ভাসানচরে দালাল সন্দেহে ৬ রোহিঙ্গা আটক | বাংলাদেশ

ভাসানচরে দালাল সন্দেহে ৬ রোহিঙ্গা আটক | বাংলাদেশ

ভাসানচরে রোহিঙ্গাদেরকে দেশে এবং দেশের বাহিরে বিভিন্ন স্থানে পালাতে সহায়তাকারী দালাল সন্দেহে ৬ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। আটককৃতদের ভাসানচর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে এপিবিএনের সিভিল টিম। আটককৃতরা হলেন- আবু সাইদের ছেলে মো. সাবের (২১), হাবিবুল্লাহর ছেলে আবদুল গফফার (৩২), ইয়াসিনের ছেলে জুবায়ের (২০), মোহাম্মদ সিদ্দিকের ছেলে রফিক (১৮), জাকারিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (১৯) ও মোহাম্মদের ছেলে আবুল হোসেন (২৬)। ভাসানচর থানা সূত্র জানায়, আটককৃত ৬ জনসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে এপিবিএনের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবুল কালাম বাদী হয়ে বিদেশি নাগরিক সম্পর্কিত আইন ১৯৪৬ এর ১৪ ধারায় মামলা (নম্বর-৪) দায়ের করেছেন। মামলায় আরও ২২-২৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। ভাসানচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, আটককৃতরা টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদেরকে পলাতে সহায়তা করতো বলে অভিযোগ রয়েছে। বৈরি আবহাওয়ার কারনে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় তাদেরকে মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আদালতে পাঠানো সম্ভব হয়নি। এর আগে চলতি মাসের ৮ সেপ্টেম্বর ভাসানচর থেকে পালিয়ে আসা ১৯ রোহিঙ্গাকে আটক কর পুলিশ। উপকূলীয় উপজেলা সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারি ইউনিয়নের উত্তর ছলিমপুর এলাকার সাগর পাড় থেকে স্থানীয়রা তাদের ধরে পুলিশে দেয়। এদের মধ্যে আটজন পুরুষ, চারজন নারী ও সাতজন শিশু ছিল। সীতাকুণ্ড থানার ভাটিয়ারি পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই জহিরুল ইসলাম জানান, ওই রোহিঙ্গারা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে সাগর পথে ভাসানচর থেকে সীতাকুণ্ডে আসে। স্থানীয়রা তাদের দেখে একজন জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে পুলিশে খবর দেয়। তখন পুলিশ গিয়ে তাদের আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আরও পড়ুন: ডাকাতি শেষে পালানোর সময় গণপিটুনি, এক ডাকাত নিহত চলতি বছরের গত আগস্ট মাসে ৪১ জন রোহিঙ্গা বহনকারী একটি ট্রলার সীতাকুণ্ড উপকূল ডুবে যায়। এ সময় ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করলেও বিভিন্ন সময় ১৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় ও পুলিশ। বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে থাকা মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের একটি অংশকে ভাসানচরে রাখার জন্য সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে দুই হাজার ৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে কয়েক দফায় কয়েক হাজার রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে এক লাখ রোহিঙ্গাকে সেখানে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এদিকে উন্নত বাসস্থান আর সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সত্ত্বেও ভাসানচরের আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন সময়ে রোহিঙ্গারা পালিয়ে টেকনাফে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের অনেকে বিভিন্ন সময়ে পুলিশের হাতে আটকও হয়েছে। এছাড়া নোয়াখালীর ভাসানচর থেকে পালিয়ে কক্সাবাজার ক্যাম্পেও চলে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা। বিভিন্ন অজুহাতে এরই মধ্যে প্রায় ১০০ রোহিঙ্গা সেখান থেকে পালিয়ে গেছে। মূলত স্থানীয় মাঝ ধরা ট্রলার বা নৌযানে করেই পালানোর ঘটনা ঘটছে। এরই মধ্যে পুলিশের হাতে বেশ কয়েকজন ধরা পড়েছে। সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের মে মাসের শেষ সপ্তাহে ১৩ সদস্যের একটি দল ভাসানচর থেকে পালিয়ে কক্সবাজারে পৌঁছায়। পালিয়ে আসার রোহিঙ্গা নারীদের একজন জানান, তারা একসঙ্গে ১৩ জন মাছ ধরা নৌকায় করে পালিয়ে নোয়াখালী আসেন। সেখান থেকে বাসে করে চট্টগ্রাম হয়ে তারা কক্সবাজার আসেন। এতে তাদের ৯০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।

]]>
সূত্র: সময় টিভি

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

সর্বাধিক পঠিত

সর্বশেষ সংবাদ