Skip to content

যুবা এশিয়া কাপের সেমিতে এক পা বাংলাদেশের

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) ও শনিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুই দিন অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে টানা দুটি ম্যাচ বাংলাদেশের। প্রথমটিতে নেপালকে ১৫৪ রানে হারানোর পরের দিনই কুয়তের বিপক্ষে ২২২ রানে বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে টাইগার যুবারা। আর এতেই যুবা এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে এক পা বাংলাদেশের। গ্রুপের অন্য দলগুলোর মধ্যে কেবল শ্রীলংকায় এক ম্যাচে জয় পেয়েছে। আর বাকি দুই দলের মধ্যে কুয়েত হেরেছে দুটিতে, নেপালের হার এক ম্যাচে।

শারজায় নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্রান্তিক নওরোজ নাবিলের শতকে ভর করে নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের ১৫৪ রানের দুর্দান্ত এক জয়। বিশ্রামের সময় নেই! পরের দিনই নেমে পড়তে হলো কুয়েতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে। কিছুটা ক্লান্তি থাকলেও মাঠের পারফরম্যান্সে তার প্রভাব পড়তে দেননি টাইগার যুবারা। ওপেনার মাহফিজুল ইসলামের দারুণ শতকে ভর করে ২৯১ রানের বড় পুঁজি স্কোরবোর্ডে। জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে টাইগার বোলারদের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ে কুয়েতের যুবারা। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৬৯ রানে গুটিয়ে যায় কুয়েতের যুবাদের ইনিংস। বাংলাদেশ পেয়ে যায় ২২২ রানের বিশাল জয়।

বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেওয়া ২৯২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে কুয়েতের কেবল দুই ব্যাটার দুই অংকের ঘর স্পর্শ করতে পারলেন। এতেই ২৫.৩ ওভারে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে যায় কুয়েতের ইনিংস। ইনিংসের ৫ম ওভারে প্রথম উইকেট হারায় কুয়েত। এরপর আর কেউই টাইগার বোলারদের সামনে ব্যাট তুলে দাঁড়াতে পারেননি। উইকেটের এক প্রান্ত আকড়ে ধরে লড়াই চালিয়েছেন কেবল ওপেনার মিত ভাভসার।

কুয়েতের অধিনায়ক এবং উইকেটরক্ষক ব্যাটার ৭৭ বল খেলে ৪৩ রান করেছেন। শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট যখন হলেন তখন দলের স্কোরবোর্ডে রান মাত্র ৬৪। বাকিদের ভেতর মির্জার আহমেদই কেবল ছুঁয়েছেন দুই অংকের ঘর। ২৭ বলে তার নামের পাশে রান ১১। মিত এবং মির্জা মিলে করেছেন ৫৮ রান অর্থাৎ বাকি ৯ ব্যাটার মিলে করেছেন মাত্র ৬ রান। এর মধ্যে তিনজন ফিরেছেন শূন্যতে আর একজন শূন্য রানে থাকেন অপরাজিত।

যুবা এশিয়া কাপের সেমিতে এক পা বাংলাদেশের

মাহফিজুলের শতক, কুয়েতের বিপক্ষে ২৯১ রানের থামল টাইগার যুবারা

কুয়েতের ওপেনার জুড সালদানহা এবং মিডল অর্ডার ব্যাটার আব্দুল্লাহ জাহির করেছেন দুই রান। এছড়া এক রান করেন আব্দুল্লাহ সাদিক, মোহাম্মদ বাস্তাকি এবং হেনরি থমাস।

টাইগার বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন রিপন মন্ডল। ৮ ওভারে ৩টি মেইডেনে ১০ রান দিয়েছেন তিনি। এছাড়া দুটি করে উইকেট নিয়েছেন রাকিবুল হাসান এবং এসএম মেহরব আর একটি করে উইকেট নেন মুশফিক হাসান ও নাইমুর রহমান।

এর আগে শারজায় টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি টাইগারদের। তৃতীয় ওভারের শেষ বলে স্কোরবোর্ডে মাত্র ৩ রান রেখে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার ইফতেখার হোসেন ইফতি (৯ বলে ২ রান)। তার বিদায়ের পর দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন আরেক ওপেনার মাহফিজুল ইসলাম ও তিনে নামা আইচ মোল্লা। দ্বিতীয় উইকেটে দুজনে গড়েন ৮৪ রানের জুটি।

