Skip to content

রুহুল কবির রিজভী: পুলিশ আর আউট’ল-রা একাকার হয়ে গেছে

বাংলাদেশে এখন সরকার দলীয় ক্যাডার, ছাত্রলীগ, যুবলীগের কর্মীরা, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ও পুলিশ মিলেমিশে একযোগে বিরোধীদলগুলোর নেতা কর্মীদের ওপর হামলা, দমন, নিপীড়ন ও নির্যাতন চালাচ্ছে, বলেছেন বিএনপি ‘র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

নভেম্বরের ৩০ তারিখ, আত্মগোপনে থাকা অবস্থায়, ভয়েস অফ আমেরিকাকে দেয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, “দলীয় ক্যাডার, পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থা সব একসাথে কাজ করছে। তার একটা বড় প্রমাণ হচ্ছে গতকালকে (২৯ নভেম্বর, ২০২৩) যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডেন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন, সাবেক ছাত্র, ফজলুর রহমান খোকন— সে জাস্ট মগবাজারের বাসা থেকে বেরিয়েছে চা খাওয়ার জন্য, ঠিক ওই মুহূর্তে ছাত্রলীগের পান্ডারা তাকে ধরে নির্মমভাবে আঘাত করতে করতে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। কারণ আজকে পুলিশ আর আউট’ল-রা একাকার হয়ে গেছে। আজকে যুবলীগ, ছাত্রলীগ টোটালি একটা বেআইনি আচরণ করছে। এরা তো আউট’ল। এদের সাথে পুলিশ একযোগে কাজ করছে।”

বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন আগামী ৭ জানুয়ারী ২০২৪ তারিখ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার তারিখ ঘোষণা করেছে। বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ হবে না এ দাবি করে দেশের প্রধান বিরোধীদল বিএনপিসহ ৬৩টি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। বিএনপি’র নেতৃত্বে দেশের ৩৬টি রাজনৈতিক দল, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ ও একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য গত একবছর ধরে যুগপৎ আন্দোলন করে আসছে। এর মধ্যে গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপি ‘র একটি সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঘটে সহিংসতার জের ধরে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা গুলো বিএনপি’র শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ সারাদেশে বিএনপি’র হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। বহু নেতাকর্মীকে পুরোনো মামলায় সাজা দেয়া হচ্ছে আদালত থেকে। অনেক নেতাকর্মী গ্রেফতার এড়াতে বাড়ির বাইরে আছেন।

এ প্রেক্ষাপটে, দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট, সরকারের ক্র্যাকডাউন মোকাবেলা করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলগুলোর আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে লক্ষ্য অর্জনের কৌশল ও বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের আকাঙ্খা , একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর ও জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সমর্থন আরও জোরদার করার লক্ষ্যে বিএনপি কী করেছে ও করছে এসব বিষয় নিয়ে ভয়েস অফ আমেরিকার সাথে এ সাক্ষাৎকারে খোলামেলা কথা বলেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।

বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি’র নেতৃত্বে চলমান আন্দোলনে অবরোধ ও হরতাল জাতীয় কর্মসূচিগুলো ধীরে ধীরে তাদের কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলছে, রাজধানী ঢাকায়, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে এ অবস্থায় আন্দোলনের লক্ষ্য অর্জনে তারা কতটা আশাবাদী এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, যে এসব দমন পীড়ন করে সরকার এবার আর টিকে থাকতে পারবে না। বরং যত দমন পীড়ন বাড়াচ্ছে জনগণ ততোই ক্ষুব্ধ হচ্ছে, আন্দোলনে সম্পৃক্ত হচ্ছে। ফলে আন্দোলনে আপাতদৃষ্টিতে সাময়িক ভাটার টান লক্ষ্য করা গেলেও, আদতে আন্দোলন আরো জোরদার হচ্ছে ও হবে। তিনি দাবি করেন এবার আর এ সরকার পার পাবে না। ৭ জানুয়ারির নির্বাচন সরকার করতে পারবে না।

আগামী নির্বাচন নিরপেক্ষ করার ক্ষেত্রে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা সম্পর্কে রিজভী বলেন, “…রাষ্ট্রশক্তিকে এমন ভাবে নিয়ন্ত্রণ, প্রতিটা ডেমোক্রেটিক প্রতিষ্ঠান তো স্বাধীন না। নির্বাচন কমিশনের আইনই আছে সে একটা ইনডিপিন্ডেন্ট বডি। কিন্তু যেখানে ‘ফ্যাসিস্টরা’ ক্ষমতায় থাকে, ‘আওয়ামী ফ্যাসিজম’ যেখানে আছে, সেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার না নির্বাচন কমিশন কোন স্বাধীনতা বজায় রাখতে পারে? স্বাধীনতা বজায় রাখতে পারেনা। যার একটা উৎকৃষ্ট উদাহরণ হল প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিডিউল ঘোষণার প্রাক্কালেই বলে দিলেন যে, “আমরা কোন ডিসিএসপি বদল করবো না।” তো নির্বাচন সিডিউল বদলের এবসোল্যুট ক্ষমতা আছে নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু তিনি সেটা করতে পারছেন না কারণ সরকারের সেই ইনস্ট্রাকশন নাই আর উনি সরকারের ইন্সট্রাকশনের বাইরে যেতে পারবেন না।”

বিভিন্ন দেশের দূতাবাসগুলোতে সরকার ও সরকারি দলের দমন-পীড়নের ব্যাপারে অবহিত করে বিএনপি সম্প্রতি চিঠি দিয়েছে। এর কোনো জবাব তারা পেয়েছেন কিনা? বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে? এ প্রশ্নের জবাবে রিজভী জানান যে, এ বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না।…” ফরেন অ্যাফেয়ার্স নিয়ে যারা কাজ করেন তারা এটা বলতে পারবেন।”

বাংলাদেশের নির্বাচনে ভারতের ভূমিকার সমালোচনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, যে যদিও ভারতের জনগণ গণতন্ত্রের পক্ষে, ভারতের অনেক সাংবাদিক, কলামিস্ট, চলমান আন্দোলনের পক্ষে লিখেছেন, লিখছেন, কথা বলছেন, ভারতের সরকার কার্যত বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারেরই পক্ষ নিয়েছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তিনি বলেন, “(ভারত সরকারের পক্ষ থেকে) পলিসি লেভেলে বা সরকারি লেভেলে অবৈধ সরকারের প্রতি তাদের এক ধরনের সমর্থন আমরা দেখতে পাচ্ছি এবং তাদের একটিভিটিসগুলো মনে হয় প্রতিদিনই সুস্পষ্ট হচ্ছে, তারা কি করছে।”

চৌত্রিশ মিনিটের এ সাক্ষাৎকারে বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, আন্দোলন সফল হওয়া সাপেক্ষে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা, নির্যাতন চালানোর আশংকা প্রসঙ্গসহ , ভারতের সঙ্গে বিএনপি’র সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য বিএনপি’র পক্ষ থেকে নেয়া নানা উদ্যোগ, খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গ, জামাত ই ইসলামের সঙ্গে সম্পর্ক , ভবিষ্যৎ জাতীয় সরকার ইত্যাদি নানা বিষয়ে কথা বলেন।

ভয়েস অফ আমেরিকার পক্ষ থেকে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মোহসীন আব্বাস।

সূত্র: ভয়েজ অব আমেরিকা

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ সংবাদ