Skip to content

যতক্ষণ তোমার হাতে দেশ পথ হারাবে না বাংলাদেশ

যতক্ষণ তোমার হাতে দেশ পথ হারাবে না বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শৈশব-কৈশোর কেটেছে দাদা-দাদির কোলেপিঠে চড়ে, দূর থেকে মাঝির কণ্ঠে ভাটিয়ালি গান শুনে, পাখির গান আর বাইগার নদীর কলকল ধ্বনিসহ এক অপূর্ব মনোরম পরিবেশে। ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু পরিবার নিয়ে পুরান ঢাকার রজনী বোস লেনের ভাড়া বাসায় ওঠেন। বঙ্গবন্ধু যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য হলে সপরিবারে ৩ নম্বরে মিন্টো রোডের বাসায় বসবাস শুরু করেন। ১৯৬১ সালে ১ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু পরিবার-পরিজন নিয়ে নির্মাণাধীন ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর সড়কের বাড়িতে উঠে বসবাস শুরু করেন এবং আমৃত্যু এ বাড়িতেই ছিলেন।

ছাত্রলীগের নেত্রী শেখ হাসিনা ইডেন মহিলা কলেজের নির্বাচিত ভিপি হিসেবে আইয়ুববিরোধী আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, ও ’৬৯ এর’ গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৮ সালে বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ব্যক্তি জীবনে তিনি আইটি বিশেষজ্ঞ পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও অটিজম বিশেষজ্ঞ কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের গর্বিত জননী।
১৯৮১ সালে দেশে ফিরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে লিপ্ত হওয়ার পরপরই শেখ হাসিনা শাসকগোষ্ঠীর রোষানলে পড়েন। তাঁকে বারবার কারাগারে রাখা হয়। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মতো ২২ বার তাঁকে হত্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ষড়যন্ত্রকারীরা জানে, শেখ হাসিনা স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের পর বাংলাদেশের রাজনীতি নতুন বার্তা পেয়েছে। পথ হারানো জাতি পেয়েছে দিশা। সে কারণে ৪২ বছর ধরে তাকে হত্যার জন্য চেষ্টা করা হয় বহুবার। তবে বেঁচে গেছেন অলৌকিকভাবে। বাবার সাহস ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা তাঁকে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বদরবারে আসন দিয়েছে।

তার সবচেয়ে বড় সাফল্য, যুদ্ধের ময়দান থেকে হটে না যাওয়া। তাঁর চারদিকে এখনও পরাজিত বহু শত্রু। যুদ্ধের ময়দানে একাই লড়ছেন উচ্চ করে শির। এক পা পিছু হটার নিদর্শন নেই জীবনে। সা¤্রাজ্যবাদের পদলেহন, স্বৈরাচারের কাছে আত্মসমর্পণ এবং দেশ ও জনগণের বিপদের মুহূর্তে দেশত্যাগ বা রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার কোন ঘটনাই নেই তাঁর জীবনে। তাই তিনি বাংলাদেশ ছাড়িয়ে বিশ্বের একজন সফল রাজনৈতিক নেত্রী ও রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হয়েছেন।
১৯৮১ সাল থেকে অদ্যাবধি মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বপ্রদানকারী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে সততা, নিষ্ঠা, দক্ষতা, দৃঢ়তা ও সাহসের সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়ে অন্যায়-অত্যাচার-অবিচার, জেল-জুলুম সহ্য করে গণরায়ে অভিষিক্ত হয়ে বর্তমানে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনায় মেধা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। তাঁর দূরদর্শী, সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপের কারণে করোনা অতিমারী মোকাবেলা করার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছে। বিগত এক দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের উন্নয়ন অভূতপূর্ব, বিস্ময়কর।

বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের রায় কার্যকরসহ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম শুরু ও রায়ের বাস্তবায়ন, সমুদ্রে বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ব্লু-ইকোনমির নবদিগন্ত উন্মোচন, ভারতের সঙ্গে ছিটমহল চুক্তি সম্পাদন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, মেট্টোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপন, কর্ণফুলী ট্যানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনসহ অসংখ্য ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ।
এছাড়াও বিগত বছরগুলাতে ধারাবাহিকভাবে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ খাতে বাজেট বরাদ্দ ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরের তুলনায় এখন প্রায় ৮ গুণ বেড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী খাতে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা বাজেটের ১৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ ও জিডিপির ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ১১ লাখ নতুন উপকারভোগী। সব মিলিয়ে নতুন বাজেটে এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৮ লাখে। গৃহহীনদের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ঘর প্রদান করা হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ২০ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের সুপারিশ লাভ করেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বে বাংলাদেশ এক অনন্য পরিচিতি লাভ করেছে। বঙ্গবন্ধুকন্যার যোগ্য নেতৃত্ব, দক্ষতা, সততায় আজকে দেশের এ অবস্থান। কিসিঞ্জারের সেই ‘বটমলেস বাস্কেট’-এর দেশ এখন বিশ্বে ‘উন্নয়নের রোলমডেল’ই শুধু নয়, মানবতার অনন্য উদাহরণ। কোন প্রধানমন্ত্রী সৎ ও আন্তরিক থাকলে যে দেশের উন্নয়ন হয়। তার প্রমাণ শেখ হাসিনা। শুধু আন্তরিকতা বা সততাই শেখ হাসিনার শক্তি নয়। তিনি বিশ্বাস করেন আমরা পারি, বাঙালীরা পারে।

শেখ হাসিনা বারবার একটি কথা বলেন- আমরা যেহেতু মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয় অর্জন করেছি, তাই কোন বিজয়ী জাতি কখনও মাথা নত করে থাকতে পারে না। দেশের কিছু কর্মকা-ে মাঝে মধ্যে হাতশাগ্রস্ত হয়ে পড়লেও এ আশা-বিশ্বাসে আমরা সবাই বুক বেঁধে আছি যে, উন্নয়নের রূপকার, সময়ের সাহসী কা-ারি, অসীম সাহস ও অদম্য মনোবলের অধিকারী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একদিন বাংলার দুঃখী মানুষের ভাগ্যের কাক্সিক্ষত পরিবর্তন হবে। তাদের মুখে হাসি ফুটবে। একটি সমতাভিত্তিক, মানবিক উন্নয়নমুখী সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাসহ উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবেই।    
বৈশি^ক নানা মহাসঙ্কটেও শেখ হাসিনা সদা হাস্যোজ্জ্বল ও মমতাময়ী মায়ের আদরে দেশের ১৭ কোটি মানুষকে আগলে রেখেছেন। বাংলার গণমানুষের আশা-ভরসা ও নির্ভরতার শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অর্থনীতিতে যে সাময়িক সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে, তাও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা অচিরেই কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হব অবশ্যই। তাই নিঃশঙ্ক চিত্তে বলতে চাই, ‘যতক্ষণ তোমার হাতে দেশ, পথ হারাবে না বাংলাদেশ।’

লেখক : অধ্যাপক, মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞ ও সদস্য, বাংলাদেশ বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন



বার্তা সূত্র