লক্ষ্য আন্দোলন ও নির্বাচনের রূপরেখা চূড়ান্ত করা

লক্ষ্য আন্দোলন ও নির্বাচনের রূপরেখা চূড়ান্ত করা

সরকারবিরোধী আন্দোলন ও আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করতে চাইছে বিএনপি। এ জন্য আজ মঙ্গলবার থেকে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের ধারাবাহিক সভা ডেকেছে দলটি। আজ প্রথম দিন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, কাল বুধবার নির্বাহী কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদক ও সহসম্পাদক এবং শেষ দিন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা এ সভায় অংশ নেবেন। এ সভা আহ্বানের কারণ সম্পর্কে বেশ কয়েকজন নেতা এও জানান, সম্প্রতি আওয়ামী লীগের এক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের নেতাদের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা বলেছেন। বিএনপি মনে করছে, নির্বাচন নিয়ে সরকার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। উদ্ভূত তেমন পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে বিএনপির এ সভা ডাকা হয়েছে।

গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এসব বৈঠক হবে। প্রতিদিন বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে অনুষ্ঠিত প্রতিটি বৈঠকে ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন ও সভাপতিত্ব করবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ধারাবাহিক এসব বৈঠকে নির্বাহী কমিটির সদস্যদের ডাকা হয়নি। সূত্রমতে, তাদের নিয়ে তারেক রহমান শিগগিরই আরেকটি বৈঠক করবেন।

সভায় আরও অংশ নেবেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। বৈঠকের প্রস্তুতি হিসেবে গতকাল সোমবার গুলশান কার্যালয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলের অন্য নেতারা যান।

এ বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমকালকে বলেন, এটা দলের নির্বাহী কমিটির বড় পরিসরের সভা নয়। এ বৈঠকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কী করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে। এতে আগামী নির্বাচন ও আন্দোলন সবকিছুই থাকতে পারে। গুলশান কার্যালয়ের মতো ছোট পরিসরে এ সভা আয়োজনের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার আমাদের কোথাও রাজনীতি করার স্পেস দিচ্ছে না। কোথাও নেতাকর্মীরা এক জায়গায় জড়ো হতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে আমরা এই জায়গা নির্ধারণ করেছি।

দলের একাধিক নেতা জানান, সভায় নেতারা বিশেষত আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়া-না নেওয়া, নির্বাচন সামনে রেখে আন্দোলনের প্রস্তুতি ও করণীয় সম্পর্কে মতামত দেবেন। নেতারা বলেন, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি সরকার সহজে মেনে নেবে না। তাই দাবি আদায়ে আন্দোলনের বিকল্প নেই। সভায় নেতারা এ আন্দোলনকে যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট অভিমত দেবেন।

প্রসঙ্গত, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার রায় ঘোষণার আগে ২০১৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি হোটেল লা-মেরিডিয়েনে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা হয়। ২০১৬ সালে জাতীয় কাউন্সিলের পর জাতীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণার প্রায় দুই বছর পর নির্বাহী কমিটির এই প্রথম বৈঠক হয়। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সাজা পেয়ে কারাগারে যান খালেদা জিয়া। বর্তমানে সরকারের নির্বাহী আদেশে তিনি মুক্ত আছেন। কিন্তু দীর্ঘ এ সময়ে নির্বাহী কমিটির আর কোনো সভা ডাকা হয়নি। আড়াই বছরের বেশি সময় পর নির্বাহী কমিটির সভার আদলেই কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে এ সভায় মতবিনিময় করবে হাইকমান্ড।

নেতারা জানান, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির পরামর্শেই এ সভা করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্টজনের মতামতও নেওয়া হবে। এ নিয়ে বিএনপি দলীয়ভাবে একটি প্রস্তাবনাও তুলে ধরবে। পরে রাষ্ট্রপতি সময় দিলে তার সঙ্গেও বৈঠক করতে আগ্রহী বিএনপি।

এসব বিষয়ে দলের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাজাহান বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে তারেক রহমান বিভিন্ন সময় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, সবার মতামত নিয়ে দল পরিচালনা করছেন। এ বৈঠক এরই অংশ। এতে দেশের বতর্মান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন নির্বাচন- এসব নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আমাদের এখন একটাই উদ্দেশ্য- একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করা। এর বাইরে দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে।



বার্তা সূত্র

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ সংবাদ