Skip to content

রাশিয়া ও পাকিস্তানের আলোচনায় তালিবানের সঙ্গে ‘ব্যবহারিক যোগাযোগ প্রসঙ্গ

রাশিয়া ও পাকিস্তানের আলোচনায় তালিবানের সঙ্গে ‘ব্যবহারিক যোগাযোগ প্রসঙ্গ

বুধবার দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালিবানের সাথে “ব্যবহারিক সম্পৃক্ততার” প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছে রাশিয়া ও পাকিস্তান। কিন্তু উভয় দেশ ইসলামপন্থী শাসকদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেবেনা, যতক্ষণ না তারা নারীর অধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের একটা সুরাহা করে।

আফগানিস্তানের জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দূত, জামির কাবুলভ, ইসলামাবাদে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সাথে এক আলোচনায় দেশটির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। এই মাসের শুরুতে কাবুলে তালিবানের সাথে তার বৈঠকের বিষয়ে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের অবহিত করেন জামির।

বুধবারের ওই বৈঠকের সাথে জড়িত, পাকিস্তান সরকারের একটি সূত্র ভিওএ-কে জানিয়েছে, কাবুলভ বলেছেন, মস্কো তালিবানের সাথে সম্পৃক্ত থাকছে, কিন্তু আফগান শাসকদের বৈধতা দেওয়ার বিষয়টি “আপাতত” তারা বিবেচনা করছে না।

সূত্রটি জানিয়েছে, ইসলামাবাদ তালিবানকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে না বলে পাকিস্তানি পক্ষও পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা স্বীকৃতি দিলে, কেবলমাত্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে সম্মিলিতভাবেই দেবে।

পাকিস্তানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রব্বানি খারের সাথে কাবুলভের বৈঠকের পর, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে টুইটারে একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, উভয় পক্ষ “অন্তর্বর্তীকালীন আফগান সরকারের সাথে ব্যবহারিক সম্পৃক্ততার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন।”

পরে, পররাষ্ট্র মন্ত্রক, তাদের জারি করা এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে, বৈঠকের কিছু বিশদ বিবরণ দেয়, আফগান কর্তৃপক্ষের স্বীকৃতির বিষয়টি সেখানেও উল্লেখ করেনি।

বিবৃতিতে খারকে উদ্ধৃত করে বলা হয় , “জরুরি মানবিক প্রয়োজন মোকাবেলা করার জন্য এবং আফগানিস্তানের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য একটি টেকসই পথ প্রদানের জন্য সহায়তা ও সমর্থন অব্যাহত রাখতে” আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

এর আগে, গত সপ্তাহে চীনের নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাং তালিবান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সাথে কথা বলেছেন। কিন কাবুলে “একটি বিস্তৃত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক কাঠামো” প্রতিষ্ঠার জন্য গোষ্ঠীটির প্রতি বেইজিংয়ের সমর্থনের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

বেশিরভাগ এলাকা থেকে আফগান কর্মজীবী নারীদের বাদ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের জন্য পার্ক, শরীর চর্চা কেন্দ্র এবং পাবলিক গোসলখানা ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তালিবান ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির পর মেয়েদের জন্য মাধ্যমিক বিদ্যালয় পুনরায় চালু করতে অস্বীকার করেছে।

গত মাসে, তালিবান কর্তৃপক্ষ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মেয়েদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। এছাড়া তারা নারীদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থায় কাজ করাও নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

আফগান নারী সাহায্য কর্মীদের উপর তালিবানের এই নিষেধাজ্ঞার ফলে, প্রধান আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থাগুলি দেশটিতে তাদের বেশ কিছু কর্মসূচি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। আনুমানিক ৪ কোটি জনসংখ্যার ঐ দেশটিতে প্রায় ৯৭ ভাগ মানুষই দারিদ্র্যসীমার নীচে বাস করে এবং তাদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকের জরুরি মানবিক সহায়তার প্রয়োজন।

সূত্র: ভয়েজ অব আমেরিকা