Skip to content

মেয়াদ বাড়ল ২ দফা, খরচ বেড়েছে ৭৩৯ কোটি টাকা

মেয়াদ বাড়ল ২ দফা, খরচ বেড়েছে ৭৩৯ কোটি টাকা

দুই দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর চট্টগ্রাম থেকে পাইপলাইনে জ্বালানি পরিবহন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ৭৫ ভাগ। তবে এরই মধ্যে প্রকল্পটির খরচ ছাড়িয়েছে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা। ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বলছে, এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এই পাইপলাইন দিয়ে জ্বালানি তেল ঢাকায় পাঠানো যাবে।

চট্টগ্রাম থেকে জ্বালানি পরিবহন হয় মূলত সড়ক, রেল ও নদীপথে। সবচেয়ে বেশি জ্বালানি যায় নৌপথে, প্রায় ৮০ শতাংশ। তিন প্রক্রিয়াতেই জ্বালানি পরিবহন বেশ ব্যয় সাপেক্ষ। সময়ও লাগে বেশি। তার ওপর আছে জ্বালানি চুরির অভিযোগও। এ ছাড়া আবহাওয়া বা পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘট ও কর্মবিরতির মতো পরিস্থিতিতে অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে জ্বালানি সরবরাহ।

এই সংকট নিরসনে ২০১৮ সালে প্রায় ২ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল পর্যন্ত ২৫০ কিলোমিটার পাইপলাইন বসানোর প্রকল্প নেয় সরকার। প্রকল্পটি ২০২২ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি শেষ না হওয়ায় এখন পর্যন্ত দুই দফা সময় বাড়ানো হয়েছে। নতুন সময়সীমা অনুযায়ী প্রকল্প শেষ হবে এ বছরের ডিসেম্বরে। নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় প্রকল্পটির খরচ বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ার কারণ হিসেবে বিপিসি করোনা পরিস্থিতি, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও ডলার সংকটকে সামনে এনেছে। সংস্থাটির কর্মকর্তাদের দাবি, এবার নির্ধারিত সময়েই শেষ হবে প্রকল্পের কাজ।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে জ্বালানি পরিবহনে আধুনিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হবে দেশ।

বিপিসির চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনকে বলেন, ‘আমরা পতেঙ্গা থেকে যদি পাইপলাইনে জ্বালানি নারায়ণগঞ্জে নিয়ে যেতে পারি, তাহলে খুব তাড়াতাড়ি দেশের অন্য প্রান্তেও সহজে তেল পৌঁছাতে পারব। অর্থাৎ একটা আধুনিক, সময় অল্প লাগে এবং সাশ্রয়ী প্রকল্পগুলো আমরা এখন বাস্তবায়ন করছি।’

পাইপলাইনটি চট্টগ্রামের পতেঙ্গা গুপ্তখাল থেকে ফেনী, কুমিল্লা, চাঁদপুর, মুন্সিগঞ্জ হয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গিয়ে শেষ হবে। পথে ২২টি নদীর তলদেশ ছোঁবে পাইপলাইনটি। এ ছাড়া এতে থাকছে ৯টি মিড-স্টেশন, ৪টি পাম্প হাউস ও ২১ হাজার টনের ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ডিপো।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে নতুন এই প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সামগ্রিক পরিকল্পনা জরুরি।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসলাম মিয়া বলেন, ‘পাইপ লাইনে জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে মিটার স্টেশনগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। পাইপলাইন চালু করার ব্যাপারে কারিগরি সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। পাইপলাইনে কোনো লিকেজ হচ্ছে কি না–সেটিও নিয়মিত তদারকি করতে হবে, পুরো নেটওয়ার্ক জুড়ে।’

পাইপলাইন স্থাপনের পর বছরে ২৭ থেকে ৩০ লাখ টন জ্বালানি তেল পরিবহন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে বিপিসি। এটি পর্যায়ক্রমে ৫০ লাখ টন পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।



বার্তা সূত্র