Skip to content

শেখ হাসিনাকে স্মারকলিপি, সুরক্ষার দাবিতে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু মোর্চার বিক্ষোভ-সমাবেশ

অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, বাংলাদেশ, ৭ জানুয়ারি: বাংলাদেশের ধর্মীয়-ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের দাবিতে শনিবার ঢাকায় কেন্দ্রীয় সমাবেশ করল ৩২টি সংগঠনের যৌথ মোর্চা। এর পর বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের তরফে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও ধর্মীয় জাতিগত ঐক্য মোর্চার সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্তর সই করা স্মারকলিপিতে লেখা হয়েছে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার মাধ্যমে একটানা ২১ বছর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী শক্তি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে কেবলমাত্র সংবিধানকে সাম্প্রদায়িকীকরণ করেননি, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভার দিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বিপরীতে রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনে সাম্প্রদায়িকতাকে প্রশয় দেওয়ার ফলে ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নানাভাবে বৈষম্য, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে।

বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাকালে প্রতিশ্রুত নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে আপনার কাছে আমাদের সনির্বন্ধ দাবি— ১. অাদর্শ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন এবং বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন করা।

২. অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ক) অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পন ট্রাইব্যুনাল ও আপিল ট্রাইব্যুনালের প্রদত্ত রায় ও ডিক্রি আইনে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে জরুরি নির্দেশনা জারি করা। খ) ২০১৩ সালে বাতিলকৃত ‘খ’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তির খাজনা নেয়ার ক্ষেত্রে তহসিল অফিসের অস্বীকৃতি এবং নামজারিতে এসি (ল্যান্ড) অফিসের অহেতুক গড়িমসি ও দুর্নীতি বন্ধেরও নির্দেশনা প্রদান করা হউক গ) জাতীয় পর্যায়ে এবং প্রতিটি জেলায় ভূমি প্রশাসন, সরকারি আইনজীবী, ভুক্তভোগী জনপ্রতিনিধি এবং ভুক্তভোগী আইনজীবী প্রতিনিধির সমন্বয়ে মনিটরিং সেল গঠন করে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বাস্তবায়নের নিয়মিত পরিবীক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হউক।

৩. পার্বত্য শান্তিচুক্তি ও পার্বত্য ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের যথাযথ বাস্তবায়ন করা এবং সমতলের সংখ্যালঘু জাতিসত্ত্বাসমূহের (যেমন সাঁওতাল, গারো, মুন্ডা, ওঁরাও, মণিপুরি ইত্যাদি) ভূমি রক্ষার স্বস্থ ভূমি কমিশন এবং রাষ্ট্রীয় প্রজাসত্ব আইনের ৯৭ ধারা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ জারি করা হউক।

৪. এতদ্ব্যতীত সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন করা হউক।
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সংকট নিরসনে আপনার নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের দাবিতে ইতোপূর্বে ২৪ মার্চ ২০২২ তারিখে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেতৃত্বাধীন ধর্মীয় জাতিগত সংখ্যালঘু ঐক্যমোর্চার উদ্যোগে দু’লক্ষাধিক জনগণের স্বাক্ষর সম্বলিত স্মারকলিপি আপনার বরাবরে পেশ করা হয়। এ ব্যাপারে আপনার সহৃদয় দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যে ২২ অক্টোবর ২০২২ দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা গণঅশনও পালন করা হয়।

বার্তা সূত্র