মেয়র জাহাঙ্গীরের সমর্থকের দোকানে খেয়ে ‘টাকা দিচ্ছেন না’ বিরোধীপক্ষ

মেয়র জাহাঙ্গীরের সমর্থকের দোকানে খেয়ে ‘টাকা দিচ্ছেন না’ বিরোধীপক্ষ

গাজীপুরে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের সমর্থিত নেতা কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার গাজীপুর মহানগরীর দুটি স্থানে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

মেয়র জাহাঙ্গীর গত শুক্রবার আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর তার সমর্থিত নেতা কর্মীরা হামলার শিকার হচ্ছেন। তার বহিষ্কারের পর তার সমর্থিতরা অনেকটা কোণঠাসা থাকলেও ভীত ছিলেন না। তবে বুধবার মেয়র সমর্থিত দুই নেতা হামলার শিকার হলে তার সমর্থিত অন্য নেতা কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মেয়র বিরোধীদের রোষানলে পড়ার আশঙ্কায় অনেকে বাসা থেকেও বের হচ্ছেন না। এতে দলের নেতা কর্মীদের মাঝে নগর জুড়ে একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলেন মনে করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা।

বুধবার দুপুরে নগরীর ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্যসচিব আবুল হোসেনকে মারধরের ঘটনা ঘটে। কয়েকজন যুবক ও কিশোর তাকে ঘিরে ধরে চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারেন।

এ বিষয়ে জানতে আবুল হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে প্রথমে তিনি বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করেন। পরে অবশ্য তিনি স্বীকার করে বলেন, মান-সম্মানের ভয়ে কাউকে বলিনি। এখন তো হামলাকারীরা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতা আবুল হোসেন বলেন, ‘গত সোমবার ভরান এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য মিম আমার দোকানে এসে খেয়ে বিল না দিয়ে চলে যায়। এ সময় পাশের সেলুন দোকানের এক কাস্টমারকেও চড়-থাপ্পড় দিয়ে চেয়ার থেকে উঠিয়ে দেয় মিম। বিষয়টি দেখে আমি তাকে বুঝিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দিই। কিন্তু বুধবার দুপুরে জোহরের নামাজের পর মধুমিতা মেগা সিটির সামনে ছাত্রলীগ নেতা ইমরান খান হৃদয় ও আকাশের নেতৃত্বে আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। প্রথমে মান-সম্মানের ভয়ে কাউকে কিছু জানাইনি। কিন্তু এখন জানাজানি হওয়ার পর আমি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে থানায় এসেছি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

জাহাঙ্গীর অনুসারী বলেই কি আপনার ওপর হামলা হয়েছে এমন প্রশ্নে আবুল হোসেন বলেন, আজমত উল্লাহ খানের কাছ থেকে আমার রাজনীতির হাতেখড়ি। জাহাঙ্গীর আলম দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি এখনো মেয়র। তিনি আমার ছেলেকে সিটি করপোরেশনে চাকরি দিয়েছেন। সেই সুবাদে তার কাছে যেতাম। তাকে বহিষ্কার করার পর তার সঙ্গে আমাদের দলীয় কোনো সম্পর্ক নেই।

আক্ষেপের সুরে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, একসময় ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ করেছি। এখন আওয়ামী লীগ করছি। কখনো এমন অপদস্থ হইনি। কিন্তু আজ আমার ওপর তারা কেন হামলা করল বুঝতে পারছি না।

অভিযুক্ত ইমরান খান হৃদয় গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খানের ভাতিজা।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা ইমরান খান হৃদয় বলেন, আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। ঘটনার সময় আমি বাসার সামনের ভরান মসজিদে ছিলাম। ঘটনার সময় আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না।

এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ মাসুদ বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অপর দিকে গাজীপুর মহানগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউলতিয়া সাংগঠনিক থানা যুবলীগের নেতা মতিউর রহমান মতিনের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা বাসার কম্পিউটার, ল্যাপটপ, আলমারি, শোকেসসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। তিনি মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের সমর্থক বলে জানা গেছে।

মতিউর রহমান মতিন গাজীপুর মহানগর যুবলীগের একজন যুগ্ম আহ্বায়কের সমর্থক ও কাউলতিয়া থানা যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী। তিনি অভিযোগ করেন, বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে মহানগরীর জোলারপাড় এলাকায় তার বাড়িতে একদল লোক গিয়ে তাকে খোঁজ করে না পেয়ে এ হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়। ঘটনাটি পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।



বার্তা সূত্র

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email