রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছেন হেলেনা জাহাঙ্গীর

রিমান্ডে এনে র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদের প্রথম দিনেই বিতর্কিত মহিলা হেলেনা জাহাঙ্গীর মুখ খুলতে শুরু করেছেন। বেশকিছু বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন তিনি। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল করে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতেন বলেও জানায় র‌্যাব।

আজ শনিবার (৩১ জুলাই) দুপুরে উত্তরা র‌্যাব সদর দপ্তরে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সাংবাদিকদের  বলেন, ব্ল্যাকমেইল করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাছ থেকে টাকা আদায় করার তথ্য আমরা পেয়েছি। এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে‌।

এর আগে, শুক্রবার রাজধানীর গুলশান থানায় তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে র‌্যাব বাদী হয়ে দুটি মামলা দায়ের করে। এর মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে, রাতে পল্লবী থানায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন আইনের ৩৫, ৫৫ ও ৭৩ ধারায় আরও একটি মামলা করে র‍্যাব।

মামলার কারণ হিসেবে খন্দকার আল মঈন বলেন, হেলেনা তার উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য যখন যাকে প্রয়োজন হয়েছে তখন তাকেই ঘায়েল করেছেন। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তুলেছেন এবং সেটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছেন উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য। এটাই আমাদের মামলার কারণ।

মঈন বলেন, আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি মনে করেন এই মামলাটির র‌্যাব তদন্ত করবে তাহলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে আমরা আবেদন করব।

তিনি বলেন, হেলেনা জাহাঙ্গীরের স্বামী ১৯৯০ সাল থেকে গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। সেখান থেকে তিনি পার্টনারশিপে ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। আর হেলেনা টেলিভিশনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে বিভিন্ন পরিমাণ টাকা আদায় করেছেন। আর এসব অপকর্মের দায় চাপিয়েছেন তার অফিস স্টাফদের ওপর। এমনকি তার ১৫ থেকে ১৬টি ফ্ল্যাট এবং ৬ থেকে ৮টি গাড়ি রয়েছে বলেও জানিয়েছেন হেলেনা জাহাঙ্গীর ।

তবে, জিজ্ঞাসাবাদে ফ্ল্যাট কিংবা গাড়ির সংখ্যার প্রকৃত কোনো তথ্য দিতে পারেননি বলেও জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা।

এর আগে শুক্রবার হেলেনাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর বিকেলে ব্রিফিংয়ে র‍্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন জানিয়েছিলেন, হেলেনা জাহাঙ্গীরের সঙ্গে ১৩ টি ক্লাবের সখ্যতা রয়েছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করতেন।

র‍্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘হেলেনা জাহাঙ্গীর একজন উচ্চাভিলাষী মহিলা। বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দিয়ে নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করতেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদেশে বসে সেফাতুল্লাহ নামে আওয়ামী লীগের কট্টর বিরোধী,  চরম সাম্প্রদায়িক ও বিকৃত রুচির ব্যক্তি, যে অশ্লীল শব্দ উচ্চারণে নির্লজ্জ তার সঙ্গে অবৈধ লেনদেনসহ নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন হেলেনা জাহাঙ্গীর।’

খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘যেসব অবৈধ মদের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে সবকিছু হেলেনা জাহাঙ্গীরের নিজ কক্ষে ছিল। হেলেনা জাহাঙ্গীর এসব বিষয় স্বীকার করেছেন বলে জানান খন্দকার আল মঈন। পরে তাকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়।

ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অবৈধ মাদক, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক জানান, হেলেনা জাহাঙ্গীরের জয়যাত্রা আইপি টেলিভিশনের কোনো বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবারের (২৯ জুলাই) অভিযানে মিরপুরের জয়যাত্রা অফিস থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‍্যাব সদর দপ্তরে নেওয়া হয়।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ সংবাদ