যেভাবে এসআই আকবরকে ধরে ফেলে খাসিয়ারা

মুখে চাপ দাঁড়ি, গলায় মালা। এই হচ্ছে রায়হান হত্যার প্রধান আসামি বরখাস্তকৃত এসআই আকবর হোসেনের বেশভূষা। খাসিয়ারা তাকে পায়ে ও কোমরে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখেছে।

ভারতে পালানোর সময় সিলেটের সীমান্তবর্তী কানাইঘাট উপজেলার ডনা সীমান্তে খাসিয়ারা তাকে আটক করে। পরে তাকে বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ীসহ অন্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর তাকে সীমান্ত এলাকায় গ্রেফতার করা হয়।

১৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল রফিকুল ইসলাম পিএসসি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রবিবার রাতে ভারতের মেঘালয় এলাকার শিলচরের দনা বস্তি এলাকায় আকবরকে ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয় খাসিয়ারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, আটকের পর এসআই আকবরকে দনা ক্যাম্পে রাখা হয়। পরে খাসিয়ারা তাকে বাংলাদেশি এক গরু ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় কয়েকজনের কাছে হস্তান্তর করে। এসময় আকবরের অবস্থা ছিল বিপর্যস্ত।

আটকের ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ভারতীয় খাসিয়াদের প্রশ্নের জবাবে তিনি তার নাম আকবর বলে জানান।

‘মাত্র ১০ হাজার টাকার জন্য তোমরা মানুষ খুন করো’-এই বলে খাসিয়ারা যখন তাকে তিরস্কার করছিলেন-তখন উত্তরে আকবর বলেন, ‘আমি মারি নাই’।

খাসিয়ারা এও জানান, রায়হানকে হত্যার ভিডিও তারা নেটে দেখেছেন।

আকবর জানান, ভারতে পালিয়ে যেতে তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন এক সিনিয়র কর্মকর্তা।

কোন অপরাধে রায়হানকে মারা হলো জানতে চাইলে বরখাস্তকৃত এই এসআই বলেন, ‘আমি মারিনি ভাই, আমি ইচ্ছা করে একা মারিনি। তারে মেরেছে ৫-৬ জন। পাবলিক মেরেছে তাই সে মরে গেছে। আমি বরং তাকে হাসপাতালে নিয়েছি। কিন্তু ওখানে সে মারা যায়। সে টাকা ছিনতাই করেছিলো।’

এসময় স্থানীয় অপর একজন বলেন, ‘আর তার জান তোমরা ছিনতাই করেছ?’

উত্তরে আকবর বলেন, ‘ভাই, আমরা জান নেইনি, বরং আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়েছি।’

এদিকে আকবর গ্রেফতারের খবর পেয়ে দুপুরে কানাইঘাটে বিপুল সংখ্যক জনতার ভিড় জমে উঠে। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তাকে নিয়ে কড়া নিরাপত্তার সঙ্গে সিলেট জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা হয় পুলিশ।

আকবরকে সিলেট আনা হচ্ছে এমন সংবাদ প্রচার হলে সন্ধ্যায় পুলিশ সুপার অফিসের সামনে জনতার ঢল নামে। সেখানে আকবরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে জনতা স্লোগান দিতে থাকে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে আকবরকে নিয়ে পুলিশ সুপারের অফিসের সামনে আসা মাত্রই একদল পুলিশ আকবরকে কর্ডন করে অফিসের ভেতর নেয়।

এসময় ফটো সাংবাদিকদের কাছে ভিড়তে দেওয়া হয়নি। তখন আকবর তার গায়ের চাদর দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলেন।

পরে পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন উপস্থিত জনতাকে শান্ত থাকার আহবান জানিয়ে বলেন, আকবরের বিচার আইনানুগভাবেই হবে। আপনরা শান্ত থাকুন ধৈর্য ধরুন।

১০ অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয় রায়হানকে। এরপর ১১ অক্টোবর সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email