Skip to content

শার্শায় প্রতি রাতে বোমা হামলা, ভাংচুর: গুলিবিদ্ধ ২ 

শার্শায় প্রতি রাতে বোমা হামলা, ভাংচুর: গুলিবিদ্ধ ২ 

যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন ঘিরে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে আগামী ২৮ নভেম্বর ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

শার্শা উপজেলার মোট ইউনিয়ন ১১টি। এর মধ্যে ১০টি ইউনিয়নে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মামলা জটিলতার কারণে একটিতে ভোট হচ্ছে না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে পুটখালী ও গোগা ইউনিয়নের নির্বাচন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এ দুটি ইউনিয়নে রাত-দিন নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে হামলা, পাল্টা হামলা, অফিস ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগসহ বোমা হামলার ঘটনা ঘটছে।

পুটখালী ইউনিয়নে নৌকার প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আ. গাফ্ফার, অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নাসির উদ্দিন আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

গোগা ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী আব্দুর রশিদ, আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী তবিবর রহমান তবি।

শুক্রবার সকালে গোগা ইউনিয়নে নির্বাচনি পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রশিদ ও তবিবুর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়েছে। এতে তবিবুর রহমানের সমর্থক ফজের আলী (৩৫) ও আশরাফুল ইসলাম (৪০) গুলিবিদ্ধ হন।

গুলিবিদ্ধে আহতদের উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বদরুল আলম জানান, এলাকাবাসীর মাধ্যমে গোগা ইউনিয়নে পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা জানতে পারি। ঘটনাস্থলে গিয়ে গুলিবিদ্ধ দুইজনকে উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।

পুটখালী ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী আব্দুল গাফ্ফার অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীরা তার কর্মীদের ওপর হামলা করেছে। প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে।

তবে আনারস মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নাসির উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, আব্দুল গাফফার বাহিনী তার নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করেছে। তার নেতাকর্মীদের নির্বাচনী প্রচারণা করতে দিচ্ছে না। বৃহস্পতিবার দুটি গ্রামে তার নির্বাচনী অফিসে বোমা হামলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পুটখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ আলতাফ হোসেন বলেন, পুটখালী ইউনিয়নের ভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক রয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন তার ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানান তিনি।

শার্শা উপজেলা নির্বাচনী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, ১০টি ইউপির মধ্যে পুটখালী ও গোগা ইউনিয়নের নির্বাচন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করার জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মামুন খান বলেন, পুটখালী ইউনিয়নে কয়েক দিন ধরে নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা চলছে। রাতে বোমা হামলা ও অফিস ভাংচুরের ঘটনা ঘটছে। আমরা এখানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও নিরপেক্ষ ভোট গ্রহণের জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।



বার্তা সূত্র