই হবে”।

আনিসুল হক বলেন, “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে কথা হয়েছে। এ আইন নিয়ে আমি আগে যে কথা বলেছি, ঠিক সেই কথাগুলো তাঁদের আজকে বলেছি। আগের মতোই বলেছি, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশোধন করা হবে”।

এক প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, “বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে কথা হয়নি। তারাও জিজ্ঞাসা করেননি, আমারও বলার প্রয়োজন হয়নি। … তারা পরিষ্কারভাবেই বলেছেন, ওনারা সব দেশেই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চান। গতকাল আমার (মন্ত্রণালয়ের) সচিব ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) টিমকে যেভাবে বলেছে, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার যে আইনি কাঠামো সেটা বাংলাদেশে আছে। যে আইনগুলো এ ব্যাপারে সহায়ক আমি সেই আইনগুলোর কথা উল্লেখ করেছি”।’

আনিসুল হক বলেন, “আমরা সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের ক্ষমতা বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের যে আইনটি করেছি, সেটা সম্বন্ধে কথা বলেছি। এটাও বলেছি, গত ৫০ বছরে বাংলাদেশে এ আইন হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এই আইন করেছে। এ ছাড়া এই উপমহাদেশের অন্য কোনো দেশে এই আইন নেই, সেটাও আমি বলেছি”।

মানবাধিকার নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান তিনি।

বৈঠকে উজরা জেয়ার সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ইউএসএআইডি) এশিয়া ব্যুরোর উপসহকারী প্রশাসক অঞ্জলি কৌর ও বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস।

সূত্র: ভয়েজ অব আমেরিকা