মৃতদেহের মর্যাদাপূর্ণ ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিতদের সহায়তা দিবে রেড ক্রস

মৃতদেহের মর্যাদাপূর্ণ ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিতদের সহায়তা দিবে রেড ক্রস
যে কোন জরুরি পরিস্থিতির উদ্ভব হওয়ার আগেই পূর্বপ্রস্তুতি নেয়া সব প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) মৃতদেহের ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত সম্মুখসারির সাড়া প্রদানকারী (ফার্স্ট রেসপন্ডার) বিভিন্ন  প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করছে। এরই অংশ হিসেবে তাদের মৃতদেহ বহনের ব্যাগ ও ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম (পিপিই) বিতরণের আওতায় এনেছে রেড ক্রস। যাতে করে এসব কাজে নিয়োজিতরা বর্তমানের কোভিড-১৯ এর সংকটকালীন পরিস্থিতিতে এবং ভবিষ্যতের যে কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে সহজেই সাড়া দিতে সক্ষম হয়।

জরুরি পরিস্থিতি ও সংকট মোকাবেলায় মৃতদের যথাযথ ও মর্যাদাপূর্ণ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  এটি কেবল মৃত ব্যক্তির মর্যাদাই রক্ষা করে বা পরিবারের বেদনা লাঘব করেই না; ব্যবস্থাপনাজনিত কোন ভুলের কারণে মানুষ যেন নিখোঁজ না হয়ে যায় সে বিষয়টিও নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। তাই, মৃতদেহ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন অনুষঙ্গ বিতরণের উদ্দেশ্যই হল করোনাকালীন সময়ে মৃতদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং এ ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়তা করা।

বাংলাদেশ জুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে আইসিআরসি ৫,০০০ মৃতদেহ বহনের জন্য ব্যাগ এবং প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) অনুদান হিসেবে দেয়ার পরিকল্পনা করেছে। অনুদানের প্রথম দফায় এ সপ্তাহে দুই হাজার ৬০০ এরও বেশি মৃতদেহ বহনকারী ব্যাগ এবং প্রায় ৬০ হাজার পিপিই ১৬টি সংস্থা ও এজেন্সি যেমন বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং কোস্টগার্ড, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুয়েত বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল, কক্সবাজার সদর হাসপাতাল, আল-মারকাজুল ইসলামী, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন, রহমত আলম ফাউন্ডেশন, আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম এবং বৌদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্টকে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

আইসিআরসি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ জেনি হিউজ বলেছেন, ‘জরুরি অবস্থার পরিকল্পনা এবং সম্মুখসারির সাড়াপ্রদানকারীর সক্ষমতা বাড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশই হচ্ছে এই অনুদান দেয়া হচ্ছে। কারণ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ সব সময়ই ভাল। আগামীতে আইসিআরসি এ ধরণের উপকরণ আরো বিতরণ করবে এবং মৃতদেহ ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিবে।’ 

২০২০ সালে বাংলাদেশে কোভিড -১৯ মহামারীর শুরু থেকেই আইসিআরসি বিভিন্ন সংস্থা ও কর্তৃপক্ষকে নিহতদের মর্যাদাপূর্ণ ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহের পাশাপাশি এ সংস্থাগুলির সুরক্ষার জন্য কাজ করছে।

DMCA.com Protection Status

সূত্র: সময় টিভি

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email