Skip to content

‘ভোট দিতে গেলে আমাদের ওপর হামলা করে’

‘ভোট দিতে গেলে আমাদের ওপর হামলা করে’

‘ভোট দিতে গেলে আমাদের ওপর হামলা করে। হুমকি ধামকি দিয়া জোড় কইরা ভোট নেয়। আমরা আমাদের ভোট  দিতে পারি না।’

কথাগুলো বলছিলেন শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়া ইউনিয়নের ডাকড়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত মইতুল্লে শেখের ছেলে ফজল মিয়া (৭৭)।

তার মতো একই গ্রামের নুর ইসলামের স্ত্রী তাসলিমা বেগম (৪৫) বলেন, ‘গত নির্বাচনে আমার ভাই দোলোয়ারকে মাইরা হাসপাতালে পাঠাইছে। অনেক মানুষ মাইর খাইছে। ওদের ভয়ে কেউ ভোট দিতে যায় না’।

ভোট দিতে না পারার অভিযোগ ওই গ্রামের মৃত সুরুজ মন্ডলের মেয়ে কুলসুম বেগম (৪৮), মৃত দুদু মিয়ার ছেলে লাভলু মিয়া (৬০), হযরত আলীর ছেলে দোলোয়ার হোসেন (৩৫), মৃত ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে দুলাল মিয়াসহ (৬৭) শত শত মানুষের। 

তারা আক্ষেপ করে বলেন, ‘বয়স হইছে ভোট দিতে পারলাম না। সরকার যেন আমাদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা কইরা দেয়’।

জানা গেছে, তারা ভোটার হলেও ভোট দিতে পারেন না। এবার গ্রামবাসীরা নিজেদের গ্রামে ভোটকেন্দ্রের দাবি তুলে উপজেলা ও জেলা নির্বাচন অফিসে আবেদন করেছেন।  সরেজমিনে গেলে ডাকড়াপাড়া গ্রামবাসী, জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা নির্বাচন অফিসারের সঙ্গে কথা বলে উঠে আসে এমন তথ্য।

জানা যায়, ভেলুয়া ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা প্রায় ২৬ হাজার। এর মধ্যে ডাকড়াপাড়া ও চরহাবর গ্রাম নিয়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ড। ওই ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। ডাকড়া পাড়া গ্রামে ভোটার সংখ্যা অন্তত ১৮ শ। পার্শ্ববর্তী চরহাবার গ্রামে ভোটার সংখ্যা মাত্র সাত হতে সাড়ে ৭০০। এ গ্রামটিও ওয়ার্ড,  ইউনিয়ন ও উপজেলার একেবারেই সীমানা এলাকা। ফলে ওই গ্রামের ভোটারসহ বহিরাগতরা এসে প্রক্সি ও জোরপূর্বক ডাকড়াপাড়া গ্রামবাসীর ভোট নিয়ে নেয়। ফলে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ডাকড়াপাড়া গ্রামবাসী।

ডাকড়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা যে ভোটার মনে হয় না। ভোট দিতে গেলেই গণ্ডগোল হয়। নিরাপদে ভোট দিতে চাই।

এ ব্যাপারে শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাচন অফিসার সাজ্জিল সাদিক  বলেন, আমরা ডাকড়াপাড়া গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে একটি আবেদন পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যে জেলা নির্বাচন অফিসারকে জানানো হয়েছে। নির্দেশ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।



বার্তা সূত্র

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ সংবাদ