মেসেঞ্জারে কুরুচিপূর্ণ বার্তা, অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর আত্মহত্যা

মেসেঞ্জারে কুরুচিপূর্ণ বার্তা, অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর আত্মহত্যা
ফরিদপুরে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে কুরুচিপূর্ণ বার্তা পাঠানোর অপবাদ সইতে না পেরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

রোববার (১৬ মে) সকালে মধুখালী উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।

গৃহবধূর নাম রীমা রানী সাহা (২২)। তিনি মধুখালী উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের আড়কান্দি গ্রামের পলাশ কুমার সাহার স্ত্রী। পলাশ সাহা মধুখালী বাজারের মুদি ব্যবসায়ী। গৃহবধূ রীমা ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। শ্বশুর বাড়ি থেকেই রীমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মধুখালী উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের আড়কান্দি গ্রামের বাসিন্দা প্রভাষ কুমার সাহার ছেলে পলাশ কুমার সাহার সঙ্গে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার নানবার গ্রামের বাসিন্দা নিশ্চিন্ত কুমার সাহার মেয়ে রীমা রানী সাহার দীর্ঘ চার বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। সম্প্রতি ‘সুখতারা’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে রীমা সাহার নামে বিভিন্ন অপবাদ ছড়িয়ে দেওয়া হয়। মিথ্যা অপবাদ সইতে না পেরে শ্বশুর বাড়িতে ঘরের আড়ার সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন রীমা।

রীমার শ্বশুর প্রভাষ সাহা বলেন, কয়েকদিন আগে একটি অচেনা মোবাইল নম্বর থেকে আমার মোবাইলে কল আসে। অপর পাশ থেকে বলা হয়, আমার পুত্রবধূর চরিত্র খারাপ, তার এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন খারাপ কথাবার্তা বলে। আমি তার পরিচয় জানতে চাইলে সে পরিচয় দিতে রাজি হয়নি। তাকে প্রমাণ দিতে বললে, সে বলে প্রমাণ যেদিন দিতে পারবো সেদিনই আমার পরিচয় জানতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, এর কয়েকদিন পর আবার ফোন আসে আরেকটি অচেনা নম্বর থেকে, একই কথা বলা হয় আমাকে। বিষয়টি আমি পরিবারের কাউকে জানাইনি। পুত্রবধূ অন্তঃসত্ত্বা থাকায় তাকেও জানাইনি। এরপর ‘সুখতারা’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে আমার মেয়ের ছেলে উৎস’র মেসেঞ্জারে পুত্রবধূ রীমাকে নিয়ে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়।

প্রভাষ সাহা বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা পারিবারিকভাবে রীমাকে কিছুই বলিনি। কারণ কোনো প্রমাণ পাইনি, তাই রীমাকে কিছুই বলা হয়নি। হয়তো অন্য কারও কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পারে রীমা। মিথ্যা অপবাদ সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে রীমা। রীমার আত্মহত্যার জন্য যারা দায়ী তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, রীমার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিন আত্মহত্যা করেছে, নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে বিষয়টি তদন্তে কাজ করছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই বিষয়টি জানা যাবে।

তিনি আরও বলেন, এছাড়া রীমাকে নিয়ে যারা মোবাইলে ও ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে বিভিন্ন মন্তব্য করেছে সেই বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তাদের খুঁজে বের করতে ইতোমধ্যেই অভিযান পরিচালনা শুরু হয়েছে।

DMCA.com Protection Status

সূত্র: সময় টিভি

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email