Skip to content

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন: গত বছর বাংলাদেশে চলমান ছিল সাম্প্রদায়িক সহিংসতা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদন: গত বছর বাংলাদেশে চলমান ছিল সাম্প্রদায়িক সহিংসতা

ধর্মীয় উগ্রবাদের নিন্দা করতে সরকারি নির্দেশের ফলে মসজিদের ইমামরা সরকারি নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক খুতবা দেয়া থেকে বিরত থাকলেও ২০২২ সাল জুড়ে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা চলমান ছিল বলে উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রতিবেদন।

একই সাথে বিগত বছরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ‘মিথ্যা মামলায়’ বিনা বিচারে বিপুলসংখ্যক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বন্দি হয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন সোমবার এই বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেন, যেখানে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ধর্মীয় স্বাধীনতাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের ওয়েবসাইটে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

প্রতিবেদনে সংখ্যালঘুদের প্রতি সহিংসতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ব্যবহার এবং ইসলাম ধর্মের ইমামদের ভয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বেনারকে বলেন, “এসব অভিযোগ উদ্ভট এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”

বয়ানের ক্ষেত্রে ইমামদের কাছে সরকারি নির্দেশনা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ হাজার হাজার মসজিদ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রত্যক্ষ কর্তৃত্বে পরিচালিত হয় এবং সরকার ওই মসজিদগুলোর ইমাম ও কর্মচারীদের অর্থায়ন করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে চলে না এমন মসজিদ পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে চলে এবং এসব কমিটিতে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিবিদ এবং প্রশাসনের আধিপত্য থাকে।

এতে বলা হয়, মুসলিম নেতারা বলেছেন, সরকার ইমাম নিয়োগ ও অপসারণ এবং সারা দেশে ইমামদের খুতবার বিষয়বস্তু সম্পর্কে দিকনির্দেশনা প্রদানের ওপর প্রভাব বিস্তার করে চলেছে।

“সরকার কিছু কুরআনের আয়াত এবং নবী মুহাম্মদের উদ্ধৃতি তুলে ধরে লিখিত নির্দেশ জারি করেছে যাতে ইমামদের উগ্রবাদের নিন্দা করে বক্তব্য রাখতে হয়,” বলা হয় প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনটি আরও বলছে, ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতারা বলেছেন, মসজিদের ইমামরা সাধারণত সরকারি নীতির সাথে সাংঘর্ষিক খুতবা এড়িয়ে চলার নীতি অবলম্বন করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা কোনও আলেমকে বাধা দিচ্ছি না। তারা যা মন চায় তাই বলছে। অনেক সময় তারা ওয়াজকে রাজনৈতিক ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করছে, তবুও আমরা বাধা দিচ্ছি না।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সিলেট এলাকার দুইজন আলেমকে ফোন করা হলে তাঁদের কেউই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

শাস্তি পায়নি কুমিল্লায় হামলাকারীরা

যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংখ্যালঘু ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো দাবি করেছে, সরকার ২০২১ সালের অক্টোবরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতায় জড়িত অপরাধীদের পর্যাপ্ত শাস্তি দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

“সেই সময়ের সবচেয়ে ব্যাপক হামলার মধ্যে একটি ছিল কুমিল্লা হিন্দু মন্দিরে হামলা। কুমিল্লার সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ১২টি মামলা করেছে। কিন্তু আগস্ট পর্যন্ত, পুলিশ মাত্র দুটি মামলায় অভিযোগপত্র দিয়েছে,” বলা হয় প্রতিবেদনে।

সংখ্যালঘু অধিকার সংগঠনগুলো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের নির্বিচারে আটকের সমালোচনা করেছে জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায়ই জামিন অযোগ্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সংখ্যালঘুদের গ্রেপ্তার করে আটকে রাখা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালের মার্চ মাসে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কয়েকশ মানুষ হামলা চালিয়ে ইসকন মন্দিরের দেয়াল ভেঙে দেয়, জানুয়ারিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে অজ্ঞাত হামলাকারীরা এক বৌদ্ধ ভিক্ষুকে হত্যা করে।

মিথ্যা এবং ভুয়া আইডি থেকে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে অনেক সংখ্যালঘু নাগরিককে এই আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত বেনারকে বলেন, “প্রতিবেদনে থাকা প্রতিটি তথ্য সত্য। সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছেই।”

তিনি বলেন, সংখ্যালঘু অধিকার নানাভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে বলেই গত কয়েক মাস ধরে টানা আন্দোলন করে যাচ্ছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

তবে “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যাদের ধরা হয়েছে তাদের বিচার হচ্ছে। বিচারে অপরাধ প্রমাণিতও হচ্ছে,” বলে বেনারকে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “অপরাধ করার পর এদের না ধরলে সাধারণ মানুষ উত্তেজিত হয়ে যেত।”

উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভোলায়, রংপুরে এবং যশোরে ফেসবুকে ধর্মের অবমাননার ঘটনা ঘটেছে। সেগুলোতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নিলে “সংঘাত সৃষ্টি হতো।”



বার্তা সূত্র