লকডাউনে শ্রমিকদের সরকারি অনুদানের দাবি বিএনপির

লকডাউনে শ্রমিকদের সরকারি অনুদানের দাবি বিএনপির

চলমান লকডাউনে শ্রমিকদের জন্য মাসিক সরকারি অনুদানের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের এক ভার্চুয়াল আলোচনায় বিএনপি মহাসচিব এ দাবি জানান।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের প্রয়াত সদস্য জাফরুল হাসানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উদ্যোগে এ ভার্চুয়াল আলোচনা সভা হয়। ২০২০ সালের ৬ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান প্রবীণ শ্রমিক নেতা জাফরুল হাসান।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কোভিডকালে অবশ্যই শ্রমিকদের সাবসিডি দিতে হবে। প্রত্যেক শ্রমিক নেতা, শ্রমিককর্মী ভাই যারা আছেন, তাদের সরকারের তরফ থেকে ত্রাণ সহযোগিতা করতে হবে। এই মুহূর্তে এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় দাবি।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেশের ইনফরমাল সেক্টর ও গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলোসহ অন্যান্য কলকারখানায় যেসব শ্রমিক যুক্ত আছেন, তাদের প্রত্যেককে মাসে একটা অনুদান অবশ্যই দিতে হবে। যেটা অন্যদের দেওয়া হয়েছে। করোনাকালে শুধু মালিকদের ব্যাংক থেকে ঋণ দিলেই হবে না। আসুন আমরা শ্রমিকদের নিয়ে এই আন্দোলনটা গড়ে তুলি যে, আজকে এই সময়ে তাদের ইনসেনটিভ দিতে হবে, ত্রাণ দিতে হবে, সহযোগিতা দিতে হবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে দেখুন, গ্রোথ হচ্ছে মালিকদের। তারা গাড়ি কিনছেন, বাড়ি কিনছেন, বিদেশে প্রপার্টি তৈরি করছেন। আর আমার শ্রমিক ভাইয়েরা, বোনেরা বস্তিতে একটি ঝুপড়ির মধ্যে বাস করছেন। দুবেলা ঠিকমতো খেতেও পারেন না। দিস ইজ দ্য রিয়েলিটি। কেউ কথাও বলছি না এ বিষয়ে।’

দলের অনেক কষ্ট, অনেক দুঃসময় উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের প্রধান যিনি নেতৃত্ব দেন, যার কথায় আমরা অনুপ্রাণিত হই, আমরা ঝাঁপিয়ে পড়ি; সেই দেশনেত্রী খালেদা জিয়া তিন বছর ধরে কারাগারে। এটা ভাবা যায় না, কল্পনা করা যায় না। আজকে যিনি আমাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব, তিনি ৮ হাজার মাইল দূরে নির্বাসিত অবস্থায় আছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা। নতুন করে আবার শুরু হয়েছে। এই কয়েকদিনে ২০ হাজার মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে আমাদের খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সেলিমা আপা (সেলিমা রহমান), রুহুল কবির রিজভী থেকে শুরু করে অনেকে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে। মওদুদ ভাই (মওদুদ আহমদ) আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। রুহুল আলম চৌধুরী, ইয়াং নেতা খন্দকার আহাদসহ অনেকে চলে গেছেন। এই অবস্থা আমাদের কাটিয়ে উঠতে হবে, বেরিয়ে আসতে হবে।’

শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেইনের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, জাতীয় শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক নাইমুল হাসান জুয়েল, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক স্কপ নেতা ওয়াজেদ-উল ইসলাম খান, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিম, কেন্দ্রীয় নেতা এএম নাজিম উদ্দিন, সালাহউদ্দিন সরকার, মিয়া মো. মিজানুর রহমান, রফিকুল ইসলাম, আবুল খায়ের খাজা. এমজি ফারুক, আসাদুজ্জামান বাবুল, কোহিনুর মাহমুদ, মফিদুল ইসলাম মোহন, কাজী আমীর খসরু, খন্দকার জুলফিকার মতিন, প্রয়াত নেতার মেয়ে নাসরিন হাসান টিমাসহ অনেকে।

 

 



বার্তা সূত্র

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email