শর্টকাট পথ নেই, যুদ্ধ করতেই হবে : ফখরুল

শর্টকাট পথ নেই, যুদ্ধ করতেই হবে : ফখরুল


নেতাকর্মীদের সংগঠিত হওয়ার আহবান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শর্টকাট কোনো রাস্তা নেই। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে একটা যুদ্ধ যখন করতে হবে, সেই যুদ্ধের জন্য পুরোপুরিভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। ইকুইপ্ট হতে হবে যুদ্ধ করতেই হবে।
গতকাল বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘করোনা এবং আওয়ামী লীগ দেশের শত্রু’। দেশে এখন দুই শত্রু। এক দিকে আওয়ামী লীগ শত্রু আরেক দিকে করোনা শত্রু। এই শত্রু, এই দুই দানব তছনছ করে দিচ্ছে আমাদের সব কিছু। সেজন্য আমরা বাধাগ্রস্ত হচ্ছি। কিন্তু এটাকে আমাদের জয় করতে হবে তো। এমনি এমনি সরকার ক্ষমতা দিয়ে দেবে না। এরা একেবারে ডিক্টেটর বনে গেছে, কর্তৃত্ববাদী বনে গেছে এবং জানে যে, নির্বাচন করে তারা কখনো জিততে পারবে না। সুতরাং নির্বাচন নির্বাচন খেলা করবে, নির্বাচনের নাটক করবে, তামাশা করবে কিন্তু সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে ওরা নিজেদেরকে জয়ী করবে। যেমন ২০১৮তে করেছে, যেমন ২০১৪তে করেছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আমি ওদের কথার কী উত্তর দেবো, ওদের কথায় ঘোড়াও হাসে। আগের কথা বলছি-পুরনো ঢাকার ঘোড়ার গাড়ি আছে না। ট্রেন থেকে নেমেই আমরা ওইসব ঘোড়ার গাড়িতে হলে যাইতাম। ফুলবাড়ীয়া ট্রেন স্টেশন থেকে এসএম হলে ঘোড়াগাড়ির ভাড়া ছিল চার আনা। আমরা বলতাম দুই আনা- বারগেইন করতাম। গাড়ির চালক ঘোড়ার লাগামটা টান মারতো। আর ঘোড়াটা হু হু করে উঠতা। তখন বলতাম, আপনার কথায় তো ঘোড়াও হাইসা উঠে। আসলে ব্যাপারটা এমন যে, ওবায়দুল কাদের সাহেবদের কথায় এখন ঘোড়াও হাসে। কী বলে না বলে ওরা জানে না। আর মিথ্যা বলতে বলতে এমন একটা জায়গায় চলে গেছে ওরা, ওই যে গোয়েবলসীয় প্রচারের মতো।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, গোয়েবলস ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জার্মানের নাৎসিবাদী ফ্যাসিস্ট হিটলারের প্রচারমন্ত্রী। আপনাদের হাছান মাহমুদের মতো। অনর্গল মিথ্যা বলেই যাচ্ছেন, অবলীলায় খুব শান্ত মেজাজে বলে কিন্তু। জোরে বলে না, রাগ করে বলে না, মনে হয় ঠিকই বলছে। এটাকেই বলে যে, গোয়েবলসীয় প্রচার। মিথ্যা প্রচার করতে করতে ওরা জিয়াউর রহমানকে এখন মুক্তিযোদ্ধা দূরের কথা, স্বাধীনতার ঘোষক দূরের কথা, পাকিস্তানের চর বলে বেড়ায়। এটাতেও সবাই হাসে। আজ স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে ওরা ইতিহাসকে এভাবে বিকৃত করছে।
তিনি বলেন, প্রকৃত ও সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে বারবার বলতে হবে। আমরা সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছি, অনেক অনুষ্ঠান করেছি। আরো করব। সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। আজকে জিয়াউর রহমানকে যত চেষ্টা করুক মুছে ফেলতে, মুছে ফেলা যাবে না কখনো। তিনি আমাদের রক্তে, মজ্জায় চলে গেছে। তার জন্য আমাদের কোনো সাইন লাগে না, সংবিধান লাগে না। আমাদের মানুষের মাথায়, মাথায়, মগজে, মগজে, হৃদয়ে হৃদয়ে, রক্তকণিকায় চলে গেছে- জিয়াউর রহমান এদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়েছিলেন, জিয়াউর রহমান এদেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এবং বটমলেস বাসকেটটাকে তিনি ওপরে টেনে তোলার চেষ্টা করেছিলেন।
দলের নেতাকর্মীদের জিয়াউর রহমানের জীবনকর্মের ওপর লেখা বইগুলো বেশি করে পড়ার পরামর্শ দেন মির্জা ফখরুল। ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া’, ‘প্রতি নায়ক’, ‘কাগমারী সম্মেলন স্মারকগ্রস্থ’, ‘আমার পতাকা ফেলানীর লাশ হয়’, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’, ‘জনগণের মুক্তিযুদ্ধ’ ও ‘ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান মওলানা ভাসানী’, ইত্যাদি গ্রন্থগুলো পড়ার জন্য সবাইকে বলেন তিনি। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতাও পড়ার পরামর্শ দেন মহাসচিব।
নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থার যৌথ উদ্যোগে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪০তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বইমেলার এই অনুষ্ঠান হয়। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ৬তলায় জিয়া স্মৃতি পাঠাগার রয়েছে।
জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালামের সভাপতিত্বে পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক মো: জহির দিপ্তীর সঞ্চালনায় আলোচনা অনুষ্ঠানে দলের যুগ্মমহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে জিয়া স্মৃতি পরিষদের মো: শহিদুল ইসলাম, সাঈদ উদ জামান, সঞ্জয় দে রিপন প্রমুখ নেতা উপস্থিত ছিলেন।



বার্তা সূত্র

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email