Skip to content

মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে আইএসের নতুন উত্থান | কালবেলা

মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে আইএসের নতুন উত্থান | কালবেলা

জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার পাশাপাশি ইসলামিক স্টেট (আইএস) বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ জঙ্গি সংগঠন। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শান্তিকামী মানুষের ঘুম হারাম করে দিয়েছে এ জঙ্গি সংগঠনটি। তবে গত তিন-চার বছরে এর কার্যক্রম অনেকটা স্তিমিত হয়ে পড়লেও সম্প্রতি রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় কনসার্ট হলে স্মরণকালের ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটায় আইএস, যাতে ১৩৭ জন মানুষ নিহত হয়। আহত হয় আরও অনেক মানুষ। আইএসের শাখা সংগঠন আইএস-কে বা ইসলামিক স্টেট খোরাসান এ হামলা চালায়। আইএস এ হামলা করেছে রাশিয়া প্রথমে তা স্বীকার না করলেও এখন পুতিন বলছেন যে, ইসলামপন্থিরাই এ হামলা করেছে। তাই ভয়ংকর এ হামলার পর ফের নড়েচড়ে বসেছে গোটা বিশ্ব, বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলো। এ হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংগঠনটি এ অঞ্চলের বাইরেও নতুন করে তার উত্থানের বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গ্রন্থনা : ওয়াহেদুজ্জামান সরকার

রাশিয়ার মস্কোয় কনসার্ট হলে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস)। তবে আইএসের যে অংশ এ হামলার সঙ্গে জড়িত তাদের নাম আইএস-কে বা ইসলামিক স্টেট খোরাসান। বর্তমান ইরানের উত্তরপূর্ব অঞ্চল, প্রায় সমগ্র আফগানিস্তান, দক্ষিণ তুর্কমেনিস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানের এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল একসময় খোরাসান নামে পরিচিত ছিল। খোরাসান অঞ্চলে সক্রিয় থাকা একটি গোষ্ঠী ‘ইসলামিক স্টেট খোরাসান’ বা আইএস-কে। ২০১৪ সালের শেষের দিকে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে সংগঠনটি তাদের কাজ শুরু করে। আন্তর্জাতিক ইসলামিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসের সবচেয়ে সক্রিয় আঞ্চলিক সহযোগীর একটি এই আইএস-কে। ২০১৮ সালে এদের সদস্য সংখ্যা সর্বোচ্চ হয়। পরে আবার তা কমতে শুরু করে। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর কাউন্টার টেররিজমের মতে, মূল সংস্থা থেকে তহবিল সরবরাহ কমে আসার ফলে আইএস-কের সদস্য সংখ্যা কমতে থাকে। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে আশরাফ গনি সরকার হটিয়ে ক্ষমতায় আসে উগ্র ধর্মবাদী গোষ্ঠী তালেবান। সেই সময় দেশটিতে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটানোর পেছনে এই আইএস-কের হাত রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ২০২১ সালে মার্কিন সেনারা আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যাওয়ার পর দেশটিতে আইএস-কের মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের গোয়েন্দা তথ্য জোগাড় করার সক্ষমতায় ঘাটতি দেখা দেয়। আর এরই মধ্যে নিজেদের অনেকটা গুছিয়ে নেয় এ সন্ত্রাসী সংগঠনটি। মস্কোর কনসার্ট হলে হামলার মধ্য দিয়ে আইএস তার সক্ষমতা বৃদ্ধির নতুন বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যে হামলার পর যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তাদের মতে, সামনে ইউরোপের আরও অনেক দেশে এরকম হামলা হতে পারে।



বার্তা সূত্র