ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভারতে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন নরেন্দ্র মোদী

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ সকাল সাড়ে দশটায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভারতে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম টিকাদান কর্মসূচিতে প্রথম পর্যায়ে তিন কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। এঁরা প্রত্যেকেই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বিশাল সংখ্যক মানুষকে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা সহজ কাজ নয়। ভারতের বিজ্ঞানীরা এবং প্রতিষেধক তৈরি কোম্পানিগুলো সে দিক থেকে অসাধ্য সাধন করেছেন বলা যেতে পারে। তিনি বলেন, টিকা সংক্রান্ত কোনও রকম গুজবে কান দেবেন না। এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ প্রতিষেধক। অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এটি তৈরি করা হয়েছে এবং তার পরে সব দিক যাচাই করে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। মোদী বলেন, সারাবিশ্বে যত শিশুকে রোগ প্রতিরোধকারী টিকা দেওয়া হয় তার ৬০ শতাংশই তৈরি হয় ভারতে। সুতরাং ভারত এই ক্ষেত্রে অন্যান্য সব দেশের থেকে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন বলেছেন, এই টিকা সঞ্জীবনী অর্থাৎ জীবনদানকারী ঔষধ। এর মাধ্যমে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হলো, যাকে আমরা শেষের শুরু বলতে পারি। এ ব্যাপারে কোনও গুজব ছড়াবেন না। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, কেউ গুজব ছড়ালে তাকে শাস্তি পেতে হবে।

উল্লেখ্য, ১৮ বছরের নীচে কাউকে এই টিকা দেওয়া হবে না। এ ছাড়া সন্তানসম্ভবা নারী, অসুস্থ ও অতি বৃদ্ধদের আপাতত এই টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ রাখা হয়েছে। আজ প্রথম দিন সকাল ন’টা থেকে কোথাও কোথাও টিকাকরণ শুরু হয়েছে, চলেছে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। কলকাতায় নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুরো টিকাদান প্রক্রিয়ার ওপর নজর রেখেছেন। পশ্চিমবঙ্গের ২৮টি জেলায় প্রতিষেধক দেওয়া হচ্ছে। আপাতত ২০৮ কেন্দ্রে, পরে এর সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। রাজ্যে মোট প্রতিষেধক প্রদানকারীও ২০৮ জন। এই প্রতিষেধকের দুটি ডোজ দেওয়া হবে। দুই ডোজের মধ্যে সময়ের ব্যবধান থাকবে চার সপ্তাহ। আজ প্রথম দিনে তিন লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রতিষেধক দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্দিষ্ট হয়েছিল, মোটামুটি ভাবে তা পূরণ করা গিয়েছে। বলা হয়েছে, এই টিকা নেওয়া না নেওয়া সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। কেউ যদি টিকা নিতে না চান, নাও নিতে পারেন। এমনকি টিকাকেন্দ্রে পৌঁছনোর পরেও তিনি ফিরে যেতে পারেন। কাউকে কোনও রকম জোর করা হবে না।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, এই টিকা নেওয়ার পাশাপাশি আমাদের সতর্কতায় বিন্দুমাত্র ঘাটতি থাকলে চলবে না। প্রত্যেককে মাস্ক পরতে হবে এবং শারীরিক দূরত্ব, যাকে সামাজিক দূরত্ব বলা হয়, তাও বজায় রাখতে হবে। ভারতের জনগণ আপাতত আশায় বুক বেঁধে রয়েছে, করোনা ভাইরাসের বিষাক্ত ছোবল থেকে অবশেষে মুক্তি পাওয়া যাবে।

সূত্র: ভয়েজ অব আমেরিকা

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email