Skip to content

মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগে বেনজির আহমেদের উপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি

মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগে বেনজির আহমেদের উপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি

বাংলাদেশের বর্তমান পুলিশ প্রধান এবং র‍্যাপিড অ্যাকশান ব্যাটেলিয়ান র‍্যাব ‘এর সাবেক মহাপরিচালক বেনজির আহমেদকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ভিসা প্রদান নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

র‍্যাবের প্রধান হিসেবে বেনজির আহমেদের দায়িত্ব পালনের সময়ে মানবাধিকারের ব্যাপক লংঘনের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগের ফরেন অপারেশানস এবং রিলেটেড প্রোগ্রামস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশানস অ্যাক্টে, ২০২১ সালের ৭০৩১ (সি) ধারা বলে বেনজির আহমেদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের জন্য ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারির কথা ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান এই পুলিশ প্রধান ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ১৪ই এপ্রিল পর্যন্ত র‍্যাবের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

র‍্যাবকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ মানবাধিকার লংঘন ও নিপীড়ন চালানোর জন্য দায়ী করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ এই সব অপরাধের অভিযোগে র‍্যাবের আরও যে সব কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করেছে তাঁরা হচ্ছেন র‍্যাবের বর্তমান মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত মহাপরিচালক খান মোহাম্মদ আজাদ ও তিনজন প্রাক্তন অতিরিক্ত মহাপরিচালক তোফায়েল মুস্তফা সারওয়ার, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং মোহাম্মদ আনোয়ার লতিফ খান।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের সদ্য প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে বাংলাদেশে র‍্যাপিড অ্যাকশান ব্যাটেলিয়ান (র‍্যাব), মাদক দ্রব্যের বিরুদ্ধে সরকারের লড়াইয়ে গুরুতর মানবাধিকার লংঘনের জন্য অভিযুক্ত। এতে বলা হয়েছে যে তারা আইনের শাসন, মানবাধিকারের মর্যাদা ও মৌলিক স্বাধীনতা এবং বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে ক্ষুন্ন করে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থের বিরুদ্ধে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। র‍্যাব হচ্ছে ২০০৪ সালে গঠিত একটি সম্মিলিত টাস্ক ফোর্স। তাদের কাজের মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধীদের কর্মকান্ড সম্পর্কে গোপন তথ্য সংগ্রহ এবং সরকারের নির্দেশে তদন্ত পরিচালনা করা।

বাংলাদেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বা এনজিওদের অভিযোগ হচ্ছে যে র‍্যাব ও বাংলাদেশের অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, ২০০৯ সাল থেকে ৬০০ ব্যক্তির গুম হয়ে যাওয়া এবং ২০১৮ সাল থেকে বিচার বহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের জন্য দায়ী। কোন কোন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে এই সব ঘটনার শিকার হচ্ছে বিরোধী দলের সদস্য, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা।

১০ই ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের অফিস অফ ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবাধিকার লংঘন এবং দমন নিপীড়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত ১৫ জন ব্যক্তি এবং ১০ টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। চীন , উত্তর কোরিয়া এবং বর্মার কিছু ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের উপরও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

সূত্র: ভয়েজ অব আমেরিকা