Skip to content

মন্দিরে হামলা-অগ্নিসংযোগ

মন্দিরে হামলা-অগ্নিসংযোগ

বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ দেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে। দিন যত এগিয়েছে, তত বেশি করে তাদের সহায়-সম্পদ, মন্দির ও বাড়ি-ঘর দখল, আগুন দেওয়াসহ নানা ধরনের অত্যাচার করা হয়েছে এবং এখনো তা চলমান রয়েছে।

বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে, বিস্ময়করভাবে বড় বড় সাম্প্রদায়িক তাণ্ডবের সঙ্গে এক সর্বদলীয় যোগসাজশ রয়েছে। এসব ঘটনায় সব সময় প্রশাসনের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। গত রোববার আজকের পত্রিকায় ‘ছয় মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।ৎ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের অগ্নিকুণ্ড মন্দির চত্বরে থাকা পাঁচটি মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুর এবং মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শমশেরনগর দেওছড়ার চা-বাগানের কালীমন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর ও অলংকার চুরির অভিযোগ উঠেছে। দুটি স্থানেই রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেছে। কয়েকজন লোক গোপনে চোরের মতো এসে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় উপাসনালয়ে আক্রমণ করেছে। এগুলো কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়।

সারা দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দিরের জমি দখল, রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখানো, ভোটের হিসাব-নিকাশসহ নানা স্বার্থগত কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটে আসছে। অতীতের অনেক ঘটনায় দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরকারি কিংবা প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় ঘটনাগুলো ঘটেছে। আবার ঘটনার মূল কারণগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি ধর্মবিদ্বেষ ছিল না; বরং মন্দিরের জমি দখল এবং ঘরবাড়ি দখলই মূল উদ্দেশ্য ছিল। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিদ্বেষেরও ব্যাপার ছিল।

অতীতের বিভিন্ন ঘটনায় হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করা কঠিন কোনো ব্যাপার ছিল না। কিন্তু অদৃশ্য কারণে অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে। আবার অপরাধী সরকারি দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেও প্রশাসন নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। এ কারণে সাম্প্রদায়িক দুর্বৃত্তরা বারবারই ছাড়া পেয়ে গেছে। আর তাদের অপকর্মের শাস্তি না হওয়ার কারণে অন্য এলাকায় একই চিন্তার মানুষেরা উৎসাহিত হয়েছে এ ধরনের অপকর্ম করতে।

সভ্যতার ক্ষত হিসেবে কি হাজির হয়েছে সাম্প্রদায়িকতা? এই আধুনিক যুগে ইউরোপ যেমন বর্ণবৈষম্যের মতো জঘন্য অপরাধ নির্মূল করতে পারছে না, তেমনি ভারতীয় উপমহাদেশও সাম্প্রদায়িকতা থেকে মুক্ত হচ্ছে—এমন কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

আমরা যেন ক্রমেই বিচারহীনতার অপসংস্কৃতির অতল গহ্বরে ঢুকে যাচ্ছি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের বাড়িঘর ও উপাসনালয়ে হামলার বিচার ঝুলে থাকে বছরের পর বছর। দুর্বৃত্তায়নের গোলকধাঁধায় যেন আমরা আটকা পড়ছি, এতে করে ধর্মান্ধ ও সাম্প্রদায়িক মনোভাবসম্পন্ন ব্যক্তিরা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করতে পারছে।

সরকার যদি এ ধরনের হামলা প্রতিহত এবং অপরাধীদের বিচার করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে অসাম্প্রদায়িক পথে হাঁটা কি সহজ হবে? তাই এ ধরনের ঘটনা নির্মূল করতে সরকারকেই যথাযথ উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশে সংখ্যাগুরু এবং সংখ্যালঘু হিসেবে কারও পরিচয় থাকতে পারে না। প্রত্যেকেই রাষ্ট্রের সম্মানিত নাগরিক, এ কথাটাকে গুরুত্ব দিতে হবে। নইলে অরাজকতা বাড়তেই থাকবে।



বার্তা সূত্র