Skip to content

শেখ হাসিনা: ‘সাত জানুয়ারির নির্বাচন গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করেছে’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় বাংলাদেশ ও দেশের জনগণের বিজয় এবং গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতার বিজয়।

মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) গণভবনে শতাধিক প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা তাকে অভিনন্দন জানাতে আসলে,এ কথা বলেন শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বলেন, তার সরকার এই মাসের নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। “আমরা জনগণের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করেছি;” বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, এই নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছে। কারণ আওয়ামী লীগ সবাইকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দিয়েছে।

“আমরা আমাদের প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা দিয়েছি এবং আগ্রহী দলের অন্যদের নির্বাচনে অংশ নিতে বলেছি;” যোগ করেন শেখ হাসিনা।

বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়নি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা প্রশ্ন করেন, তারা কিভাবে নির্বাচনে আসবে।

তিনি বলেন, “২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি তাদের ২০ দলীয় জোট নিয়ে মাত্র ৩০টি আসন পেয়েছিলো; আওয়ামী লীগ একাই পেয়েছিলো ২৩৩টি আসন।”

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ বলেন, অনেকেই ভেবেছিলেন সাংগঠনিক শক্তি বিবেচনায় বিএনপি আওয়ামী লীগের সমান। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তা ভুল প্রমাণিত হয়।’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি কখনই নির্বাচন চায়নি। তারা নির্বাচন নষ্ট করতে অগ্নিসন্ত্রাস করে মানুষ হত্যা করেছে, ট্রেনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

“তারা (বিএনপি) যতই অগ্নিসংযোগ করবে, ততই জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। তারা জানে যে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে;” বলেন শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “এ কারণেই বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিতে চায় না। বরং তারা নির্বাচন নষ্ট করতে চেয়েছিলো এবং ক্ষমতায় আসার জন্য অবৈধ উপায় খুঁজছিলো।

৭ জানুয়ারির নির্বাচন

উল্লেখ্য, ৭ জানুয়ারী ২০২৪-এ অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের ঘোষিত ২৯৮ টির মধ্যে ২২২ টিতে জিতে, দুই তৃতীয়াংশের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে টানা চতুর্থবার সরকার গঠন করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ।

নির্বাচনে অংশ নেয় ২৮ টি দল। এর মধ্যে, ২৪ টি দল থেকে একজনও জয়লাভ করেনি। আর, হেরে যাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে একজন ছাড়া বাকি সবাই জামানত হারিয়েছেন। এ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ১১ ও জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি ও কল্যান পার্টি থেকে জিতেছেন ১ জন করে।

এদের মধ্যে, জাতীয় পার্টির ১১ জনই জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে, যেসব জায়গা থেকে আওয়ামী লীগ তাদের প্রার্থী প্রত্যাহার করে নিয়েছিলো, সেসব নির্বাচনী এলাকায়।

জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন নৌকা নিয়ে লড়ে, আর কল্যান পার্টিও তার আসনটি জিতেছে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে।

বিজয়ী ৬২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে ৫৮ জনই আওয়ামী লীগের নেতা।

নির্বাচন নিয়ে বিএনপির প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ৭ জানুয়ারির নির্বাচনকে একতরফা বলে উল্লেখ করেছে। আর, নির্বাচন বর্জনে বিএনপির আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য ভোটারদের অভিনন্দন জানায় দলটি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান দাবি করেন নির্বাচন বর্জনে তাদের আহ্বান সফল হয়েছে। গত ৭ জানুয়ারি গুলশানে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই দাবি করেন।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ভোটাররা কীভাবে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে, তা দেশের জনগণ এবং সমগ্র বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে।”

মঈন খান আরো বলেন, ক্ষমতাসীন দলের অনেক সমর্থক ভোটকেন্দ্রে যাননি; কারণ তারা জানতেন যে তাদের প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত।

সূত্র: ভয়েজ অব আমেরিকা