ভারতের আত্মনির্ভরতার নীতিকে সফল করে তুলতে হলে বেসরকারি উদ্যোগকে পথ করে দিতে হবে-মোদী

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ বলেছেন, ভারতের আত্মনির্ভরতার নীতিকে সফল করে তুলতে হলে বেসরকারি উদ্যোগকে পথ করে দিতে হবে। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে তোলার জন্য কেন্দ্রের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি রাজ্য ও জেলা যেন বেসরকারি সংস্থাগুলোকে মদত দেয়। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সরকারি পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান নীতি আয়োগ-এর ষষ্ঠ বার্ষিক বৈঠকে আজ শনিবার মোদী এ কথা বলেন।

মোদী সরকার কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অভিযোগ উঠছে যে, তিনি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে দেশের অর্থনীতিকে তুলে দিচ্ছেন। ফরাসি যুদ্ধবিমান রাফাল ভারতে তৈরি করার ভার নরেন্দ্র মোদী দিয়েছেন অনিল আম্বানিকে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, মুকেশ আম্বানির ছোট ভাই অনিল এখন পর্যন্ত কোনও ব্যবসাতেই সাফল্য লাভ করেননি। বিমান তৈরি দূরে থাক, তৈরির পরিকাঠামোও তাঁর নেই। অথচ তাঁর হাতেই দেওয়া হল বিশ্বের আধুনিকতম যুদ্ধবিমান ভারতে তৈরির দায়িত্ব। বিরোধীদলগুলোর আরও অভিযোগ, কেন্দ্রীয় নীতির জন্যই গুজরাতি শিল্পপতি আম্বানি, আদানি প্রমুখের হাতে আসছে প্রভূত অর্থকরী শিল্প-বাণিজ্যগুলি। এর সাম্প্রতিকতম উদাহরণ, নতুন কৃষি আইন। যে আইনে কৃষিক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণের এবং ফসল উৎপাদন ও ফসল কেনাবেচার দায়িত্ব পাবে কর্পোরেট সংস্থাগুলি। এরই প্রতিবাদে ভারতের কৃষকদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে নানা রাজ্যে। আজ প্রধানমন্ত্রীর কথায় সেই কর্পোরেট সংস্থাগুলোকে আরও বেশি সুযোগ দেওয়ার ডাক শোনা গেল। আজকের এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা ছাড়াও ছিলেন রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীরা এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর প্রশাসকেরা। তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং উপস্থিত ছিলেন না। মমতা ব্যানার্জি গত বছরের বৈঠকেও থাকেননি। তিনি বলেছিলেন, নীতি আয়োগের কোনও ক্ষমতাই নেই। ওই বৈঠকে গিয়ে সময় নষ্ট করার মানে হয় না। অমরিন্দর সিং জানিয়েছেন তিনি অসুস্থ। তবে সরকার যে ভাবে কৃষক আন্দোলনের মোকাবিলা করছে, তাতে তাঁর ক্ষোভ তিনি গোপন রাখেননি। সুতরাং কৃষকদের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের দমন-পীড়নের প্রতিবাদে তিনি অনুপস্থিত থাকতে পারেন বলেও অনুমান করা হচ্ছে।

সূত্র: ভয়েজ অব আমেরিকা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।