যুবা এশিয়া কাপের সেমিতে এক পা বাংলাদেশের

প্রথম ম্যাচে তিনে ব্যাট করতে নেমেছিলেন নাবিল। ১২৭ রান করে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত ব্যাটও করেছিলেন। সেই ধকল কাটিয়ে উঠতেই হয়তো এই ম্যাচে তাকে লোয়ার মিডল অর্ডারে ব্যাট করতে পাঠানর সিদ্ধান্ত টিম ম্যানেজমেন্টের। তার জায়গায় তিনে ব্যাট করতে নামা আইচ মোল্লা ৩৯ বলে ২০ রান করে বিদায় নেন। এরপর আরিফুল ইসলাম ক্রিজে নেমে বলের সাথে পাল্লা দিয়ে রান তুলছিলেন। ২৪ বলে ২৩ রান করে বিদায় নিতে হয় তাকেও।

অন্যরা যাওয়া আসার মিছিলে থাকলেও মাহফিজুল উইকেটের এক প্রান্ত আগলে রেখে ছোটাচ্ছিলেন রানের চাকা। পাঁচে ব্যাট করতে নামা তাহজিবুল ১৯ বলে ২৫ রানে ফিরলে উইকেটে আসেন মেহরব। উইকেটে এসেই ঝড়ো গতিতে রান তুলতে থাকেন। এর আগে অবশ্য মাহফিজুল দুর্দান্ত শতক তুলে নেন। ১১৯ বলের মোকাবেলায় ১২টি চার ও ৪টি ছক্কা হাঁকিয়ে ১১২ রান করে আউট হন মাহফিজুল।

যুবা এশিয়া কাপের সেমিতে এক পা বাংলাদেশের

শতক করে মাহফিজুল ফিরলে উইকেটে আসেন প্রথম ম্যাচে শতক হাঁকানো নাবিল। তবে এদিন ব্যাট হাতে মাত্র ৫ বলে ৫ রান করেই এলবি হয়ে ফেরেন তিনি। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা বাংলাদেশ ৪ বল বাকি থাকতেই অলআউট হয় ২৯১ রানে।

গ্রুপ পর্বে টানা দুই জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপে শীর্ষে অবস্থান লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। এতে সেমিফাইনালে এক পা রাকিবুল হাসানের দলের। আগামী ২৮ ডিসেম্বর গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে শ্রীলংকা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের মুখোমুখি বাংলাদেশ দল।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯: ৪৯.২ ওভার, ২৯১/১০; (মাহফিজুল ১১২, ইফতেখার ২, আইচ ২০, আরিফুল ২৩, তাহজিবুল ২৫, মেহরব ৪২, নাবিল ৫, নাইমুর ১০, রাকিবুল ২১, মুশফিক ১৩*, রিপন ৮); (আব্দুল সাদিক ৮.২-০-৪০-৩, হেনরি থমাস ৭-০-৪৮-২, মোহাম্মদ ওমর ৭-০-৪৫-২, মিরাজ ৬-১-২৯-১, আব্দুল্লাহ ফারুক ৭-১-৩৩-১, বাস্তাকি ২-০-২৪-১)।

কুয়েত অনূর্ধ্ব-১৯: ২৫.৩ ওভার। ৬৯/১০; (মিত ৪৩, জুড ২, সাদিক ১, উমার ০, জহির ২, বাস্তাকি ১, ফারুক ০, হেনরি ১, মির্জা ১১, জিসান ০, হ্যাবিয়ের ০*); (মুশফিক ৭-০-১৯-১, রিপন ৮-৩-১০-৩, নাইমুর ৪-১-১৫-১, মেহরব ৫-১-১৪-২, রাকিবুল ১.৩-০-১১-২)।

ফলাফল: বাংলাদেশ ২২২ রানে জয়ী।

ম্যান অব দ্যা ম্যাচ: মাহফিজুল ইসলাম (১১২ রানের ইনিংস)।

সারাবাংলা/এসএস



বার্তা সূত্র