Skip to content

রুহুল কবির রিজভী: ‘আওয়ামী লীগের নতুন সরকার, কৃষ্ণতম মেকি সরকার’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের নতুন সরকারকে একদলীয় ফ্যাসিবাদের বৈশিষ্ট্যযুক্ত কৃষ্ণতম মেকি সরকার বলে অভিহিত করেছেন বিরোধী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, “ডামি প্রার্থী, ডামি ভোটার, ডামি পোলিং এজেন্ট ও ডামি পর্যবেক্ষকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত ডামি নির্বাচনের ডামি ফলাফলের ভিত্তিতে ডামি এমপিদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একদলীয় ফ্যাসিবাদের চিহ্নিত কৃষ্ণতম মেকি সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে।”

শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানী ঢাকার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ৭ জানুয়ারির (২০২৪) ডামি নির্বাচন বর্জন করে দেশ ও গণতান্ত্রিক বিশ্বের জনগণ শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা ব্যক্তি, ফলাফল, শপথ, সংসদ ও সরকারসহ ওই নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত সব প্রক্রিয়াও প্রত্যাখ্যান করেছে।

তিনি বলেন, ভুয়া নির্বাচনের পরপরই এবং একাদশ জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই শেখ হাসিনা গেজেট জারি করে এবং তড়িঘড়ি করে শপথ নিয়ে নজিরবিহীন গতিতে সরকার গঠন করেন। “এতেই প্রকাশ পেয়েছে, একটি অজানা ভয় তাকে গ্রাস করেছে। বৈধতা, জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে সিংহাসনকে তাসের ঘরের মতো স্থাপন করা হলে পতনের এমন নিদ্রাহীন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায় জীবন।”

রুহুল কবির রিজভী বলেন, নতুন সংসদ ও মন্ত্রিসভা দেশের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। “জনগণ সব দিক থেকে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।”

২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর পুলিশের সঙ্গে সহিংস সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি নেতারা আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পর থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করছিলেন রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় খোলার পর শুক্রবার প্রথমবারের মতো সরাসরি সংবাদ সম্মেলন করলেন তিনি।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জনগণের ভোটাধিকার ও অন্য গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য তাদের দলের নেতা-কর্মীরা আন্দোলন করছেন।

৭ জানুয়ারির (২০২৪) নির্বাচন বর্জন করে জনগণ বিএনপিসহ অন্য বিরোধী দলের আন্দোলনের পক্ষে তাদের সমর্থন প্রকাশ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে পরাজিত আওয়ামী লীগ নেতারা এখন ভোট জালিয়াতি, ভোট ডাকাতি ও বিভিন্ন অনিয়মের ঘটনা বর্ণনা করে শেখ হাসিনাকে অবৈধ ভোটের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।

তিনি বলেন, পরাজিত প্রার্থীরা এখন প্রকাশ্যে বলছেন, কত টাকা দিয়ে কাকে নির্বাচনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। থলের বিড়ালটি আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসছে। ক্ষমতাসীন দলের সব অপকর্ম উন্মোচিত হচ্ছে।

হাছান মাহমুদ: ‘নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ অগ্নিসন্ত্রাসের মূলোৎপাটন করা’

এদিকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম চ্যালেঞ্জ হবে অগ্নিসন্ত্রাস সমূলে উৎপাটন ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

বুধবার (১০ জানুয়ারি) সকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে দলীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, “আপনারা জানেন, ৭ জানুয়ারি (২০২৪) বাংলাদেশে অত্যন্ত সুন্দর, অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সন্ত্রাসমুক্ত একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল। কোনো কোনো নির্বাচনী এলাকায় ৭০ শতাংশের ওপরে মানুষ ভোট দিয়েছে। ৩ দিন ছুটি পাওয়ায় অনেকেই শহর থেকে গ্রামে চলে গিয়েছিল। সে কারণে কিছু বড় শহরে ভোটের হার কিছুটা কম হয়েছে। কিন্তু এরপরও আমাদের ভোট প্রদানের হার ৪২ শতাংশ।”

হাছান মাহমুদ বলেন, “যারা ভোট বর্জনের কথা বলেছিল এবং অগ্নিসন্ত্রাস চালিয়ে ভোট বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছিল, সেই বিএনপি-জামায়াতের প্রতি মানুষ বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেছে। উৎসাহের সঙ্গে ভোট দিয়ে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছে।”

দেশের ইতিহাসে একটি ভালো সুন্দর নির্বাচন হয়েছে উল্লেখ করে

তিনি বলেন, “সরকার গঠনের পর আমাদের প্রথম চ্যালেঞ্জ হবে দেশ থেকে অগ্নিসন্ত্রাসকে সমূলে উৎপাটন করা এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা।”

সূত্র: ভয়েজ অব আমেরিকা